ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্র এবং কাতারের রাস লাফান কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি স্থাপনার দৃশ্যছবি: এএফপি

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধকে আরও এক ধাপ উসকে দিয়েছে ইসরায়েল। বুধবার তারা ইরানের অতি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালিয়েছে।

এর পরপরই বৃহস্পতিবার ভোরে কাতারসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় ইরান। এর মধ্যে কাতারের রাস লাফান গ্যাস প্ল্যান্টও রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলায় তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে যে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল, বর্তমান ঘটনাটি সেই যুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এর জবাবে ইরান শুধু ইসরায়েলকেই লক্ষ্যবস্তু করেনি, পাশাপাশি তাদের অনেক উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশেও হামলা চালিয়েছে।

আরও পড়ুন
ইসরায়েলের হামলায় জ্বলছে ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্র। বুধবার বুশেহর প্রদেশে
ছবি: রয়টার্স

দক্ষিণ পার্স ও রাস লাফানে কী ঘটেছিল

বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে।

এরপরই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেয়। ২০ দিনে গড়ানো এই যুদ্ধের কারণে ওই অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো আগে থেকেই বিপর্যস্ত। ইরানের এই নতুন পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলবে।

কয়েক ঘণ্টা পরই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উত্তর কাতারের রাস লাফান শিল্প নগরীর একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থাপনায় আঘাত হানে।

কাতার জানিয়েছে, এই হামলার ফলে সেখানে তিনটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই স্থাপনার আগুন প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন
কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে কাতারএনার্জির তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন কেন্দ্রের দৃশ্য। ২ মার্চ ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

জ্বালানি স্থাপনায় ইরানি হামলার পর কাতার কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে

বুধবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘রাস লাফান শিল্প নগরীকে লক্ষ্য করে ইরানের এই নগ্ন হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে কাতার রাষ্ট্র। এই হামলায় সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’

বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি জানিয়েছে, ‘সব কর্মীর খোঁজ পাওয়া গেছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর নেই।’

বৃহস্পতিবার ভোরে অপর এক বিবৃতিতে কাতারএনার্জি জানায়, আরও কয়েকটি এলএনজি স্থাপনায় হামলা হয়েছে। এতে ‘বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে’।

এর প্রতিক্রিয়ায় কাতার বেশ কয়েকজন ইরানি সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকর্তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে। তাঁদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাতার ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

এসব হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কী বলেছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলের প্রাথমিক হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা কাতার কারও কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। এমনকি তাদের আগে থেকে কিছু জানাও ছিল না।

ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরান এ বিষয়টি জানত না, দক্ষিণ পার্স হামলার প্রাসঙ্গিক কোনো তথ্যও তাদের কাছে ছিল না। তারা সম্পূর্ণ অন্যায় ও অযৌক্তিকভাবে কাতারের এলএনজি গ্যাস স্থাপনার একাংশে হামলা চালিয়েছে।’

ট্রাম্প এ নিশ্চয়তাও দিয়েছেন যে ইসরায়েল দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে পুনরায় আক্রমণ করবে না, যদি না ‘ইরান অবিবেচকের মতো অত্যন্ত নিরীহ একটি দেশ, এ ক্ষেত্রে কাতারের ওপর আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেয়’।

ট্রাম্প আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এমন শক্তি ও ক্ষমতা দিয়ে পুরো সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্র ধ্বংস করে দেবে, যা ইরান আগে কখনো দেখেনি বা প্রত্যক্ষ করেনি। এতে ইসরায়েলের সহায়তা বা সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, সেটা বিষয় নয়।

আরও পড়ুন
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি: রয়টার্স

ক্ষতিগ্রস্ত অন্য দেশগুলো কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে

বুধবার রিয়াদে বেশ কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশের শীর্ষ কূটনীতিকদের বৈঠকের পর সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর ভূখণ্ডে ইরানের হামলার বিষয়ে তাঁরা সহনশীলতা দেখাবেন না।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, সৌদি আরব এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোরও ‘অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সক্ষমতা ও ক্ষমতা রয়েছে’।

প্রিন্স ফয়সাল আরও বলেন, ‘আমরা যে ধৈর্য দেখাচ্ছি, তা অসীম নয়। তাদের (ইরানিদের) হাতে কি এক দিন, দুই দিন, নাকি এক সপ্তাহ সময় আছে? আমি আগে থেকে সে আভাস দিতে যাচ্ছি না।’

আরও পড়ুন

দক্ষিণ পার্স প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ

দক্ষিণ পার্স বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রের একটি অংশ। এটি ৯ হাজার ৭০০ বর্গকিলোমিটার (৩,৭৪৫ বর্গমাইল) এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এবং এর মালিকানা ইরান ও কাতারের মধ্যে ভাগ করা। গ্যাসক্ষেত্রটি ইরানের উপকূলীয় শহর আসালুয়েহর কাছে অবস্থিত।

এই গ্যাসক্ষেত্রের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইরানের অংশে পড়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ পার্স। অন্যদিকে এর কাতারের অংশের নাম নর্থ ফিল্ড।

দক্ষিণ পার্সে হামলার ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে খুব বড় কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই। কারণ, এই ক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত গ্যাসের বেশির ভাগই ইরান অভ্যন্তরীণ কাজে ব্যবহার করে।

কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের পর ইরান বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম এলএনজি ব্যবহারকারী দেশ। ঘরবাড়ি গরম রাখতে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তারা প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল-সৌদ
ছবি: রয়টার্স

দক্ষিণ পার্স হলো ইরানের অভ্যন্তরীণ গ্যাস সরবরাহের বৃহত্তম উৎস। এটি দেশটির প্রাকৃতিক গ্যাসের মোট চাহিদার ৮০ শতাংশ পূরণ করে থাকে।

দক্ষিণ পার্স থেকে কিছু গ্যাস ইরাকেও রপ্তানি করা হয়। ইরাকের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের মতে, সব মিলিয়ে ইরাকের গ্যাস ও বিদ্যুতের চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করে ইরান।

বুধবার ইরাকি নিউজ এজেন্সি (আইএনএ) দেশটির বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আহমেদ মৌসার একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করেছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে ইরাকে ইরানের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

কাতারের রাস লাফান এলএনজি স্থাপনাটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ

কাতারের রাজধানী দোহা থেকে ৮০ কিলোমিটার (৫০ মাইল) উত্তর-পূর্বে অবস্থিত রাস লাফান কমপ্লেক্সটি বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র। এটি বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ উৎপাদন করে। এশীয় ও ইউরোপীয় বাজারে জ্বালানির চাহিদা সামাল দিতে এটি বড় ভূমিকা পালন করে।

মার্চের শুরুতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক দিনের মাথায় রাস লাফান স্থাপনার কাছাকাছি একটি জায়গায় হামলা হয়। একই সঙ্গে মেসাইদ শিল্প নগরীর একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানির ট্যাংকেও হামলা হয়। এরপর কাতার এলএনজি উৎপাদন স্থগিত করে।

থিঙ্কট্যাংক ‘সেন্টার ফর আ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি’-এর সিনিয়র ফেলো রিচেল জিয়েমবা বলেন, রাস লাফানে আগে থেকেই উৎপাদন বন্ধ ছিল। এর মানে হলো, সাম্প্রতিক এই হামলার কারণে খুব শিগগির বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে বড় কোনো ধাক্কা লাগবে না।

জিয়েমবা আল-জাজিরাকে বলেন, ‘তবে এটি আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এর কারণে দীর্ঘ সময়ের জন্য জ্বালানির দাম চড়া থাকার ঝুঁকি রয়েছে।’

সৌদি আরামকো বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল কোম্পানি
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জির গ্যাস ও এলএনজি বিষয়ক পরিচালক টম মারজেক-মানসের আল-জাজিরাকে বলেছেন, বুধবার রাস লাফানে যে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, তার ফলে ইরানের সংঘাত শেষ হলেও এবং হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হলেও, কাতারের এলএনজি উৎপাদন আগের ধারণামতো কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পুরোপুরি শুরু করা সম্ভব হবে না।

‘স্বাভাবিক উৎপাদন ক্ষমতায় ফিরে আসতে সহজেই কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। এ ছাড়া নর্থ ফিল্ড ইস্ট ও সাউথের নতুন প্রকল্পগুলোর সময়সীমার ওপরও এর প্রভাব পড়বে।’

আমেরিকান ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক ব্যবসার অধ্যাপক বাবাক হাফেজি বলেন, এলএনজির দাম বৃদ্ধি ইউরোপীয় বাজারগুলোকে প্রভাবিত করবে। কারণ, ‘ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এবং নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন ধ্বংস হওয়ার পর থেকে’ তারা এলএনজির ওপর ক্রমেই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

এলএনজির ওপর নির্ভরশীল অন্যান্য উল্লেখযোগ্য অর্থনীতির মধ্যে রয়েছে জাপান, তুরস্ক ও ভারত।

হাফেজি আল-জাজিরাকে বলেন, ‘অপেক্ষাকৃত দুর্বল অর্থনীতির ছোট দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, এলএনজির দাম বাড়লে তাদের চাহিদা কমে যাবে।’

হরমুজ প্রণালির মতো সরু সামুদ্রিক পথ বিশ্ব অর্থনীতির গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে
ছবি: রয়টার্স

বুধবারের পর ইরান আর কোন কোন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে

সৌদি আরব জানিয়েছে, বুধবার রিয়াদকে লক্ষ্য করে ছোড়া চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই ধ্বংস করেছে। এ ছাড়া দেশটির পূর্বাঞ্চলের একটি গ্যাস স্থাপনায় ড্রোন হামলার চেষ্টাও নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরান আবারও রিয়াদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

আবুধাবি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত সফলভাবে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। তবে এর ধ্বংসাবশেষ পড়ার দুটি ঘটনার জেরে আবুধাবির পশ্চিমাঞ্চলে হাবশান গ্যাস স্থাপনায় কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। তারা আরও জানায়, আবুধাবির দক্ষিণে অবস্থিত বাব তেলক্ষেত্রকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

সাম্প্রতিক হামলাগুলো জ্বালানির দাম ও শেয়ারবাজারে কী প্রভাব ফেলেছে

টানা এসব হামলার পর ইউরোপে এলএনজির পাইকারি দাম গত তিন বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

অপরিশোধিত তেলের দামও আরও আকাশচুম্বী হয়েছে। বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১১৫ ডলারে পৌঁছেছে। যুদ্ধের কারণে আগে থেকেই তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটকে এটি আরও ঘনীভূত করেছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল প্রায় ৬৫ ডলার।

২ মার্চ ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডারের একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারি ঘোষণা দেন যে হরমুজ প্রণালি ‘বন্ধ’ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। মূলত ওই ঘোষণার পর থেকেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করে।