মধ্যপ্রাচ্যের সাময়িক শান্ত পরিবেশের অবসান ঘটিয়ে আবার লড়াই শুরু করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষায়, এটি ছিল এক ‘আকস্মিক’ হামলা। মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক কোনো আঘাতের জবাবে নয়, ইরান নিজ থেকেই এই সংঘাত নতুন করে উসকে দিয়েছে। এর মাধ্যমে যুদ্ধ নিজেদের শর্তে পরিচালনার মানসিকতা ফুটে উঠেছে, যা নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির ক্ষেত্র তৈরি করল।
ফক্স নিউজকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা ওদের ওপর মারাত্মক আঘাত হানব। ওদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।’ এই হুমকিতে তেহরান অবাক হয়নি। কারণ, তারা জেনেই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, মার্কিন বোমারু বিমানগুলো আবার ফিরে আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার জবাবে তারা বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) একাধিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
ট্রাম্প অবশ্য বলেছিলেন, ইরানের অনুরোধেই তারা আগের সপ্তাহে হামলা বন্ধ রেখেছিলেন। তবে তেহরান তা প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি। তাই মার্কিন হামলা থামার পরপরই ইরানের এই আক্রমণ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
জার্মান চিন্তক প্রতিষ্ঠান এসডব্লিউপির গবেষক হামিদ রেজা আজিজি মনে করেন, ইরানের কৌশলগত অবস্থানে বড় পরিবর্তন এসেছে। আগাম হামলার প্রয়োজন মনে করলে তারা আর পিছিয়ে থাকছে না।
ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের পরই এই হামলা চালানো হয়। আজিজির মতে, ওয়াশিংটনকে সতর্ক করতেই হয়তো এটি করা হয়েছে। এর পরপরই ইরাকে ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর যৌথ হামলা চালায় মার্কিন ও সৌদি বাহিনী। যুদ্ধ এখন নতুন মাত্রা পাচ্ছে। এত দিন দূরে থাকা সৌদি আরবও এখন তিন দিক—ইয়েমেনের হুতি, ইরাকের মিলিশিয়া ও ইরান—থেকে হুমকির মুখে পড়ে সংঘাতের গভীরে জড়িয়ে পড়ছে।
ইসরায়েলের গবেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ বলেন, তেহরান বা তার মিত্ররা নিজেদের মূল লক্ষ্য থেকে সরতে রাজি নয়। ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর কর্তৃত্ব ধরে রাখতে চায়, আর হুতিরা অবরোধ না তোলা পর্যন্ত হামলা থামাবে না।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানান, হরমুজ প্রণালিতে সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা তাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন। ওমান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প নৌপথের পরিকল্পনা ইরান মেনে নেবে না। তাঁর মতে, বিকল্প পথ চালু হলে এই প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ কেবল কাগজ-কলমেই থেকে যাবে।
তেহরানের দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িক নীরবতা ছিল দুর্বলতা। সিট্রিনোভিচের মতে, ওয়াশিংটনের সামনে এখন দুটি পথ খোলা—ইরানের কিছু দাবি মেনে নেওয়া, অথবা বাণিজ্য ও জ্বালানি রুটে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য তৈরি থাকা।