‘মনে হচ্ছিল উড়োজাহাজ না, রোলারকোস্টার, হুড়মুড়িয়ে নিচে নামছিল’
যাত্রীবোঝাই উড়োজাহাজটি তখন মাঝ আকাশে। সবকিছু ঠিকই আছে। নির্বিঘ্নে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সেটি। হঠাৎই ছন্দপতন। হুট করে উড়োজাহাজটি দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসতে শুরু করে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। যদিও তখনো যাত্রীদের কেউই বুঝতে পারেননি আসলে কী ঘটছে। কত বড় বিপদ ঘটেছে ককপিটে।
ঘটনাটি গতকাল বুধবারের। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবে যাচ্ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের যাত্রীবাহী এই উড়োজাহাজ। যাত্রী ছিলেন ১৭৪ জন। ঘটনার সময় উড়োজাহাজটি ওমানের আকাশসীমায় ছিল।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, ‘মাঝ আকাশে উড়োজাহাজটির একজন পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরিকাঘাত করেন। তিনি যাত্রীসহ উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
উড়োজাহাজে থাকা একজন ইসরায়েলি যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে নেতানিয়াহু জানান, ছুরিকাঘাতের ঘটনায় উড়োজাহাজটি ঘূর্ণিপাকে পড়ে যায়। ওই যাত্রী একজন ক্রুকে সঙ্গে নিয়ে ককপিটে ঢুকতে সক্ষম হন। তখন তাঁরা দুজন মিলে ছুরিকাঘাতকারী পাইলটকে আটকে ফেলেন। তিনি (হামলাকারী পাইলট) উড়োজাহাজের বিভিন্ন ব্যবস্থা অচল করার চেষ্টা করছিলেন।
একপর্যায়ে উড়োজাহাজে থাকা অন্য ক্রুরা ককপিটে ঢোকেন জানিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এরপর উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। সেটি ঘুরিয়ে সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করানো হয়।
হামলাকারী পাইলটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ—জানান নেতানিয়াহু।
উড়োজাহাজটির যাত্রী ছিলেন আলমগ ইতালি। বিবিসি নিউজ নাইটকে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে উড়োজাহাজটি রোলারকোস্টারের মতো হুড়মুড়িয়ে নিচের দিকে নেমে আসতে শুরু করে। মনে হচ্ছিল আমি যেন শূন্যে ভাসছি।’
২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড উড়োজাহাজটি এভাবে প্রচণ্ড দ্রুতগতিতে নিচের দিকে নেমে আসে। পরে স্থির হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর আবারও সেটি নিচের দিকে নেমে আসতে থাকে—এভাবেই ভয়াবহ সেই অভিজ্ঞতার কথা জানান ইতালি।
দ্বিতীয়বার যখন উড়োজাহাজটি দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করে, তখন কয়েকজন যাত্রীকে ককপিটের দিকে ছুটে যেতে দেখেছেন বলেও জানান ইতালি। তিনি আরও বলেন, ‘সম্ভবত একজন পাইলট অন্য এক পাইলটকে নিবৃত্ত করেন। কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু মিলে পুরো পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ আনেন।’
ককপিটের এ ঘটনায় তিন-চারজন যাত্রী সামান্য আহত হয়েছেন। তবে তাঁদের কারও আঘাত গুরুতর নয়। অন্য যাত্রীরা কেউ আহত হননি। সবাই নিরাপদে আছেন। ইতালি বলেন, ‘তাঁরা খুব সাহসী। সত্যিই তাঁরা আমাদের জীবন বাঁচিয়েছেন।’
এ ঘটনার পর বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে জানান, ককপিটে ছুরিকাহত পাইলট একজন ভারতীয়। তাঁর নাম স্মিত মচ্ছর। ওই ফ্লাইটের ১৭৪ যাত্রীর জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে স্মিতের আশু সুস্থতা কামনা করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী।
নেতানিয়াহু আরও লেখেন, ককপিটে সহকারী পাইলটের ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার পরও প্রধান পাইলট স্মিত মচ্ছর হামলাকারীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি ককপিটের দরজা খুলে দেন। তখনই যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা মিলে হামলাকারী পাইলটকে আটক করতে সক্ষম হন।
হামলাকারী পাইলটের নাম-পরিচয় এখনো জানানো হয়নি। যাত্রীদের ইসরায়েলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবের রিয়াদে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, স্মিতকে সৌদি আরবের তাবুক শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।