যুদ্ধবিরতির মধ্যে গাজায় হামলা চালিয়ে পাঁচ শিশুসহ ১৩ জনকে হত্যা

ইসরায়েলি হামলায় ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে তাঁবু। সেটি আবার গোছানোর চেষ্টায় পরিবারের সদস্যরা। উৎকণ্ঠা নিয়ে সেখানে বসে আছে এক ফিলিস্তিনি শিশু। ৯ জানুয়ারি ২০২৬; গাজা নগরী, ফিলিস্তিনছবি: এএফপি

যুদ্ধবিরতি চলা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনের গাজায় আবারও হামলা চালিয়ে পাঁচ শিশুসহ ১৩ জনকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। গতকাল বৃহস্পতিবার এ হামলা চালানো হয়। গাজার জরুরি পরিষেবা বিভাগ ‘সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি’ এ কথা জানিয়েছে।

জরুরি পরিষেবা বিভাগের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, দক্ষিণ গাজায় যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি তাঁবুতে ড্রোন হামলায় তিন শিশুসহ চারজন নিহত হন। উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরের কাছে ১১ বছর বয়সী এক কন্যাশিশু এবং একটি স্কুলে হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের কাছে ড্রোন হামলায় এক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। পৃথক হামলায় এক শিশুসহ আরও দুই গাজাবাসী নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাহমুদ বাসাল বলেন, গাজা নগরীর পূর্বাঞ্চলে একটি বাড়ি লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরও চারজন নিহত হন। তিনি আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’

এদিকে আজ শুক্রবার সকালে এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, একটি ‘ব্যর্থ রকেট’ উৎক্ষেপণের জবাবে তারা উত্তর ও দক্ষিণ গাজা উপত্যকায় ‘হামাস সন্ত্রাসী এবং তাদের অবকাঠামোতে সুনির্দিষ্ট হামলা’ চালিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘গাজা উপত্যকা থেকে রকেট উৎক্ষেপণ যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।’

গত ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। এর ফলে ইসরায়েলি বাহিনী এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের মধ্যে লড়াই মূলত বন্ধ থাকলেও উভয় পক্ষই চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আসছে।

হামাস মুখপাত্র হাজেম কাসেম বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, বৃহস্পতিবার গাজায় এই হামলা ‘যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি থেকে দখলদার ইসরায়েলের সরে আসারই প্রমাণ’।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় অন্তত ৪২৫ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। এর মধ্যে গত ২২ নভেম্বর ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হন, যা যুদ্ধবিরতি শুরুর পর গাজায় অন্যতম রক্তক্ষয়ী দিন হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, একই সময়ে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হামলায় তাদের তিন সেনা নিহত হয়েছেন।