ইরানে সরকার পতনের ঝুঁকি নেই: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের মধ্যে হামলায় নিহত সামরিক কমান্ডারদের জানাজা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন এক নারী। তাঁর হাতে থাকা ছবিতে ইরানের সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পাশে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে দেখা যাচ্ছে। ১১ মার্চ ২০২৬, তেহরান, ইরানছবি: রয়টার্স

টানা দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বোমাবর্ষণ সত্ত্বেও ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনো যথেষ্ট সুসংগঠিত। দেশটির নেতৃত্ব শিগগিরই ভেঙে পড়ার বা পতনের কোনো ঝুঁকি নেই বলে মনে করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র গতকাল বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানায়, একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ বলছে, ইরানি সরকার বর্তমানে কোনো বিপদে নেই এবং দেশটির জনগণের ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আছে। গত কয়েক দিনের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সর্বশেষ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, পারমাণবিক স্থাপনা এবং শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্প এই অভিযান শুরুর সময় ইরানিদের প্রতি সরকার উৎখাতের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে তাঁর শীর্ষ সহযোগীরা পরে দাবি করেন, সরকার উৎখাত করা তাঁদের মূল লক্ষ্য নয়।

জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ২০০৩ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের চালানো সবচেয়ে বড় এই সামরিক অভিযান তিনি ‘শিগগিরই’ শেষ করবেন। তবে ইরানের নেতারা যদি শক্ত অবস্থানে অনড় থাকেন, তবে যুদ্ধের একটি সম্মানজনক সমাপ্তি টানা কঠিন হতে পারে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো বলছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলার প্রথম দিনেই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হলেও দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের সংহতি নষ্ট হয়নি। ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই যুদ্ধের ফলে দেশটির সরকারের পতন ঘটবেই, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

প্রতিবেশী দেশ ইরাকে অবস্থানরত ইরানি কুর্দি যোদ্ধারা ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছে।

লক্ষ্য পরিবর্তন

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, পারমাণবিক স্থাপনা এবং শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্প এই অভিযান শুরুর সময় ইরানিদের প্রতি সরকার উৎখাতের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে তাঁর শীর্ষ সহযোগীরা পরে দাবি করেন, সরকার উৎখাত করা তাঁদের মূল লক্ষ্য নয়।

খামেনি ছাড়াও এই হামলায় রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) বেশ কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তা সত্ত্বেও মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, খামেনির মৃত্যুর পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী নেতারা দেশটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। এরই মধ্যে খামেনির ছেলে মোজতবাকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে জ্যেষ্ঠ শিয়া আলেমদের পর্ষদ ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’।

সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েল বর্তমান সরকারের কোনো অংশকেই অবশিষ্ট রাখতে চায় না। তবে কেবল বিমান হামলা চালিয়ে কীভাবে সরকার পতন হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সে জন্য হয়তো একটি স্থল অভিযানের প্রয়োজন হতে পারে, যাতে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করার সাহস পান। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে স্থল সেনা পাঠানোর বিষয়টিও উড়িয়ে দেয়নি।

আরও পড়ুন

কুর্দি বিদ্রোহীদের সক্ষমতা নিয়ে সংশয়

প্রতিবেশী দেশ ইরাকে অবস্থানরত ইরানি কুর্দি যোদ্ধারা ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছে। কুর্দি নেতা আবদুল্লাহ মোহতাদি দাবি করেছেন, তাঁদের হাজার হাজার তরুণ যোদ্ধা অস্ত্র তুলে নিতে প্রস্তুত এবং অনেক জায়গায় ইরানি বাহিনী ভয়ে ব্যারাক ছেড়ে পালিয়েছে।

তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই কুর্দি গোষ্ঠীর সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, ইরানি বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই চালানোর মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র বা জনবল কুর্দিদের নেই। সম্প্রতি এই গোষ্ঠীগুলো ওয়াশিংটনের কাছে সাঁজোয়া যান ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র চাইলেও ট্রাম্প গত শনিবার জানিয়েছেন, কুর্দিদের ইরানে পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই।

আরও পড়ুন