ইরান ঘুরে কী দেখলেন বিবিসির সাংবাদিক, যুদ্ধে মানুষের জীবন কতটা বদলেছে
বিবিসির জ্যেষ্ঠ আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদক নওয়াল আল-মাগাফির ইরান সফরের এই প্রতিবেদনে যুদ্ধের বহুমুখী প্রভাব উঠে এসেছে। মিনাবের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ধ্বংসস্তূপ, বন্দর আব্বাসের অচলাবস্থা ও তেহরানের জনসমাগম ঘুরে তিনি যুদ্ধকবলিত ইরানের সাধারণ মানুষের ভাবনা বুঝতে চেষ্টা করেছেন। বিবিসির ‘গ্লোবাল আই’-এর জন্য করা প্রতিবেদনটি দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত হয়েছে। সেখান থেকে অনুবাদ করা হলো।
খননযন্ত্রটি হঠাৎ থেমে যায়। এক শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে কিছু একটা বের করে আনেন। সেটি প্যাঁচানো ধাতু বা ভাঙা কংক্রিট নয়। একটি শিশুর খাতা। পাতাগুলো এখনো অক্ষত, পরিপাটি হাতের লেখায় ভরা। প্রচ্ছদে একটি নাম লেখা—মাহিয়া সালারি। তার বয়স ছিল আট বছর।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পাঁচ মাস পরও খননযন্ত্র দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো এক শিশুর মরদেহ চাপা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তার মরদেহের সন্ধানে শ্রমিকেরা তল্লাশি চালাচ্ছেন।
শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে আমাইনে নাদেমির সঙ্গে কথা বলছেন বিবিসির জ্যেষ্ঠ অনুসন্ধানী প্রতিবেদক নওয়াল আল-মাগাফি।
মিনাবের প্রসিকিউটর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় এখানে ১৫৬ জন নিহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১২০ জনই শিশু।
আমি ইরানকে ভালোবাসি। ভীষণ ভালোবাসি। কিন্তু যখন দেখি আমার তারুণ্য ফুরিয়ে যাচ্ছে এবং আমার স্বপ্নগুলো হারিয়ে যাচ্ছে, তখন (দেশ ছেড়ে) চলে যাওয়া ছাড়া আমার আর কোনো উপায় থাকে না।
শহরজুড়ে দেয়াল, দোকানের শাটার আর রাস্তার ধারের বিলবোর্ডে টাঙানো রয়েছে মৃত মানুষের ছবি। ফলে মিনাব শহরটি যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ ও কষ্টের অন্যতম প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের ‘নিজেদের ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু তা ঘটেনি; বরং এই সংঘাত ইরানকে এমনভাবে বদলে দিয়েছে, যা খুব কম মানুষ প্রত্যাশা করেছিলেন। দেশটির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ভ্রমণ করলে যুদ্ধের প্রভাব ইরানের মানুষের জীবনে কতটা পড়েছে, তা স্পষ্ট ধরা পড়ে।
তেহরান থেকে বন্দর আব্বাসগামী রাতের ট্রেনটি প্রায় ৯০০ মাইল (১ হাজার ৪৪৮ কিলোমিটার) পথ পাড়ি দিয়ে সেখানে পৌঁছায়। এটি ইরানের রাজনৈতিক কেন্দ্রকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ উপকূল ও হরমুজ প্রণালির সঙ্গে যুক্ত করেছে। ট্রেনটি পাহাড়, মরুভূমি এবং নাতাঞ্জ ও ফোর্দোর পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পেরিয়ে উপসাগরের দিকে যায়।
ট্রেনে রয়েছেন শিক্ষার্থী, ফুটবলার, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পরিবার। ইরানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এসব মানুষের প্রত্যেকের কাছে যুদ্ধের অর্থের নিজস্ব একটি গল্প রয়েছে।
মিনাব শহরজুড়ে দেয়াল, দোকানের শার্টার আর রাস্তার ধারের বিলবোর্ডে টাঙানো রয়েছে মৃত মানুষের ছবি। এর ফলে মিনাব শহরটি (যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট) সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ ও কষ্টের অন্যতম প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। অনেক বছর ধরে চলা কঠোর নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক সংকট, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এবং ইরানের নেতৃত্বের প্রতি ক্রমবর্ধমান হতাশা থেকে এ বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল।
বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক দমন–পীড়ন চালানো হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, এতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত ও আরও অনেকে নিখোঁজ হয়েছেন। তবে মোট হতাহতের সংখ্যা কত, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
এরপর শুরু হয় যুদ্ধ। যুদ্ধের প্রথম কয়েকটি দিন ভীতিকর ছিল জানিয়ে আইনজীবী আজাদেহ বলেন, ‘মানিয়ে নেওয়া প্রত্যেক ইরানির স্বভাবের মধ্যে রয়েছে। আমরা আমাদের জীবন চালিয়ে যাওয়ার, দৈনন্দিন রুটিন বজায় রাখার এবং আশাবাদী থাকার চেষ্টা করেছি।’
বিক্ষোভ ও যুদ্ধের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসতে পারে বলে যাঁরা বিশ্বাস করতেন, তাঁদের বিষয়ে আজাদেহের মতামত জানতে চাইলে তিনি কিছুক্ষণ চুপ থাকেন। এরপর জবাব দিতে শান্তভাবে অস্বীকৃতি জানিয়ে আলাপ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন তিনি।
ট্রেনের স্লিপার কামরার ভেতরে দ্রুত প্রসঙ্গ পরিবর্তন হয়। পরিবার, কাজকর্ম ও দৈনন্দিন জীবনের নানা বিষয় ঘুরেফিরে আসতে থাকে। তবে রাজনীতির প্রসঙ্গ এলে পরিস্থিতি বদলে যায়। ইরানে প্রকাশ্যে রাজনীতি নিয়ে কথা বলা যে ঝুঁকিপূর্ণ, তা এতে স্পষ্ট।
এটিকে আর স্কুল বলা যায় না। এখানে শুধু দেয়ালগুলো দাঁড়িয়ে আছে, যেগুলো থেকে মৃত্যু, শোক আর রক্তের গন্ধ ভেসে আসে।
আজাদেহের সফরসঙ্গী রূপচর্চাবিশেষজ্ঞ সেপিদেহ অবশ্য কথা বলতে বেশ আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘আমি ইরানকে ভালোবাসি। ভীষণ ভালোবাসি। কিন্তু যখন দেখি আমার তারুণ্য ফুরিয়ে যাচ্ছে এবং আমার স্বপ্নগুলো হারিয়ে যাচ্ছে, তখন (দেশ ছেড়ে) চলে যাওয়া ছাড়া আমার আর কোনো উপায় থাকে না।’
ট্রেনের আরও সামনের দিকে একটি কামরায় বসেছেন দুই তরুণ ফুটবলার। তাঁরা বাড়ি ফিরছিলেন। কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর ঘরোয়া লিগ আবার শুরু হয়েছে। কথা হলো তাঁদের সঙ্গে।
যুদ্ধের সবচেয়ে বেশি কী মনে আছে, জানতে চাইলে ফুটবলার আবদুল্লাহ বলেন, ‘তারা (যুক্তরাষ্ট্র) শিশুভর্তি একটি স্কুলে হামলা করেছিল…তাদের বয়স ছিল ৭, ৮ ও ৯ বছর। পুরো দেশ শোকে ভেঙে পড়েছিল। জানাজার দিন…সবাই কেঁদেছিল।’
বন্দর আব্বাস থেকে একটি রাস্তা দুই ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে ভেতরের দিকে মিনাব শহর অভিমুখে চলে গেছে। শহরটি খেজুরগাছ ও বৃহস্পতিবারের জমজমাট বাজারের জন্য পরিচিত। তবে বর্তমানে এখানকার প্রায় প্রতিটি গলি বা রাস্তায় যুদ্ধের প্রভাব স্পষ্ট।
স্কুলে হামলায় নিহত শিশুদের ছবি এখানকার ভবন ও সড়কের বাতির খুঁটিতে টাঙানো হয়েছে। শহরের প্রান্তে শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এখন ধ্বংসাবশেষ ছাড়া কিছু নয়। কংক্রিটের মেঝেগুলো একটির ওপর আরেকটি ধসে পড়েছে। বিধ্বস্ত শ্রেণিকক্ষ থেকে বাঁকা রড বেরিয়ে আছে। সেখানে এখনো ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে পড়ে আছে মাহিয়া সালারির খাতাটি।
যেসব ইরানি বাইরের চাপ সরকারকে দুর্বল করতে পারে বলে মনে করতেন, তাঁদের কারও কারও কাছে মিনাব একটি বাঁকবদলের জায়গা হয়ে উঠেছে।
মাহিয়া তার ছোট ভাই আলীর সঙ্গে স্কুলে ছিল। হামলার কিছুক্ষণ আগে মা তাদের নিয়ে যেতে স্কুলে এসেছিলেন। হামলায় তিনজনই নিহত হন।
আমাইনে নাদেমি এই স্কুলে ছয় বছর ধরে প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটিকে আর স্কুল বলা যায় না। এখানে শুধু দেয়ালগুলো দাঁড়িয়ে আছে, যেগুলো থেকে মৃত্যু, শোক আর রক্তের গন্ধ ভেসে আসে।’
হামলার পর শিক্ষার্থীদের বাবা–মায়েদের খালি পায়ে ভবনটির দিকে ছুটে আসার কথা স্মরণ করে নাদেমি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, সবাই বেরিয়ে গেছে। আমি জানতাম না, তারা সবাই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে।’
সংলগ্ন একটি সামরিক স্থাপনায় হামলার সময় স্কুলটিতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছিল। কিন্তু এ বিষয়ে পেন্টাগন এখনো স্পষ্ট করে কিছু বলেনি।
ওই দিন সকালের ঘটনা এখনো চোখে ভাসে উল্লেখ করে রেড ক্রিসেন্টের উদ্ধারকর্মী রেজা বেসারাতি বলেন, ‘আমি এখনো সবকিছু মনে করতে পারি।’
যেসব ইরানি বাইরের চাপ সরকারকে দুর্বল করতে পারে বলে মনে করতেন, তাঁদের কারও কারও কাছে মিনাব একটি বাঁকবদলের জায়গা হয়ে উঠেছে।
সরকারের বিরুদ্ধে একসময় রাস্তায় নেমেছিলেন, এমন এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমি যুদ্ধ মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু নিরপরাধ মানুষ হত্যার বিনিময়ে নয়। যুদ্ধ সবকিছু ধ্বংস করে দেয়। এটি ভালো মানুষ আর খারাপ মানুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না।’
মানিয়ে নেওয়া প্রত্যেক ইরানির স্বভাবের মধ্যে রয়েছে। আমরা আমাদের জীবন চালিয়ে যাওয়ার, দৈনন্দিন রুটিন বজায় রাখার এবং আশাবাদী থাকার চেষ্টা করেছি।
মিনাবের কবরস্থানে সারিবদ্ধ ছোট ছোট কবরের মাঝখান দিয়ে শিশুরা ছোটাছুটি করছে। আর পরিবারগুলো দুপুরের চড়া রোদ থেকে বাঁচতে সেখানে ছায়া খুঁজছে।
মাসুমেহ মেহরান শেখাবাদি প্রায় প্রতিদিন এখানে আসেন। তাঁর ৯ বছর বয়সী মেয়ে সেতায়েশ ওই হামলায় নিহত হয়েছে।
শেখাবাদি বলেন, ‘আমি যখন সেখানে পৌঁছাই, তখন শুধু ধোঁয়া আর শিশুদের চুলের গন্ধ। আমি একটি হাত দেখেছিলাম। একটি পা দেখেছিলাম। তাদের শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল।’
মিনাবের পশ্চিমে অবস্থিত বন্দর আব্বাস ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক বন্দর এবং হরমুজ প্রণালির মূল প্রবেশদ্বার। মিনাব যেমন এই যুদ্ধে ইরান সরকারের বয়ানের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে, তেমনি বন্দর আব্বাস এমন এক জায়গা, যেখান থেকে সরকার তার শক্তির প্রকাশ ঘটিয়ে থাকে।
বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবহন করা মোট জ্বালানি তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই সামুদ্রিক করিডরের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ক্ষমতা দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
যুদ্ধ এখনো চলছে। তাই এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত কী ধরনের উত্তরাধিকার রেখে যাবে, তা নির্ধারণের লড়াইও সমানতালে চলছে।
বন্দর আব্বাসে ইরানের প্রচলিত নৌবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী—দুটিরই গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি রয়েছে। ফলে শহরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক নিশানায় পরিণত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ এপ্রিলের মধ্যে এই শহর ও এর আশপাশে অন্তত ৯৬টি মার্কিন হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
আমি যখন এই এলাকায় পৌঁছাই, তখন সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় জেলেরা নোঙর করে রাখা পণ্যবাহী জাহাজের আশপাশে কাজ করছেন। এসব জাহাজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। কয়েক মাস ধরে চলা অচলাবস্থার কারণে অনেকের রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে।
তেহরানে ফিরে এসে দেখি, পরিস্থিতি একেবারে ভিন্ন। তখন যুদ্ধের মধ্যে সাময়িক বিরতি চলছিল। এই ফাঁকে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর চার মাস পর তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে লাখো মানুষ অংশ নেন। সরকারি হিসাবমতে, তা কয়েক মিলিয়ন।
সড়কের দুই পাশে খামেনির ছবি টাঙানো হয়েছে। মাইকে বিপ্লবী সংগীত বাজছে। মানুষের মুখে মুখে ‘আমেরিকার মৃত্যু’ ও ‘ইসরায়েলের মৃত্যু’ স্লোগান ঘুরেফিরে আসছিল। এই জানাজা একই সঙ্গে শোক প্রকাশের মুহূর্ত এবং রাজনৈতিক ঐক্যের একটি সুচিন্তিত প্রদর্শনী।
জীবনে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক মিছিলে অংশ নেওয়া সুরাইয়া বলেন, ‘আমি এমন অনেক মানুষকে চিনি, যাঁরা সরকারের বিরোধিতা করতেন।...আজ তাঁরা সরকারকে সমর্থন করছেন।’ সুরাইয়ার এই কথায় দেশটির বৃহত্তর জনমতের প্রতিফলন আছে কি না, তা জানা অসম্ভব। এর কয়েক দিন পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়ে।
যুদ্ধ নিয়ে ইরানজুড়ে একক কোনো ভাষ্য নেই। কেউ মনে করেন, এই যুদ্ধ জাতীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করেছে। আবার কেউ বলেন, এতে মানুষের ওপর দমন-পীড়ন বেড়েছে। কিন্তু চলতি বছরের শুরুতে যে ক্ষোভ থেকে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, তার কোনো সমাধান হয়নি।
মিনাবের একটি স্কুলের ধ্বংসাবশেষ থেকে হরমুজ প্রণালির ব্যস্ত নৌপথ হয়ে তেহরানের জনবহুল চত্বর—এই পুরো যাত্রা এমন একটি দেশের চিত্র তুলে ধরেছে, যা যুদ্ধের কারণে আমূল বদলে গেছে। যুদ্ধ এখনো চলছে। তাই এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত কী ধরনের উত্তরাধিকার রেখে যাবে, তা নির্ধারণের লড়াইও সমানতালে চলছে।