তুরস্ক বা পাকিস্তান হতে পারে ইসরায়েলের নতুন শত্রু: দাবি ইসরায়েলি বিশ্লেষকের

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে করমর্দন করছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। ইরানের তেহরানে, ১৬ এপ্রিলছবি: এএফপি

ইসরায়েলের প্রধান শত্রু হিসেবে ইরানের জায়গা নেবে পাকিস্তান অথবা তুরস্ক। সম্প্রতি এমন আভাস দিয়েছেন ইসরায়েলের এক বিশ্লেষক।

ইসরায়েলর সংবাদপত্র দৈনিক মারিভে প্রকাশিত এক উপসম্পাদকীয়তে বোয়াজ গোলানি মধ্যপ্রাচ্যের ‘পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি’ নিয়ে লিখেছেন। তিনি এমন এক সময়ে এই নিবন্ধ লিখলেন, যখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলছে।

তেহরান ‘ইসরায়েলের প্রধান শত্রুর ভূমিকা ত্যাগ করতে বাধ্য হবে’ উল্লেখ করে গোলানি লিখেছেন, এই ভূমিকা পালনের জন্য এখন একটি নতুন দেশ প্রয়োজন।

নিবন্ধটিতে বলা হয়েছে, ‘আলী খামেনির অধীনে ইরান তিন দশক ধরে বিশ্বস্ততার সঙ্গে এই ভূমিকা পালনের ব্যাপক চেষ্টা করেছে।’ এতে দাবি করা হয়, ইরানের ওপর সাম্প্রতিক যুদ্ধের পাশাপাশি দেশটির অর্থনৈতিক বিপর্যয় ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির সামরিক সক্ষমতাকে ‘তছনছ’ করে দিয়েছে।

মারিভের নিবন্ধটিতে ইরানের জায়গায় পাকিস্তান বা তুরস্ক আসার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। গোলানি লিখেছেন, ‘মনে হচ্ছে, এই প্রতিযোগিতা তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যেই নির্ধারিত হয়ে পড়েছে।’

‘দুটি বড় দেশ (তুরস্কের জনসংখ্যা ৮ কোটি ৫০ লাখ, পাকিস্তানের ২৪ কোটি), উভয় দেশই সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং উভয় দেশেই সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা বিদ্যমান। উভয় দেশেরই বিশাল সেনাবাহিনী রয়েছে এবং আশ্চর্যজনকভাবে ইসরায়েলের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশ দুটির সুসম্পর্ক রয়েছে।’

গাজা উপত্যকায় চলমান গণহত্যা ও সিরিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভূরাজনৈতিক বিরোধ গভীরতর হওয়ায় গত এক সপ্তাহে ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। এ সময়ে উভয় দেশের নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে তীক্ষ্ণ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।

খুদে ব্লগ লেখার সাইট এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বিরুদ্ধে ‘নিজ দেশের কুর্দি নাগরিকদের ওপর গণহত্যা’ ও ‘ইরানের সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থা ও তাদের প্রক্সিদের (প্রতিনিধি গোষ্ঠী) আশ্রয় দেওয়ার’ অভিযোগ তুলেছেন।

আঙ্কারা গ্রিস ও সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্রের আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ায় গত কয়েক মাসে নেতানিয়াহু তুরস্কের প্রতি তাঁর বক্তব্যের সুর ক্রমেই কড়া করেছেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান
রয়টার্স ফাইল ছবি

এত কিছুর পরেও গ্রিসের ‘শ্যাডো শিপ’ বা ছায়া জাহাজগুলো এখনো জেহান বন্দর (তুরস্কের সমুদ্রবন্দর) হয়ে ইসরায়েলে তেল ও সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছে দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরির কেন্দ্রে রয়েছে সিরিয়া, যেখানে উভয় পক্ষের স্বার্থ নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে উত্তেজনা চলছে।

এদিকে ইরান যুদ্ধ বন্ধে বিশ্বজুড়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হওয়া পাকিস্তানে এমন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন, যাঁরা দীর্ঘকাল ধরে ইসরায়েলের কড়া সমালোচনা করে আসছেন।

গত সপ্তাহে খুদে ব্লগ লেখার সাইট এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ইসরায়েলকে ‘অশুভ’ ও ‘মানবতার জন্য অভিশাপ’ বলে অভিহিত করেন। পরে সেই পোস্ট মুছে ফেলা হয়।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছানোর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে খাজা আসিফ এই মন্তব্য করেন।

গোলানি তাঁর কলামে লিখেছেন, ‘ইসরায়েলকে অবশ্যই এমন এক পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই থিতিয়ে আসার পরপরই এই দুই দেশের যেকোনো একটিকে তাদের মোকাবিলা করতে হবে।’

গোলানি আরও লিখেছেন, ‘এদের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়ার সুযোগ আমাদের হাতে নেই এবং উভয় বিকল্পই প্রায় সমানভাবে খারাপ। এদের মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে আমাদের হাতে থাকা প্রধান অস্ত্র হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক, যা আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে রক্ষা করতে হবে।’