যুদ্ধের আগুনে ঘর ছাড়লেন দুই ভাই, ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে লাগল ৭ দিন
ইয়েমেনের হোদেইদাহ ও মোখা শহরের মধ্যবর্তী লোহিত সাগর উপকূলীয় শহর আল-খোখা থেকে হুতি বিদ্রোহীদের তীব্র আক্রমণের মুখে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী যখন পালাতে শুরু করে, তখন সাঈদ হাসানের দুই ছেলে তড়িঘড়ি বাড়ি ফিরে তাঁকে বিষয়টি জানান।
শুরুতে বিষয়টি খুব স্বাভাবিকভাবে দেখেন সাঈদ হাসান। তিনি দুই ছেলেকে আশ্বস্ত করে বলেন, হয়তো কৌশলগত কারণে সরকার সাময়িকভাবে সেনা সদস্যদের অন্য জায়গায় সরিয়ে নিচ্ছে। তাই চিন্তার কিছু নেই।
কিন্তু ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাঈদের ছেলেরা আবারও জানান, বিপুলসংখ্যক সেনা নিজেদের অবস্থান ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এবার সাঈদ নিজেই বাড়ি থেকে বের হয়ে পরিস্থিতি দেখতে গেলেন। সেখানে গিয়ে তিনি হতবাক হয়ে যান।
‘আমি দেখলাম, বিপুলসংখ্যক সেনা সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে এলাকা ছেড়ে যাচ্ছেন,’ বলেন সাঈদ।
সেদিন সন্ধ্যায় সাঈদ বাড়ি ছেড়ে পালানোর সিদ্ধান্ত নেন। তবে এর আগে তিনি তাঁর ভাই মোহাম্মদ ও তাঁর পরিবারকে তাঁদের সঙ্গে পালানোর জন্য রাজি করান। মোহাম্মদ শুরুতে সরকারি বাহিনীর পালিয়ে যাওয়ার খবর বিশ্বাস করেননি। তিনি বলেন, ‘তাঁরা (সাঈদের দুই ছেলে) যখন বাইরে গিয়ে সেনাদের চলে যাওয়ার দৃশ্য ভিডিও করে আমাকে দেখাল, তখনই শুধু আমি বিশ্বাস করি।’
ইরান-সমর্থিত হুতিরা ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় হোদেইদাহ ও তাইজ প্রদেশে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। প্রথমে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় ব্যাপক গোলাবর্ষণ করা হয়। এরপর হুতি যোদ্ধারা স্থলপথে অগ্রসর হয়।
এর এক সপ্তাহ আগে ইরান-সমর্থিত হুতিরা ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় হোদেইদাহ ও তাইজ প্রদেশে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। প্রথমে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় ব্যাপক গোলাবর্ষণ করা হয়। এরপর হুতি যোদ্ধারা স্থলপথে অগ্রসর হন।
৯ সেপ্টেম্বর সরকারি বাহিনীর ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের প্রধান ঘাঁটি মোখা থেকে সেনারা সরে যান। এ সুযোগে হুতিরা মোখা, আল-খোখাসহ উপকূলীয় কয়েকটি এলাকা দখল করে। পরদিন লোহিত সাগর উপকূলে অভিযান শেষ করে তারা কার্যত বাব আল-মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয়।
পরিবার দুটি বাড়ি ছাড়ার সময় সঙ্গে কোনো খাওয়ার পানি নিতে পারেনি। পথে কোথাও পানি পাওয়া যাবে—এমন আশায় তাঁরা রওনা হয়েছিল। কিন্তু পথে বেশির ভাগ মুদিদোকানই বন্ধ ছিল। যেগুলো খোলা ছিল, সেগুলোতে খাওয়ার পানি ছিল না।
হুতিরা তাঁদের শহরের দিকে এগিয়ে আসছে—এমন আশঙ্কায় সাঈদ ও মোহাম্মদের পরিবার দ্রুত আল-খোখা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৮ সালে হোদেইদা বন্দরের কাছের গ্রাম থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর আল-খোখা ছিল তাঁদের নতুন ঠিকানা। এবার যুদ্ধের কারণে আবারও এ শহর ও ঘর ছাড়তে হচ্ছে তাঁদের।
সাঈদ বলেন, ‘ঘর ছাড়ার সময় আমরা শুধু যেসব জিনিস হাতে করে নিতে পারি, সেগুলোই নিয়েছিলাম।’
মোহাম্মদ ও তাঁর স্ত্রী কাপড়ের ব্যবসা করতেন। বাড়িতে থাকা বিপুল পরিমাণ কাপড় সঙ্গে নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁরা শুধু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, কিছু পোশাক ও হালকা জিনিসপত্র নেন। প্রথমে মোখায় এক রাত কাটিয়ে পরদিন ফিরে এসে বাকি জিনিস নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু হুতিরা দ্রুত অগ্রসর হওয়ায় সে সুযোগ আর হয়নি।
সাঈদ স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই পুত্রবধূ, মেয়ে ও নাতনিকে নিয়ে ছোট একটি পিকআপে করে রওনা হন। মোহাম্মদও স্ত্রী ও এক আত্মীয়কে নিয়ে আরেকটি গাড়িতে ওঠেন। পথে পালিয়ে আসা তিন সেনাকেও গাড়িতে তুলে নেন তিনি।
আমি দেখেছি, সরকারি বাহিনীর সদস্যদের কেউ কেউ হুতিদের কাছে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে সামরিক পোশাক খুলে ফেলছিলেন। কেউ অস্ত্র ফেলে দিচ্ছিলেন, কেউ আবার বালুর নিচে পুঁতে রাখছিলেন।
রওনা দেওয়ার কিছুক্ষণ পর সাঈদ ও মোহাম্মদ জানতে পারেন, স্থানীয় লোকজন তাঁদের টিন ও ত্রিপলের তৈরি ঘরগুলো খুলে নিয়ে গেছে। জিনিসপত্রও চুরি হয়ে গেছে।
পথে সাঈদ দেখেন, বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির মধ্যে সেনারা অস্ত্র ফেলে পালাচ্ছেন। ‘আমি দেখেছি, একেবারে নতুন কামান পড়ে আছে, যেগুলো থেকে একটি গোলাও ছোড়া হয়নি,’ বলেন তিনি।
পরিবার দুটি বাড়ি ছাড়ার সময় সঙ্গে কোনো খাওয়ার পানি নিতে পারেনি। পথে কোথাও পানি পাওয়া যাবে—এমন আশায় তারা রওনা হয়েছিল। কিন্তু পথে বেশির ভাগ মুদিদোকানই বন্ধ ছিল। যেগুলো খোলা ছিল, সেগুলোতে ছিল না খাওয়ার পানি। এর মধ্যেই মোহাম্মদের পিকআপের একটি টায়ার হঠাৎ ফেটে গেলে বিপদ আরও বেড়ে যায়।
বিপদের আশঙ্কা থাকায় সাঈদ ভাইয়ের জন্য অপেক্ষা না করে মোখার দিকে এগিয়ে যান।
মোহাম্মদ বলেন, ‘টায়ার ফেটে গাড়িটি প্রায় উল্টে যাচ্ছিল। আমরা মারা যেতে পারতাম। ক্ষতিগ্রস্ত টায়ারটি খুলে এমন একটি টায়ার লাগিয়েছিলাম, যেটি আগে থেকেই নষ্ট ছিল।’
এ সময় চারপাশে বিস্ফোরণের শব্দ আরও তীব্র হয়ে উঠছিল। মোহাম্মদের সঙ্গে থাকা তিনজন বারবার তাঁকে দ্রুত গাড়ি চালাতে বলছিলেন। তাঁদের ভয় ছিল, হুতিদের বাহিনী পেছন থেকে এগিয়ে এসে তাঁদের ধরে ফেলতে পারে।
রাত প্রায় ১২টার দিকে সাঈদ মোখায় পৌঁছে দেখেন, পুরো শহর প্রায় জনশূন্য। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পিছু হটা সেনাদের বহনকারী একের পর এক গাড়ি শহরের পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছিল। তারা মোখায় না থেমে সরাসরি এডেনের দিকে যাচ্ছিল। সাঈদও সেই গাড়িগুলোর পিছু নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সামনে এগোতে গিয়ে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা যুদ্ধের ভয়াবহ কিছু দৃশ্য দেখতে পান।
ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এরই মধ্যে ভয়াবহ আকার নিয়েছে। দেশটির বাস্তুচ্যুত শিবির ব্যবস্থাপনা ও নথিভুক্তির দায়িত্বে থাকা সরকারি সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯০৬ জন বা ২৯ হাজার ৫১৯ পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
রাস্তার দুই পাশে পড়ে ছিল হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত সেনাদের মরদেহ। সেসব মরদেহের পাশেই পড়ে ছিল পরিত্যক্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ। পিছু হটা সেনাদের লক্ষ্য করে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পায় পরিবারটি।
মোহাম্মদ বলেন, ‘আমি দেখেছি, সরকারি বাহিনীর সদস্যদের কেউ কেউ হুতিদের কাছে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে সামরিক পোশাক খুলে ফেলছিলেন। কেউ অস্ত্র ফেলে দিচ্ছিলেন, কেউ আবার বালুর নিচে পুঁতে রাখছিলেন।’
মোহাম্মদ আরও বলেন, ‘রাস্তার পাশে পড়ে থাকা একজনের বিচ্ছিন্ন মরদেহ দেখে আমার স্ত্রী ভয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন। আমরা দেখেছি, নারী-পুরুষ, তরুণ-বৃদ্ধ—অনেকে হেঁটে পালাচ্ছেন। অথচ পিছু হটা সেনারা কখনো কখনো খালি গাড়ি নিয়ে তাঁদের পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছিলেন, কাউকে গাড়িতে তুলছিলেন না।’
মোহাম্মদ দক্ষিণ দিকে গাড়ি চালিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। পরদিন সকালে থুবাব এলাকা পেরিয়ে রাস আল-আরা ও দক্ষিণের প্রদেশগুলোর দিকে যাওয়ার সময় তাঁর গাড়িতে লাগানো বিকল্প টায়ারটিও শেষ পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায়।
সারা রাত না ঘুমিয়ে, ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় ক্লান্ত মোহাম্মদ গাড়ির টায়ারটি কাঁধে তুলে রাস্তার পাশে হাঁটতে শুরু করেন। উদ্দেশ্য, কোনো মেরামতের দোকান খুঁজে বের করা। কিন্তু আতঙ্কিত গাড়িচালকেরা কেউ তাঁকে গাড়িতে তুলতে রাজি হননি। সবাই দ্রুত ওই এলাকা পেরিয়ে যেতে চাইছিলেন। ফলে প্রায় বেলা তিনটা পর্যন্ত মোহাম্মদ তাঁর পরিবারের কাছে ফিরতে পারেননি।
মোহাম্মদ বলেন, ‘দোকানপাট বন্ধ ছিল। কোথাও পানি পাচ্ছিলাম না। আমার স্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মানুষের কাছে পানি চাচ্ছিলেন। কিন্তু কেউই এগিয়ে আসছিলেন না। অবশেষে এক ব্যক্তি গাড়ি থামিয়ে তাঁর দুই হাতের তালুতে সামান্য পানি ঢেলে দিয়ে চলে যান।’
এর মধ্যেই মোখা পুরোপুরি হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এরপর তারা থুবাবের দিকে এগোতে থাকে।
চারপাশে একের পর এক বিস্ফোরণের মধ্যেই ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাঈদ এডেনে পৌঁছান। সেখানে সমাজকর্মীদের সহায়তায় বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্য তৈরি একটি অস্থায়ী স্কুলক্যাম্পে আশ্রয় নেন। ওই ক্যাম্পে একটি কক্ষে আটটি পরিবারকে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছিল। শুধু নারীদের কক্ষে থাকার অনুমতি ছিল। তাই সাঈদ তাঁর পরিবারকে সেখানে রেখে নিজে বাইরে খোলা জায়গায় ঘুমান।
মোহাম্মদ পরদিন এডেনে পৌঁছান। পথে এক সেনা তাঁদের পানি দেন। তিনি দেখেন, অনেক সেনা তাঁদের রাইফেল বিক্রি করার চেষ্টা করছেন। কেউ ৫০০ সৌদি রিয়ালে অস্ত্র বিক্রি করছিলেন, কেউ আবার সেগুলো ফেলে দিচ্ছিলেন।
দুই ভাইয়ের ভাষায়, পুরো যাত্রাই ছিল এক অলৌকিক অভিজ্ঞতার। তাঁদের গাড়িতে জ্বালানি প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। তবু আল-খোখা থেকে এডেন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ একবারও জ্বালানি না নিয়েই পাড়ি দেয় গাড়ি।
এরপরও যাত্রা শেষ হয়নি। ১২ সেপ্টেম্বর সাঈদ ও মোহাম্মদ সপরিবার এডেনের পূর্বে একটি তল্লাশিচৌকি পার হয়ে আবইয়ান প্রদেশের লাওদারে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। জ্বালানি না থাকায় সেখানে দুই দিন অপেক্ষা করতে হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর আবার মুকাল্লার উদ্দেশে রওনা হন তাঁরা। পরদিন শাবওয়া প্রদেশের হুরা এলাকায় সাঈদের গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। স্থানীয় এক মিস্ত্রিকে ঘুম থেকে তুলে এনে গাড়ি মেরামত করান তিনি।
শেষ পর্যন্ত ১৬ সেপ্টেম্বর মুকাল্লার পশ্চিম প্রান্তে পৌঁছান দুই ভাই ও তাঁদের পরিবার। বাড়ি ছাড়ার এক সপ্তাহ পর তাঁরা গন্তব্যে পৌঁছান।
এখন দুই পরিবার মুকাল্লায় তিন কক্ষের একটি বাসা ভাড়া নিয়েছে। মাসে ভাড়া ৪০০ সৌদি রিয়াল। জামানত হিসেবে দিতে হয়েছে আরও ৪০০ রিয়াল এবং দালালকে ২০০ রিয়াল। কিন্তু দুই সপ্তাহেও কোনো কাজ পাননি দুই ভাই। তাঁদের সঞ্চয়ও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
দোকানপাট বন্ধ ছিল। কোথাও পানি পাচ্ছিলাম না। আমার স্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মানুষের কাছে পানি চাচ্ছিলেন। কিন্তু কেউই এগিয়ে আসছিলেন না। অবশেষে এক ব্যক্তি গাড়ি থামিয়ে তাঁর দুই হাতের তালুতে সামান্য পানি ঢেলে দিয়ে চলে যানমোহাম্মদ, বাস্তুচ্যুত ইয়েমেনি
মোহাম্মদ বলেন, ‘কেউ আমাদের সাহায্য করেননি। আজও আমরা সকালের খাবার খাইনি। টাকা বাঁচাতে খাবার বাদ দিচ্ছি। আমি কাজের সন্ধানে বের হয়েছিলাম, কিন্তু পাইনি। আমি দিনমজুর। মৌচাকের কাজ, খেজুরগাছে ওঠা, পাথর বহন—যেকোনো কাজ করতে পারি।’
ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এরই মধ্যে ভয়াবহ আকার নিয়েছে। দেশটির বাস্তুচ্যুত শিবির ব্যবস্থাপনা ও নথিভুক্তির দায়িত্বে থাকা সরকারি সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯০৬ জন বা ২৯ হাজার ৫১৯ পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগেও এ সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ। নতুন করে বাস্তুচ্যুত মানুষের বড় অংশই তাইজ প্রদেশের।
মুকাল্লায় সরকারি বাস্তুচ্যুত ব্যবস্থাপনা ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ আওয়াদ বলেন, অনেকেই শুধু পরনের কাপড় নিয়ে সেখানে পৌঁছেছেন। তাঁদের মধ্যে বয়স্ক, অসুস্থ, গর্ভবতী ও শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো নারীও রয়েছেন। মৌলিক চাহিদা পূরণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিলে একটি শিবির স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে মোহাম্মদের স্ত্রী ফাতিমার কাছে থাকার জায়গা বা খাবারের সংকটের চেয়েও বড় চিন্তা অন্য কিছু। কাপড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ কীভাবে শোধ করবেন, সেটিই তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে।
ফাতিমা বলেন, ‘কাপড় ব্যবসায়ীদের কাছে আমার ১ কোটি ২০ লাখ ইয়েমেনি রিয়াল ঋণ। আমার সবচেয়ে বড় চিন্তা সেটি শোধ করা। আমি মসজিদে গিয়ে দোয়া করি, আল্লাহ যেন আমাকে সাহায্য করেন। এ ঋণ শোধ করার আগে আমি মরতে চাই না।’