ইরানের তেলক্ষেত্রে হামলার পর ইসরায়েলের ওপর সত্যিই কি ক্ষুব্ধ হলো হোয়াইট হাউস
ইরানের তেল সংরক্ষণাগারে ইসরায়েলের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বড় ধরনের মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এটিই দুই দেশের মধ্যে প্রথম বড় কোনো মতবিরোধের বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র। দুই দেশ মিলে ইরানে আগ্রাসন চালাচ্ছে।
মার্কিন নিউজ পোর্টাল ‘অ্যাক্সিওস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলার পর ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রশাসন ইসরায়েলকে চরম বিস্ময়সূচক (ডব্লিউটিএফ) বার্তা পাঠিয়েছে।
কী ঘটেছিল
ইসরায়েল দাবি করেছে, ওই তেল স্থাপনাগুলো ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। হামলার আগে তারা ওয়াশিংটনকে বিষয়টি জানিয়েছিল। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, হামলার ব্যাপকতা তাঁদের কল্পনার বাইরে ছিল।
মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা এত বড় হামলা দেখে অবাক হয়েছি। আমরা মনে করি না, এটি ভালো কোনো বুদ্ধি ছিল।’
ইসরায়েলি একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন থেকে আসা বার্তার মূল সুর ছিল চরম বিরক্তি ও বিস্ময়।
ভয়াবহ দৃশ্য ও পরিবেশ বিপর্যয়
তেহরান ও এর আশপাশের তিনটি তেল ডিপো ও একটি শোধনাগারে হামলার ফলে সেখানে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শহরজুড়ে আকাশছোঁয়া আগুন এবং বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় সবকিছু ঢেকে গেছে। সড়ক দিয়ে তেলের ‘আগুনের নদী’ বয়ে যেতে দেখা গেছে।
তেহরানের আকাশ থেকে তেল ও কালিতে মিশে যাওয়া ‘কালো বৃষ্টি’ ঝরছে।
‘অ্যাসিড বৃষ্টি’–এর আশঙ্কায় মানুষকে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তেলের বাজারে অস্থিরতা
এই হামলার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
প্রথমত, যুদ্ধের কারণে তেলের দাম আগে থেকেই বাড়তি ছিল। এই হামলার পর প্রায় চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে।
দ্বিতীয়ত, সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৭ দশমিক ৯৭ ডলারে ঠেকেছে।
তৃতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ২২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কারণ
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন মনে করছে, এই হামলা কৌশলগত একটা ভুল হতে পারে। এর কারণ জনমত। তেল স্থাপনায় হামলার ফলে ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে যারা বর্তমান সরকার পরিবর্তনের পক্ষে ছিল, তারা এখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে।
জ্বালানির দাম বাড়তে পারে। ট্রাম্পের এক উপদেষ্টা বলেন, প্রেসিডেন্ট এই হামলা পছন্দ করেননি। তিনি তেল রক্ষা করতে চান, পোড়াতে নয়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা মনে পড়ে যায়।
ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি
ইরান সতর্ক করে দিয়েছে, ভবিষ্যতে তাদের তেলের ওপর হামলা হলে তারা পাল্টা একই ধরনের ব্যবস্থা নেবে। ইরানের সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা চাইলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে নিয়ে যেতে পারেন।
গত সপ্তাহে সৌদি আরবের একটি বড় শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল, যার ফলে সেখানকার উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ওই স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। অবশ্য সেখানে ইরান চালায়নি বলে দাবি করেছে।