হেবরন এখন ‘ভুতুড়ে শহর’

পশ্চিম তীরের অবরুদ্ধ হেবরন শহরে দখলদার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযানে দুই সেনা। ফিলিস্তিন, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ছবি: এএফপি

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের অবরুদ্ধ হেবরন শহরে বড় ধরনের অভিযান চালাচ্ছে দখলদার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। শহরের কিছু অংশ এখন পুরোপুরি ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে। গত শুক্রবার বন্দুকধারীর গুলিতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর হেবরনে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। ওই দিন দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পাশাপাশি সন্দেহভাজন হামলাকারী দুই ফিলিস্তিনিও নিহত হন।

স্বাধীন সাংবাদিক জ্যাসপার নাথানিয়েল আল–জাজিরাকে বলেছেন, হেবরন এখন ‘ভুতুড়ে শহরে’ পরিণত হয়েছে। কারণ, ‘সব বাসিন্দাকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, হামলায় সন্দেহভাজন হামলাকারী নিহত দুই ফিলিস্তিনি যে পাড়ায় থাকতেন, সেনাবাহিনী সেই ‘পুরো পাড়া’ তছনছ করে দিয়েছে। পরিবারগুলোকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের বাড়িতে ‘এক্স’ চিহ্ন এঁকে দেওয়া হয়েছে।

যে তল্লাশিচৌকিতে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল, তার কাছেও বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বন্দুকের মুখে পরিবারগুলোকে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়।

নাথানিয়েল আরও বলেন, ‘মনে হচ্ছে, সেনাবাহিনী নিজেরাই জানে না, এখানে তারা কী করছে। আমরা এখানে মূলত সেনাদের দাঁড়িয়ে থাকতেই দেখছি।’

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সামরিক অভিযান

আল–জাজিরার সাংবাদিক নূর ওদেহ বলেন, হেবরনে সামরিক অভিযানের সঙ্গে রাজনীতি গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। মনে রাখতে হবে, ইসরায়েলের কট্টরপন্থী নেতা ইতামার বেন-গভির একজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী। তিনি হেবরন শহরেই অবৈধভাবে বসবাস করেন। বসতিবিষয়ক মন্ত্রীও হেবরনের আরেক বসতি স্থাপনকারী। সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা হওয়ার পর তাঁরা প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন। নিজেদের সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্যে অবস্থান আরও মজবুত করতে চেয়েছিলেন তাঁরা। সেটাই তাঁরা করতে পেরেছেন।

ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচও অবৈধ বসতি স্থাপনকারী। তবে তিনি হেবরনের নন। তিনি বলেছেন, অবিলম্বে বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ তিনি নিজেই দিয়েছেন।

তাই এই সামরিক অভিযান আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই সাজানো হয়েছে। এটি একটি আদর্শগত চূড়ান্ত লক্ষ্য পূরণে কাজ করছে। সেই লক্ষ্য হলো হেবরন দখল করা। ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক দিক থেকে ফিলিস্তিনি ও ইহুদি—উভয়ের কাছেই হেবরন গুরুত্বপূর্ণ।

হেবরন শহরের ভেতরে বসতি স্থাপনকারীরা আছেন। এখন সেনারাও বিভিন্ন পাড়ার নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছেন। সেগুলো মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার ঘোষণাও দিচ্ছেন। এসবের মধ্য দিয়ে এই লড়াইয়ের পরিসর আরও বাড়ছে। আদর্শগত বিভাজন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন