যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত লেবানন–ইসরায়েল চুক্তি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর

নাইম কাশেম। ২০২২ সালের ৬ জুন বৈরুতে রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় ছবিটি তোলাছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে স্বাক্ষরিত রূপরেখা চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন হিজবুল্লাহর প্রধান নাইম কাশেম।

গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে নাইম কাশেম ওই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের আলোকে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলের সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান।

তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত শুক্রবার বৈরুত ও তেল আবিবের মধ্যে পঞ্চম দফা আলোচনা শেষে ওয়াশিংটনে ওই রূপরেখা চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর এই প্রথম এ নিয়ে মন্তব্য করলেন হিজবুল্লাহর প্রধান।

হিজবুল্লাহর প্রধান বলেন, ‘এ চুক্তি সম্পূর্ণ অবৈধ ও অকার্যকর এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতিগুলো অবশ্যই কার্যকর করতে হবে।’

বিবৃতিতে কাশেম সতর্ক করে আরও বলেন, লেবাননের পুরো ভূখণ্ডে প্রতিরোধ বাহিনীর (হিজবুল্লাহ) নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারকে যুক্ত করা অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি প্রস্তাব, যা সব বিপৎসীমা অতিক্রম করে।

হিজবুল্লাহ নেতা আরও বলেন, ‘এমন পদক্ষেপ লেবাননকে শত্রু ইসরায়েলের হাতের পুতুলে পরিণত করবে।’

রূপরেখা চুক্তি নিয়ে লেবাননে ক্রমবর্ধমান বিতর্কের মধ্যেই কাশেম এ মন্তব্য করলেন। দেশটির কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ও আইনপ্রণেতা এ চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ এবং দেশের জন্য সম্ভাব্য ‘রক্ষাকবচ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে অন্যরা এটিকে ইসরায়েলের প্রতি একমুখী ছাড় হিসেবে নিন্দা করেছেন। চুক্তির বিরোধিতা করে বিক্ষোভ হয়েছে বৈরুতে।

ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা লড়াই বন্ধের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গত শুক্রবার ওই রূপরেখা চুক্তি সইয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতেরা যৌথভাবে এ চুক্তির ঘোষণা দেন।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার এবং লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদাহ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তবে চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি ওই কর্মকর্তারা।

চুক্তির বিষয়ে নাদা হামাদাহ বলেন, ‘লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা পুনরুদ্ধার, স্থায়ীভাবে বৈরিতার অবসান, বাস্তুচ্যুত মানুষের নিজভূমিতে ফিরে যাওয়া এবং সব লেবাননির শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির সঙ্গে বেঁচে থাকার পথে এ রূপরেখা চুক্তি একটি প্রথম পদক্ষেপ।’

অন্যদিকে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার বলেন, এ চুক্তির চূড়ান্ত লক্ষ্য, দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।

আরও পড়ুন

লেইটার আরও বলেছেন, ‘একটি প্রকৃত শান্তি হলো, যেখানে দুই দেশের মানুষই নিরাপদে বসবাস করবে এবং ইসরায়েল ও লেবানন পরস্পরের সার্বভৌমত্বকে সম্মান ও রক্ষা করবে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন পর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। এর মধ্য দিয়ে ইসরায়েল-লেবানন নতুন সংঘাতের সূত্রপাত হয়। পরে ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু এবং দেশটির কিছু এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

চলতি বছরের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এ সময় হিজবুল্লাহর হামলায় অন্তত ৩৭ ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও দ্রুত তা ভেস্তে যায়। এর আগেও বেশ কয়েকবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। কিন্তু মাঠপর্যায়ে সেগুলোর কোনোটিই কার্যকর হয়নি।

আরও পড়ুন