ইয়েমেনের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ, সৌদি হামলা অব্যাহত
সৌদি নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সামরিক জোট আজ বুধবার ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমের ঢালে প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে। ১৫টির বেশি বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। ঢালে প্রদেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা আইদারোস আল-জুবাইদির জন্মস্থান। এর আগে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক মহল স্বীকৃত সরকার প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি) আল-জুবাইদিকে বরখাস্ত করে এবং তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনে।
আমিরাত একটা সময় পর্যন্ত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের অংশ ছিল। কিন্তু পরে আমিরাত প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের শরিক সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলকে (এসটিসি) আলাদা করা সমর্থন ও অস্ত্র সরবরাহ দিতে শুরু করে। এটা নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের দ্বন্দ্ব ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসে। বিশেষ করে (এসটিসি) গত মাসে সৌদি সীমান্তবর্তী হাজরামাওত এবং এর পার্শ্ববর্তী মাহারা প্রদেশের কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করে। অবশ্য পরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও ইয়েমেনের মিত্র বাহিনী এসটিসির অগ্রযাত্রা ঠেকিয়ে দেয়।
এই পরিস্থিতিতে বুধবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে এক শান্তি আলোচনায় আইদারুস আল-জুবাইদির উপস্থিত থাকার কথা ছিল; কিন্তু তিনি শেষ পর্যন্ত সেখানে যাননি।
সৌদি জোট জানায়, আল–জুবাইদি আলোচনায় যোগ দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর ঢালে প্রদেশে বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হয়। একই সময়ে বড় ধরনের রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে আল–জুবাইদিকে বরখাস্তের ঘোষণা দেয় পিএলসি।
কয়েক সপ্তাহ ধরে এডেন এবং এর আশপাশের অঞ্চলে এসটিসি এবং সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর মধ্যে সহিংসতা বেড়েছে। এডেন ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সদর দপ্তর। ২০১৪ সালে বিদ্রোহী হুতিদের কাছে রাজধানী সানা হারানোর পর আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকার এডেনে নিজেদের সদর দপ্তর সরিয়ে নেয়।
সৌদি জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকি দাবি করেন, আল–জুবাইদি ‘অজানা স্থানে পালিয়ে গেছেন। এর আগে তিনি এডেনে নিজের অনুগত কয়েকটি গোষ্ঠীর কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ বিতরণ করেছেন।’ জোটের দাবি, আল-জুবাইদি যাতে সংঘাত বাড়াতে না পারেন এবং সংঘাত ঢালে প্রদেশে ছড়িয়ে না পড়ে, এ জন্য সেখানে হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি আরবের নেতৃত্বে ২০১৫ সালে গঠিত সামরিক জোটটি থেকে আমিরাত নিজেদের প্রায় সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
এসটিসির একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, আল-জুবাইদি রিয়াদে যাওয়া প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যোগ দিতে চাননি। কারণ, তিনি জানেন, তাঁকে তাঁর সংগঠন ভেঙে ফেলতে বলা হবে, যা পিএলসির অংশ।
পরে এসটিসি জানায়, রিয়াদে যাওয়া প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এটা নিয়ে তাঁরা ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। তারা বলেছে, আল-জুবাইদি ‘তাঁর দায়িত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন’ এবং সৌদি জোটকে বিমান হামলা বন্ধ করতে আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তাঁরা আলোচনা চালু চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। প্রসঙ্গত, আল-জুবাইদি এসটিসির ভাইস প্রেসিডেন্ট। বরখাস্ত করার আগে তিনি পিএলসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ছিলেন।