ইসরায়েলের ২ সেনা নিহত: পশ্চিম তীরে গাজার মতো অভিযানের প্রস্তুতি, শহরে শহরে তল্লাশি শুরু

পশ্চিম তীরের হেবরনের সড়কে সশস্ত্র ইসরায়েলি সেনারা। ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ছবি: এএফপি

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে গুলি করে দুই সেনা হত্যার জবাব দিতে ‘ব্যাপক অভিযান’ শুরু করেছে ইসরায়েল। সেখানকার উত্তরাঞ্চলে অন্তত ১৩টি শহরে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আটক করা হয়েছে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে।

পশ্চিম তীরের নাবলুস, জেনিন, তুবাস, কালকিলিয়াসহ কয়েকটি শহর এবং জনপদে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।

নাবলুসে অভিযান চালানোর পাশাপাশি কাছের জালুদ ও কারিউত গ্রামে ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। জেনিনের কাছে আরাবেহ ও বুরকিনেও আটকের খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তুবাস এবং কাছের আক্কাবা শহরে প্রবেশ করেছেন ইসরায়েলি সেনারা।

দক্ষিণাঞ্চলে হেবরনের এইন দেইর বাহা এবং আশপাশের এলাকাগুলোর শত শত ফিলিস্তিনি পরিবারকে অবিলম্বে বাড়িঘর ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

হেবরনে দুজন ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর গুলিতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তির বাড়িসহ ফিলিস্তিনিদের বেশ কিছু ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শহরের আল-জালদা এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে।

হেবরনে দুজন ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর গুলিতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তির বাড়িসহ ফিলিস্তিনিদের বেশ কিছু ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শহরের আল-জালদা এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে।

পশ্চিম তীরের পূর্বে জেরিকো শহর ও কাছের আকাবাত জাবর শরণার্থীশিবিরেও অভিযান চালানোর জন্য ঢুকেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

নেতানিয়াহুর কড়া হুমকি

পশ্চিম তীরে ‘ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ’ চালানোর হুমকি দিয়ে রেখেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গতকাল শুক্রবার তিনি বলেন, ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলাকারী দুই ফিলিস্তিনি যে এলাকা থেকে এসেছে, সেই এলাকার বাড়িঘর পুরোপুরি ‘ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে।

ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলাকারী দুই ফিলিস্তিনি যে এলাকা থেকে এসেছে, সেই এলাকার বাড়িঘর পুরোপুরি ‘ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী

নেতানিয়াহু আরও বলেন, পশ্চিম তীরে বড় ধরনের অভিযান চালাতে প্রস্তুত আছে ইসরায়েলি বাহিনী। পরে হেবরন সফর করেন নেতানিয়াহু। সেখানে তিনি বলেন, তিনি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ পশ্চিম তীরে অত্যন্ত বড় পরিসরে সামরিক অভিযান চালানোর কথা বিবেচনা করছেন।

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ‘১৯৬৭ সালের পর এমন অভিযান আর চালানো হয়নি।’

১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর দখল করে ইসরায়েল।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ফাইল ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রথম অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনী সেই এলাকায় প্রবেশ করবে, যেখান থেকে হামলাকারীরা এসেছিলেন। সেখানকার বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়া হবে। এরপর বাড়ি বাড়ি অভিযান চালিয়ে ‘সন্ত্রাসীদের অবকাঠামো’ ধ্বংস করা হবে।

আরও পড়ুন

গাজা-লেবাননের মতো অভিযান

নেতানিয়াহুর এমন ঘোষণার আগেই অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ।

অভিযান চালাতে হবে ‘ঠিক গাজা বা লেবাননের মতো’। সর্বাত্মক সামরিক অভিযান চালানো ছাড়া আর কোনো পথ নেই। এ অভিযানের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ভেঙে দিতে হবে, অস্ত্র সংগ্রহ করতে হবে এবং সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে হবে।

গতকাল স্মোট্রিচ বলেন, অভিযান চালাতে হবে ‘ঠিক গাজা বা লেবাননের মতো’। তিনি আরও বলেন, সর্বাত্মক সামরিক অভিযান চালানো ছাড়া আর কোনো পথ নেই। এ অভিযানের মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ভেঙে দিতে হবে, অস্ত্র সংগ্রহ করতে হবে এবং সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে হবে।

স্মোট্রিচ জানান, হামলাস্থলের আশপাশে থাকা সারি সারি স্থাপনা অবিলম্বে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ও কট্টরপন্থী নেতা ইতামার বেন-গভিরও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ‘ভেঙে দেওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছেন।

হেবরনে কী ঘটেছিল

হেবরনে গতকাল ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর গুলিতে ইসরায়েলি দুই সেনা নিহত হন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাঁরা উদ্ধারকারী ব্রিগেডের সদস্য ছিলেন।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, নিহত দুই সেনা হলেন স্টাফ সার্জেন্ট রন ইয়োনাতান রয়টম্যান ও সার্জেন্ট ইউভাল শাই স্ভিলেম।

গুলিতে একই ব্যাটালিয়নের আরও তিন সেনা সামান্য আহত হয়েছেন। পোস্টে আরও বলা হয়, আহত সেনাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এ সময় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি হামলাকারীও নিহত হন।

আগামী মঙ্গলবার ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন। এর মাত্র কয়েক দিন আগে এ হামলার ঘটনা ঘটল।

আরও পড়ুন

হামলার প্রশংসা হামাসের

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছিল ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। ওই হামলার পরই ফিলিস্তিনের গাজায় সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েল।

হেবরনে গতকালের গুলির ঘটনার প্রশংসা করেছে হামাস। একই সঙ্গে নিহত হামলাকারীদের জন্য শোক প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

হামাস সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছে, ‘পুরোপুরি সংগঠিত হোন। আগ্রাসনকারীদের পায়ের নিচের মাটিকে আগুনে পরিণত করুন।’

আরও পড়ুন