মোহাম্মদ এসলামি বলেন, যেমনটা খারাজি উল্লেখ করেছেন, পারমাণবিক বোমা তৈরির কারিগরি সামর্থ্য ইরানের আছে। কিন্তু এ ধরনের কোনো কর্মসূচি অ্যাজেন্ডায় নেই।

ইরান ইতিমধ্যে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে। বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ২০১৫ সালে করা তেহরানের চুক্তি অনুযায়ী ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে সীমিত রাখার চেয়ে এটি অনেক বেশি। পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রয়োজন হয়। যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ায় চুক্তিটি কার্যত এখন আর নেই।
২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পারমাণবিক চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেন। এই চুক্তির অধীন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়ার শর্তে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত রেখেছিল।

গতকাল রোববার ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ এসলামি বলেছেন, পারমাণবিক চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ কূটনীতিক জোসেপ বোরেলের প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে ইরান। এই আলোচনার দ্রুত সমাপ্তিও চেয়েছে তেহরান। বোরেল জানান, চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করতে তিনি একটি খসড়া নথি প্রস্তাব করেছিলেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানানি বলেন, ‘গত সপ্তাহে বার্তা আদান-প্রদান এবং প্রস্তাবিত নথি পর্যালোচনা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় পারমাণবিক আলোচনার নতুন পর্বের দিনক্ষণ নিয়ে অদূর ভবিষ্যতে আমরা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সক্ষম হব, এমন সম্ভাবনা রয়েছে।’

ভিয়েনায় তেহরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের মধ্যে ১১ মাসের পরোক্ষ আলোচনার পর গত মার্চে পুনরুজ্জীবিত চুক্তির বিস্তৃত রূপরেখার বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়।

তবে কিছু প্রতিবন্ধকতার কারণে এই আলোচনা ভেস্তে যায়। এসব প্রতিবন্ধকতার একটি হলো—ট্রাম্পের মতো পরবর্তী কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই চুক্তি পরিত্যাগ করতে পারবে না, ওয়াশিংটনের কাছে এমন নিশ্চয়তা দাবি করে তেহরান।

কিন্তু এই অঙ্গীকার করতে পারেন না বাইডেন। কারণ, পারমাণবিক চুক্তি বাধ্য-বাধকতাহীন একটি রাজনৈতিক বোঝাপড়া, আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক চুক্তি নয়।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন