ইরানি সভ্যতাকে মুছে ফেলার মার্কিন হুমকির মধ্যে ৭ এপ্রিল রাতে ঘুমাতে গিয়েছিলেন ইসরায়েলিরা। তবে মধ্যরাতেই তাঁরা এক অভাবনীয় খবর পান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই হুমকি দিয়েছিলেন, তিনি নিজেই এখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছেন।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো ১০টি শর্ত প্রকাশ করেছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, তারা এই শর্তগুলোর ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশ যেসব বিষয়ে আলোচনায় রাজি হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে—শত্রুতা পুরোপুরি বন্ধ করা, তেহরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যেতে দেওয়া এবং ইরানের মিত্রদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এ ছাড়া হামলায় ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ফি আদায়ের দাবিও রয়েছে এই তালিকায়।
সংঘাতের পরেও ইরানি শাসকদের পতন ঘটানো সম্ভব হয়নি। এমন অবস্থায় নেতানিয়াহু চেয়েছিলেন ইরানকে চূর্ণ করে মধ্যপ্রাচ্যের বড় শক্তি হিসেবে তার মর্যাদা কেড়ে নিতে।
যদি এসব শর্ত শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী চুক্তির ভিত্তি তৈরি করতে পারে, তাহলে তা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ইতি ঘটাতে পারে। নিউইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন বলছে, নেতানিয়াহু একাই এই যুদ্ধ শুরু করেছিলেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এতে টেনে এনেছিলেন। যুদ্ধের এমন পরিণতি তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
সোজা কথায়, শর্তগুলো মেনে নিলে ইরান আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবে। অথচ নেতানিয়াহু যখন গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে এই যুদ্ধ শুরু করেন, তাঁর লক্ষ্য ছিল এর ঠিক উল্টো।
আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে ইরান
যুদ্ধের শুরুতে নেতানিয়াহুর লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট। তিনি ইরানের শাসনব্যবস্থাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চেয়েছিলেন।
পরবর্তী সময়ে মার্কিন চাপের মুখে ইরান নতি স্বীকার না করে হামলা মোকাবিলা করতে থাকলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন।
তবে সংঘাতের পরেও ইরানি শাসকদের পতন ঘটানো সম্ভব হয়নি। এমন অবস্থায় নেতানিয়াহু চেয়েছিলেন ইরানকে চূর্ণ করে মধ্যপ্রাচ্যের বড় শক্তি হিসেবে তার মর্যাদা কেড়ে নিতে।
নেতানিয়াহু চেয়েছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিনিধি হবে ইসরায়েল। কিন্তু তার সেই স্বপ্নও পূরণ হয়নি।
ইরানের শাসনব্যবস্থা টিকে আছে এবং তারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে তেহরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং যেকোনো সময় নতুন করে পরমাণু কর্মসূচি শুরু করতে পারে। শুধু তা–ই নয়, বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান এখন মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হচ্ছে।
এই ঘটনাপ্রবাহ নেতানিয়াহুকে এক চরম বিপর্যয়ের বার্তা দিচ্ছে। কারণ, তিনি ইরানকে ইসরায়েল ও পশ্চিমা আধিপত্যের এক নম্বর শত্রু হিসেবে চিত্রায়িত করেছিলেন। ৩০ বছর ধরে তিনি ইরানকে ইসরায়েল ও বিশ্বের জন্য এক অস্তিত্ব রক্ষার হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
নিজের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে টেনে আনতে সফল হয়েছিলেন নেতানিয়াহু। কিন্তু সেই যুদ্ধের ফল হিসেবে ইরান এখন উল্টো মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর জন্য এটি অত্যন্ত কঠিন এক সময়। কারণ, এই পরিস্থিতি তার আগের অন্যান্য সাফল্যকেও এখন ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
ইরান ও ইসরায়েলের এই যুদ্ধের পরিণতি দীর্ঘ মেয়াদে কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে করা ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’ চুক্তিকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
ওই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিন ইস্যু এড়িয়ে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি কেবল নেতানিয়াহুর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরাজয় নয়। এটি তার এত দিনের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি বা ‘লেগাসি’র ওপর এক চরম আঘাত।
এই যুদ্ধে সেই আরব দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আলোচ্য ১০টি শর্ত গৃহীত হলে তারা এখন আরও শক্তিশালী এক ইরানের মুখোমুখি হবে। তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে পারস্য উপসাগরের জলপথ।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর ফলে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোকে এখন তেল, গ্যাস ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানির জন্য ধীরে ধীরে ইরানের সম্মতির ওপর নির্ভর করতে হবে।
নিজেদের ভূখণ্ডে ইরানি হামলার জবাবে কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নিতে না পারায় ইসরায়েলের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের জোটও কোনো কাজে আসেনি।
এখন মনে হচ্ছে, উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর প্রতিরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর পূর্ণ নির্ভরতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অঞ্চলটি ধীরে ধীরে মার্কিন নিয়ন্ত্রণ ও নির্ভরতা থেকে সরে আসতে পারে।
লেবানন, আরেকটি ব্যর্থতা
হিজবুল্লাহ ও লেবানন এখন নেতানিয়াহুর জন্য আরেকটি ব্যর্থতার নাম। কারণ, তিনি ও তাঁর সেনাবাহিনী দাবি করেছিলেন, লেবাননের এই সশস্ত্র সংগঠনটিকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে।
গাজায় হামাস নির্মূল হয়েছে কিংবা গত জুনের ১২ দিনের যুদ্ধে ইরান কুপোকাত হয়েছে—নেতানিয়াহুর এসব দাবি ইসরায়েলিরা বিশ্বাস করেনি। তবে তারা ঠিকই বিশ্বাস করেছিল, হিজবুল্লাহ পরাজিত হয়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জনগণের কাছে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতে ‘পূর্ণ বিজয়ের’ কথা প্রচার করেছিলেন।
ইসরায়েলিদের সে সময় জানানো হয়েছিল, সামরিক সংগঠন হিসেবে হিজবুল্লাহ শেষ হয়ে গেছে এবং তারা আর ইসরায়েলের জন্য কোনো হুমকি নয়। হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের নির্মূল করা হয়েছে এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে বলেও এ সময় দাবি করা হয়। তাদের বলা হয়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর উপস্থিতির বিরুদ্ধে লেবাননের সাধারণ মানুষ খেপে উঠেছে।
ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননে ক্রমাগত হামলা চালিয়ে গেলেও হিজবুল্লাহ কোনো পাল্টা জবাব দিচ্ছিল না। এতে তাদের শক্তি চরমভাবে কমে গেছে—এই ধারণা আরও পোক্ত হয়।
কিন্তু ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে হত্যার পর হিজবুল্লাহ যখন ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালাল, তখন সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও ভড়কে যায়।
ইসরায়েলের নর্দান কমান্ডের প্রধানের সঙ্গে উত্তরের বাসিন্দাদের একটি ফাঁস হওয়া কথোপকথন থেকে স্পষ্ট হয়, সেনাবাহিনীও হিজবুল্লাহর শক্তি সম্পর্কে চরম ভুল ধারণা পোষণ করেছিল।
যুদ্ধ শুরুর পর গত কয়েক সপ্তাহে হিজবুল্লাহ প্রতিদিন প্রায় ২০০ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, যা উত্তর ইসরায়েলকে কার্যত পর্যুদস্ত করে দিয়েছে।
এখন ইরান যুদ্ধবিরতির শর্তে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছে। এতে নেতানিয়াহু আরেকটি ব্যর্থতার শঙ্কায় ভীত হয়ে পড়েছেন।
ইরানের এই দাবি মেনে নেওয়া হলে হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতি ও ইরাকের মিলিশিয়াদের নিয়ে গঠিত ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ বা ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর অবস্থান আরও সুসংহত হবে।
ইরান ও লেবাননের যুদ্ধবিরতি একসঙ্গে কার্যকর হলে এই জোট প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে।
ইসরায়েলে এই জোট ‘শয়তানের অক্ষ’ নামে পরিচিত। বাস্তবতা হলো, ইরানের কারণেই এখন লেবানন যুদ্ধ থামাতে বাধ্য হচ্ছেন নেতানিয়াহু। ফলে তিনি হিজবুল্লাহকে আবারও হারিয়েছেন—এমন কথা বলে ইসরায়েলিদের, বিশেষ করে উত্তরের বাসিন্দাদের আর কোনোভাবেই আশ্বস্ত করতে পারবেন না তিনি।
এক অসম্ভব পরিস্থিতি
বিশ্বের এক নম্বর পরাশক্তিকে নিজের সঙ্গে যুদ্ধে নামিয়েও ইরান সরকারকে হঠাতে ব্যর্থ হয়েছেন নেতানিয়াহু।
নেতানিয়াহু হিজবুল্লাহকেও হারাতে পারেননি। কারণ, এই সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং ইরান—উভয়ই ইসরায়েলের ধারণার চেয়ে বেশি শক্তিশালী প্রমাণিত হয়েছে।
নেতানিয়াহুর জন্য এটি এখন এক অসম্ভব পরিস্থিতি।
এ সপ্তাহে ‘হারেৎজ’ পত্রিকার একজন সাংবাদিক লিখেছেন, ইরান হলো নেতানিয়াহুর ‘মোবি-ডিক’। হারমান মেলভিলের উপন্যাসের ক্যাপ্টেন আহাব যেমন প্রকাণ্ড তিমিটিকে ধ্বংস করার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, নেতানিয়াহুও ইরানকে ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইরানই তাঁকে ধ্বংস করে দিতে পারে। এটি একটি যথার্থ উপমা।
নিজেদের ভূখণ্ডে ইরানি হামলার জবাবে কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নিতে না পারায় ইসরায়েলের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের জোটও কোনো কাজে আসেনি।
যুদ্ধের সময় জনমত জরিপেও নেতানিয়াহু প্রত্যাশিত সমর্থন পাননি। অথচ সামনে নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে।
অধিকাংশ জরিপে নেতানিয়াহুর বর্তমান জোট ৫০টির মতো আসন পাচ্ছে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের চেয়ে অনেক কম।
ইরানের আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হওয়া এবং হিজবুল্লাহর নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু এখন তাঁর নিজের ডানপন্থী ভোটারদের ক্ষোভের মুখে পড়বেন।
নেতানিয়াহুর সমর্থকেরা একসময় তাঁকে ‘ঈশ্বরের পাঠানো দূত’ মনে করতেন। তাঁরা মনে করতেন, মধ্যপ্রাচ্যকে ইসরায়েলের পক্ষে তিনি বদলে দেবেন। তবে এখন শুধু তাঁর কট্টর অনুসারীরাই হয়তো এমন ধারণা পোষণ করেন।
ইসরায়েলি সমাজের অন্যান্য শ্রেণির মানুষের সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা আস্থার সম্পর্ক নতুন করে ফিরে পেতে নেতানিয়াহুকে চরম লড়াই করতে হবে।
যেসব ডানপন্থী ভোটার নেতানিয়াহুকে ছেড়ে গেছেন, তাঁরা আর ফিরে আসবেন না; বরং তাঁরা এখন ইসরায়েলের অন্য মধ্যপন্থী বা ডানপন্থী দলগুলোকে দিকে ঝুঁকবেন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি কেবল নেতানিয়াহুর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরাজয় নয়। এটি তাঁর এত দিনের রাজনৈতিক ভাবমূর্তির ওপর এক চরম আঘাত। কারণ, তাঁর এই ভাবমূর্তির মূলে ছিল মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো জায়গায় যখন খুশি হামলা চালানোর ইসরায়েলি স্বাধীনতা।
তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পরও ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে। ইরান একে যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন বলে দাবি করছে।
লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে ইরান ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। ফলে এই যুদ্ধবিরতি এখন বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
নিজের গদি রক্ষা ও ভাবমূর্তি বাঁচাতে নেতানিয়াহু এই যুদ্ধবিরতি নস্যাৎ করতে তাঁর সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করবেন। তিনি মূলত লেবাননে বোমাবর্ষণ চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও যুদ্ধে টেনে আনতে চান।
নেতানিয়াহুর জন্য এটি এক বড় ঝুঁকি। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে তাঁকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে দেখা হয়, যিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে ফুসলিয়ে এই যুদ্ধে নামিয়েছেন। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থায় আছেন।
সম্ভবত মার্কিন চাপের কারণেই গত বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহু লেবানন সরকারের সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন।
রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও ভাবমূর্তি রক্ষায় নেতানিয়াহু পিছু হটবেন না। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলি শক্তির যে নিষ্ঠুর দাপট তিনি দেখাতে চান, তা টিকিয়ে রাখতে তিনি যেকোনো সময় আলোচনা ভন্ডুল করে দিতে পারেন। এ লক্ষ্যে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধও শুরু করতে পারেন।