এর আগে তেহরানের বাইরে একটি কারাগারে আফগান নাগরিক সেনোবার জালালিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের সানানদাজ শহরে একটি কারাগারে ফাঁসি দেওয়া হয় সোহেলি আবেদি নামের এক নারীকে। মাত্র ১৫ বছর বয়সে সোহেলির বিয়ে হয়। বিয়ের ১০ বছর পর তিনি স্বামীকে হত্যা করেন। ২০১৫ সালে এ ঘটনায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।

পাঁচ বছর আগে স্বামীকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন ফারানাক বেহেস্তি নামের একজন নারী। তাঁকে উর্মিয়া শহরের উত্তর–পশ্চিমাঞ্চলের একটি কারাগারে ফাঁসি দেওয়া হয়।

ইরানের আইনে চাইলেই নারীরা দেশটিতে বিবাহবিচ্ছেদ করতে পারেন না। এমনকি নির্যাতনের শিকার হলেও নারীরা বিচ্ছেদ চাইতে পারেন না। গত বছর অক্টোবরে আইএইচআরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন বলছে, ২০১০ থেকে ২০২১ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত কমপক্ষে ১৬৪ নারীকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। আইএইচআরের হিসেবে এ বছরই ইরানে কমপক্ষে ৩০৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সাবেক বিচারপতি ইব্রাহিম রাইসি ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে ইরানে মৃত্যুদণ্ড বাড়ছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা। মানবাধিকার ইস্যুতে তাঁর অতীত নিয়ে পশ্চিমারা সমালোচনা করে আসছে। ইরানের শীর্ষস্থানীয় যে কয়েকজনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তাঁদের মধ্যে রাইসি অন্যতম।

ইরানে সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনার জন্য সাম্প্রতিক সপ্তাহে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ‘দেয়ার ইজ নো এভিল’ চলচ্চিত্রের পরিচালক মোহাম্মদ রসুলফ। ইরানে মৃত্যুদণ্ডের প্রতিক্রিয়া নিয়ে তাঁর নির্মিত এই চলচ্চিত্র ২০২০ সালে বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে গোল্ডেন বিয়ার পুরস্কার জেতে।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন