হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত দিল ইরান, কী চায় তেহরান

ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ অবাধে চলাচল করতে পারত। ৩১ আগস্ট, ২০২৬ফাইল ছবি: রয়টার্স

যুদ্ধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে কার্যত বন্ধ আছে হরমুজ প্রণালি। এবার বিশ্ববাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথ খুলে দিতে বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এ কথা জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে এসব শর্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আরাগচি এখন নিউইয়র্কে আছেন। সেখানেই গতকাল মঙ্গলবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেন।

আরও পড়ুন

ইরানি রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের খবর, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে উইটকফের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের শর্তগুলো জানিয়েছেন আরাগচি।

এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অবিলম্বে তুলে নেওয়া, ইরানের জব্দ করা সম্পদ অবিলম্বে অবমুক্ত করা এবং সব কটি ‘প্রতিরোধ ফ্রন্টে’ যুদ্ধের অবসান ঘটানো।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এ যুদ্ধ শুরুর পরপর তেহরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়।

আরও পড়ুন

অথচ যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট উৎপাদিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) পাঁচ ভাগের এক ভাগ এ জলপথ দিয়েই সরবরাহ করা হতো।

পরে ইরান অভিমুখী ও দেশটির বন্দরগুলো থেকে ছেড়ে আসা জাহাজের চলাচল এবং বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

যদিও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান ছাড়া অন্যান্য দেশের বন্দরগুলোয় চলাচলকারী নৌযানগুলোর অবাধ যাতায়াতের স্বাধীনতা রক্ষা করবে তারা।

আরও পড়ুন

তবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। জ্বালানির বৈশ্বিক বাজারে পণ্যের দাম বহুলাংশে বেড়ে গেছে। আর জ্বালানির বাড়তি দামে সংকটে পড়েছে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি।