কাবা শরিফ কোন কাপড়ে কেন ঢেকে রাখা হয়, কী আছে ভেতরে

হজ পালনের আগে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর মসজিদুল হারামের কাবার দরজা স্পর্শ করতে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন মুসল্লিরা। ২২ মে ২০২৬ছবি: রয়টার্স

সৌদি আরবের স্থানীয় সময় ৮ জিলহজ থেকে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। হজ আদায়ের জন্য চলতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৫ লাখের বেশি মুসলিম মক্কায় সমবেত হয়েছেন। জীবনে সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের জীবনে অন্তত একবার হজ আদায় করা ফরজ। অধিকাংশ মুসলিমের জীবনে এক পরম চাওয়া।

সব মিলিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা পাঁচ দিনে শেষ হয়। হজের অংশ হিসেবে হাজিরা পবিত্র কাবা শরিফ জিয়ারত করেন এবং ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে তা সাতবার প্রদক্ষিণ করেন, যা তওয়াফ নামে পরিচিত।

কাবা শরিফ কিসওয়া নামক একটি কালো কাপড়ে ঢাকা থাকে, যার ওপর সোনার সুতা দিয়ে পবিত্র কোরআনের আয়াত লেখা থাকে।

কাবা শরিফ, এর অভ্যন্তরীণ অংশ এবং এর আবরণ সম্পর্কে কিছু তথ্য সংক্ষেপে জেনে নেওয়া যাক।

কাবা কী

আরবিতে কাবা শব্দের অর্থ ঘনক বা চতুষ্কোণ ঘর। এটি ইসলামের পবিত্রতম স্থান এবং মক্কার মসজিদুল হারামের মাঝখানে অবস্থিত।

সারা বিশ্বের মুসলিমরা প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় কাবার দিকে মুখ করে দাঁড়ান, যা কিবলা নামে পরিচিত। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তেই হোক না কেন, নামাজের মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষ এক কাতারে শামিল হন।

কাবা শরিফের উচ্চতা ১৩ দশমিক ১ মিটার (৪৩ ফুট), দৈর্ঘ্য ১২ দশমিক ৮ মিটার (৪২ ফুট) এবং প্রস্থ ১১ দশমিক শূন্য ৩ মিটার (৩৬ ফুট)।

বর্তমানে কিসওয়া তৈরির জন্য ইতালি থেকে আমদানি করা রেশম প্রথমে বিশেষ ডিটারজেন্ট ও অলিভ অয়েল সাবান মিশ্রিত ঠান্ডা পানি দিয়ে ধোয়া হয়, যাতে সুতা থেকে প্রাকৃতিক মোম দূর করা যায়।
মেনসুদ দুলোভিচ, অধ্যাপক, গাজী হুসরেভ-বেগ মাদ্রাসা

কাবার ইতিহাস কী

মুসলিমরা বিশ্বাস করেন, কাবা মূলত আল্লাহর আদেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) এবং তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) ইবাদতগৃহ হিসেবে নির্মাণ করেছিলেন। পবিত্র কোরআন শরিফে একাধিকবার কাবার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাইলের (আ.) কাবার ভিত্তি স্থাপনের মুহূর্তটির কথাও কোরআন শরিফে উল্লেখ রয়েছে।

ইসলামের আবির্ভাবের আগে কাবা ছিল আরবের বিভিন্ন গোত্রের উপাসনার স্থান। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় হিজরত করার আট বছর পর ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে মক্কায় ফিরে আসার পর এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে।

আরবিতে কাবা শব্দের অর্থ ঘনক বা চতুষ্কোণ ঘর। এটি ইসলামের পবিত্রতম স্থান এবং মক্কার মসজিদুল হারামের মাঝখানে অবস্থিত।

মুহাম্মদ (সা.) কাবার ভেতর থেকে সব মূর্তি অপসারণ করেন এবং একে এক আল্লাহর ইবাদতের স্থানে পরিণত করেন। মক্কায় প্রতিবছর হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ২ কোটির বেশি মানুষ আসেন।

কাবার দেয়াল স্পর্শ করছেন এক মুসল্লি। ২২ মে ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

কাবার ভেতরে কী আছে

কাবা শরিফের উত্তর-পূর্ব দিকে একটি সোনার দরজা রয়েছে, যা ভূমি থেকে দুই মিটারেরও (সাড়ে ছয় ফুট) বেশি উঁচুতে অবস্থিত। ২৮০ কেজি খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি এই দরজার উচ্চতা ৩ দশমিক ১ মিটার (১০ ফুট) এবং প্রস্থ ১ দশমিক ৯ মিটার (৬ ফুট)।

কাবার ভেতরের অংশ আনুষ্ঠানিকভাবে ধোয়ার জন্য সাধারণত বছরে দুবার দরজা খোলা হয়। কাবার ভেতরের অংশটি অত্যন্ত সাধারণ— ছাদকে ধরে রাখার জন্য তিনটি কাঠের স্তম্ভ এবং ছাদে ওঠার জন্য একটি সিঁড়ি রয়েছে। এর মেঝে ও দেয়াল মার্বেল পাথর দিয়ে মোড়ানো এবং সিলিং বা ছাদ থেকে লণ্ঠন ঝোলানো।

কাবার ভেতরের দেয়ালের কিছু অংশ কাপড়ে ঢাকা থাকে। ঐতিহাসিকভাবে এই কাপড়গুলো লাল, সবুজ ও গাঢ় নীল রঙের এবং আঁকাবাঁকা নকশার হয়ে থাকে।

কিসওয়া কী

কিসওয়া হলো কালো রেশমি কাপড়, যা কাবা শরিফকে ঢেকে রাখে। কিসওয়া আরবি শব্দ। এর শব্দমূল হলো কাফ, সিন এবং ওয়াও। কিসওয়া শব্দের অর্থ ঢাকা বা আবৃত করা। মূলত, যেকোনো ধরনের পোশাক বা আবরণ বোঝাতে শব্দটি ব্যবহার করা হতো। কালক্রমে শব্দটি বিশেষভাবে কাবার আবরণের সঙ্গে জড়িয়ে যায়।

ইসলামের প্রাথমিক যুগে আরব অঞ্চল খেলাফতের কেন্দ্রবিন্দু থাকলেও কিসওয়া তৈরি হতো মিসরে। সেই সময় মিসরের দামিয়েত্তা ও অন্যান্য স্থানে রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত ‘তিরাজ’ কারখানায় উন্নত টেক্সটাইল শিল্প গড়ে উঠেছিল। সেখানেই কিসওয়া বোনা ও প্রস্তুত করা হতো।
ক্যারল বিয়ার, গবেষণা সহযোগী, জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি

দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে কিসওয়া গিলাফ নামে পরিচিত। ফার্সি গিলাফ শব্দের অর্থও কিসওয়ার অনুরূপ: ঢাকনা, আবরণ বা পর্দা।

হজের সময় কিসওয়ার নিচের অংশটি সযত্নে ওপরে তুলে রাখা হয়। মূলত বিপুলসংখ্যক হাজি কাবার কাছাকাছি যেতে এবং বরকত লাভের আশায় এটি স্পর্শ করার চেষ্টা করেন। তাই, কাপড়টি সুরক্ষিত রাখতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

হজের আগে কাবাকে ঘিরে তাওয়াফ করছেন মুসল্লিরা। ২২ মে ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

কিসওয়ার প্রধান অংশ হলো কালো রেশমি কাপড়, ঐতিহাসিকভাবে কেবল এই অংশটিকে কিসওয়া বলা হতো। এর উচ্চতা ১৪ মিটার (৪৫ ফুট)। এটি ৪৭টি আলাদা কাপড়ের টুকরা দিয়ে তৈরি।

বর্তমানে একটি কিসওয়া তৈরির আনুমানিক খরচ আড়াই কোটি সৌদি রিয়াল (৮১ কোটি ৬৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা) ছাড়িয়ে যায়।

কাবা শরিফের দেয়ালের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ উচ্চতায় কারুকার্যখচিত একটি বেল্ট বা পট্টি রয়েছে, যা হিজাম নামে পরিচিত। এটি প্রস্থে ৯৫ সেন্টিমিটার (৩৭ ইঞ্চি) এবং দৈর্ঘ্যে ৪৭ মিটার (১৫৪ ফুট)।

কাবার দরজার ওপর একটি পর্দা ঝোলানো থাকে, যা সিতারা বা বোরকা নামে পরিচিত। এটি কিসওয়ার সবচেয়ে সুসজ্জিত অংশ।

কাবা কেন ঢেকে রাখা হয়

প্রচলিত বিশ্বাস মতে, কাবা শরিফকে সুরক্ষিত, সম্মানিত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত রাখার উদ্দেশ্যে ঢেকে রাখা হয়। কাবার গায়ে সর্বপ্রথম কে কিসওয়া জড়িয়েছিলেন, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

তবে অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে, ইসলাম-পূর্ব যুগে এই ঐতিহ্যের সূত্রপাত। অনেকে মনে করেন, ইয়েমেনের রাজা তুব্বা আস’আদ কামিল ৪০০ খ্রিষ্টাব্দে ইয়েমেনের বিশেষ কাপড় দিয়ে সর্বপ্রথম কাবা ঢেকে দিয়েছিলেন।

অন্য এক মতানুসারে, হজরত ইসমাইল (আ.) নিজেই প্রথম কাবা ঢেকেছিলেন। তবে এর পক্ষে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ নেই। উসমানী আমলে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় প্রতিষ্ঠিত গাজী হুসরেভ-বেগ মাদ্রাসার কোরআনবিষয়ক অধ্যাপক এবং ‘এ গাইড থ্রু মক্কা আল-মুকাররমা’ বইয়ের লেখক মেনসুদ দুলোভিচ আল–জাজিরাকে বলেন, ‘তিনি যদি কোনো আবরণ দিয়েও থাকেন, তবে তা সম্ভবত পুরো কাঠামোর পরিবর্তে কাবার একটি নির্দিষ্ট অংশে সীমাবদ্ধ ছিল।’

কিসওয়া কোন উপাদানে তৈরি

বর্তমানে কিসওয়া প্রাকৃতিক রেশম দিয়ে তৈরি করা হয়। তবে ইতিহাসজুড়ে কাবা ঢাকতে বিভিন্ন ধরনের উপাদান ব্যবহৃত হয়েছে।

প্রথম দিকের কিসওয়াগুলো সাধারণত লিনেন, তুলা ও পশমের মতো প্রাকৃতিক তন্তু দিয়ে তৈরি করা হতো।

কিছু ঐতিহাসিক সূত্রে ইসলাম-পূর্ব যুগে কিসওয়া হিসেবে চামড়ার ব্যবহারের কথাও উল্লেখ আছে।

উপাদান বাছাই ও কিসওয়া কোথায় তৈরি হবে, তা সেই ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ের সহজলভ্য তন্তু ও মুসলিম শাসকদের প্রভাব ও পছন্দের ওপর নির্ভর করত। ওয়াশিংটন ডিসির জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল মিউজিয়ামের গবেষণা সহযোগী ক্যারল বিয়ার আল–জাজিরাকে বলেন, ‘এটি বহুলাংশে খেলাফতের ওপর নির্ভর করত।’

বিষয়টি ব্যাখ্য করে বিয়ার বলেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগে আরব অঞ্চল খেলাফতের কেন্দ্রবিন্দু থাকলেও কিসওয়া তৈরি হতো মিসরে। সেই সময় মিসরের দামিয়েত্তা ও অন্যান্য স্থানে রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত ‘তিরাজ’ কারখানায় উন্নত টেক্সটাইল শিল্প গড়ে উঠেছিল। সেখানেই কিসওয়া বোনা ও প্রস্তুত করা হতো।

তৈরি শেষে জিলহজ মাসের শুরুতে একটি আনুষ্ঠানিক কাফেলার মাধ্যমে কিসওয়া কাবার উদ্দেশ্যে পাঠানো হতো।

কাবার পূর্ব কোণে অবস্থিত হাজরে আসওয়াদ। ২৩ মে ২০২৬
ছবি: এএফপি

বিয়ার ভাষ্যমতে, ‘কাবাকে আবৃত করা ছিল অত্যন্ত ভক্তি ও শ্রদ্ধার একটি কাজ। কারণ, কাবাই হলো হজের মূল কেন্দ্র এবং একে ঘিরেই তওয়াফ সম্পন্ন হয়।’

পরবর্তী সময়ে উমাইয়া খেলাফতের আমলে দামেস্কে, আব্বাসীয় আমলে বাগদাদে এবং ইয়েমেনেও কিসওয়া তৈরি করা হয়েছে। এরপর আইয়ুবীয়, মামলুক এবং উসমানীয় সাম্রাজ্যের অবসানের পর কিসওয়া তৈরির দায়িত্ব আসে সৌদি আরবের আল-সৌদ পরিবারের কাছে।

কিসওয়ার ওজন ও উৎপাদন খরচ কত

বর্তমানে কিসওয়া তৈরিতে প্রায় ৬৭০ কেজি প্রাকৃতিক রেশম ব্যবহৃত হয়। এর ওপর প্রায় ১২০ কেজি ২৪ ক্যারেট সোনার সুতা এবং ১০০ থেকে ১২০ কেজি রুপার সুতা দিয়ে কারুকাজ করা হয়।

মক্কার কিসওয়া কারখানায় ২৪০ জনের বেশি কর্মী আধুনিক প্রযুক্তি, ঐতিহ্যবাহী তাঁত এবং আরবি ক্যালিগ্রাফি পদ্ধতির সমন্বয়ে এই গিলাফ তৈরি করেন।

লেখক মেনসুদ দুলোভিচ বলেন, কিসওয়া তৈরির প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সতর্ক কয়েকটি ধাপের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ইতালি থেকে আমদানি করা রেশম প্রথমে বিশেষ ডিটারজেন্ট ও অলিভ অয়েল সাবান মিশ্রিত ঠান্ডা পানি দিয়ে ধোয়া হয়, যাতে সুতা থেকে প্রাকৃতিক মোম দূর করা যায়।’

কাতারের দোহায় অবস্থিত মিউজিয়াম অব ইসলামিক আর্টে প্রদর্শিত কাবার অভ্যন্তরের সবুজ কিসওয়ার একটি অংশ
ছবি: আল–জাজিরা থেকে স্ক্রিনশট

এরপর রেশমটিকে প্রায় ৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার গরম পানিতে কয়েকবার ধুয়ে এর প্রাকৃতিক রং ফিরিয়ে আনা হয়। সবশেষে কালো রঙে রঞ্জিত করা হয়।

কিসওয়ার আগের সংস্করণগুলো তুলনামূলক কম জমকালো ছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে বর্তমানে একটি কিসওয়া তৈরির আনুমানিক খরচ আড়াই কোটি সৌদি রিয়াল (৮১ কোটি ৬৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা) ছাড়িয়ে যায়।

কিসওয়ায় কী লেখা থাকে

কিসওয়ার গায়ে পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াত ও দোয়া খচিত থাকে। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামের মূল ঘোষণা কালিমা শাহাদাত, হজের বিধান–সম্পর্কিত কোরআনের আয়াত, কাবার পবিত্রতা এবং আল্লাহর মহিমা ও জিকিরসংবলিত বিভিন্ন বাক্য।

গিলাফ পরিবর্তনের অনুষ্ঠানের সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের মাঝেমধ্যে কিসওয়ার ছোট ছোট টুকরো উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। এমন সব অংশ তাঁদের দেওয়া হয়, যার বস্তুগত মূল্য খুব বেশি নয়। এই বিতরণপ্রক্রিয়ার কারণে কিসওয়ার কিছু অংশ শেষ পর্যন্ত খোলা বাজারে চলে আসে।
এস্মির হালিলোভিচ, অধ্যাপক, জেনিকা বিশ্ববিদ্যালয়

কিসওয়া কি সব সময় কালো ছিল

ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে কিসওয়ার রঙের পরিবর্তন দেখা গেছে। বিভিন্ন সময়ে সাদা, সবুজ, হলুদ ও কালো রঙের কাপড় ব্যবহৃত হয়েছে।

ক্যারল বিয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, সিরিয়ায় তৈরি কিসওয়াগুলো লাল, সবুজ, হলুদ ও সাদা রঙের হতো। ইসলামি শিল্পকলায় এসব রঙের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।

কাবার চত্বরে প্রবেশ করছেন নারী মুসল্লিরা।২৩ মে ২০২৬
ছবি: এএফপি

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ইসলামি বা মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর রঙের দিকে একবার তাকান। দেখবেন সেখানে লাল, হলুদ, সবুজ ও সাদা রঙের প্রাধান্য রয়েছে।

ক্যারল বিয়ার আরও জানান, আব্বাসীয় আমলে কিসওয়ার জন্য কালো রংকে একটি বিশেষ পরিচয় হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। তবে ইসলাম-পূর্ব যুগে ইয়েমেনে তৈরি কিসওয়াগুলো সম্ভবত ডোরাকাটা কাপড়ের ছিল। কারণ, দেশটির কাপড় সাধারণত ডোরাকাটা হতো।

বিয়ারের কথায়, ‘সেই প্রাথমিক কিসওয়াগুলো সম্ভবত লাল ও সবুজ রঙের ডোরাকাটা ছিল এবং সেগুলো ছিল পশমের তৈরি।’

কিসওয়া কত দিন পরপর পরিবর্তন করা হয়

কিসওয়া বছরে একবার পরিবর্তন করা হয়। একদল বিশেষজ্ঞ কর্মী কাবার পুরোনো গিলাফ সরিয়ে নতুনটি পরানোর দায়িত্ব পালন করেন।

অনেকে মনে করেন, ইয়েমেনের রাজা তুব্বা আস’আদ কামিল ৪০০ খ্রিষ্টাব্দে ইয়েমেনের বিশেষ কাপড় দিয়ে সর্বপ্রথম কাবা ঢেকে দিয়েছিলেন।

পুরোনো কিসওয়াটি খুলে ফেলার পর তা যে কারখানায় তৈরি হয়েছিল, সেখানে ফেরত পাঠানো হয়।

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার জেনিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি শিক্ষার অধ্যাপক এস্মির হালিলোভিচ আল–জাজিরাকে বলেন, সেখানে কিসওয়াটি ‘সংরক্ষণ ও বিতরণের একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়, যা কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়।’

মিসরের রাজধানী কায়রোতে উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে সুলতান আবদুল মজিদের জন্য তৈরি রুপার সুতা ও রেশমে সূচিকর্ম করা কাবার দরজার পর্দা (সিতারা)। বর্তমানে এটি কাতারের দোহায় অবস্থিত মিউজিয়াম অব ইসলামিক আর্টে প্রদর্শিত হচ্ছে
ছবি: আল–জাজিরা থেকে স্ক্রিনশট

হালিলোভিচ আরও জানান, কিসওয়ার সবচেয়ে মূল্যবান অংশগুলো—যেমন সোনা বা রুপার সুতার কারুকাজ, কোরআনের আয়াত বা নকশা করা প্যানেলগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কেটে সংরক্ষণ করা হয়। এসব অংশ প্রায় সময় বিভিন্ন জাদুঘরে দান করা হয় অথবা সৌদি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদনকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়। বাকি অংশগুলো ছোট ছোট টুকরা করে কেটে সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন সংস্থা এবং সৌদি আরবে নিযুক্ত বিদেশি দূতাবাসগুলোর প্রতিনিধিদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

কায়রো থেকে মক্কায় কাবার কিসওয়া বহনকারী বার্ষিক শোভাযাত্রার সঙ্গে থাকা অলংকৃত আনুষ্ঠানিক প্যাভিলিয়ন ‘মাহমাল’ থেকে সংগৃহীত সূচিকর্মখচিত একটি বস্ত্র
ছবি: আল-জাজিরা থেকে স্ক্রিনশট

এ ছাড়া গিলাফ পরিবর্তনের অনুষ্ঠানের সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের মাঝেমধ্যে কিসওয়ার ছোট ছোট টুকরা উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। এমন সব অংশ তাঁদের দেওয়া হয়, যার বস্তুগত মূল্য খুব বেশি নয়।

হালিলোভিচ বলেন, এই বিতরণ প্রক্রিয়ার কারণে কিসওয়ার কিছু অংশ শেষ পর্যন্ত খোলা বাজারে চলে আসে। মাঝেমধ্যে অনলাইনেও বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখা যায়।