যে ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তাঁর নাম-পরিচয় জানানো হয়নি। তবে ইরানের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে বলা হয়, একটি সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ, জনশৃঙ্খলা বিঘ্ন, জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনে ষড়যন্ত্র, দুনিয়ায় দুর্নীতি, স্রষ্টার বিরুদ্ধতার অপরাধে ওই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

কঠোর বিধি মেনে হিজাব না পরার অভিযোগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর মাসাকে তেহরান থেকে আটক করে ‘নীতি-পুলিশ’। আটকের পর পুলিশি হেফাজতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে তেহরানের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

নির্যাতনে মাসার মৃত্যু হয়েছে দাবি করে ইরানের মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে এই বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

চলমান বিক্ষোভে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অন্তত ৩২৬ জন নিহত হয়েছেন। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) গত শনিবার এ তথ্য দিয়েছে।

চলমান বিক্ষোভকে ‘দাঙ্গা’ হিসেবে অভিহিত করছে ইরানের কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভ থামাতে ধরপাকড়সহ দমনপীড়ন চালাচ্ছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

তেহরানের অপর একটি আদালত জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনে ষড়যন্ত্র, সমাবেশ ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নের দায়ে পাঁচ ব্যক্তিকে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে বলা হয়, যাঁরা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তাঁরা সবাই তাঁদের দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।

সাম্প্রতিক ‘দাঙ্গায়’ জড়িত থাকার জন্য গতকাল ইরানের বিচার বিভাগ দেশটির তিনটি প্রদেশের ৭৫০ জনের বেশি মানুষকে অভিযুক্ত করেছেন। বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি স্থানীয় গণমাধ্যম এসব তথ্য দিয়েছে।

ইরানের বিচার বিভাগের পরিসংখ্যান অনুসারে, মাসার মৃত্যুর জেরে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের প্রায় অর্ধেক ব্যক্তি রাজধানী তেহরানের বাসিন্দা।

মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, মাসার মৃত্যুর পর বিক্ষোভের জেরে প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে আটক করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। তবে ইরান এই দাবি অস্বীকার করছে।