আরও ৩ মার্কিন স্থাপনায় হামলা
ইরানে হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রেও ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে। সৌদি আরবের রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে গতকাল মঙ্গলবার হামলা হয়েছে। এদিন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এবং কাতারের মার্কিন সেনাদের ওপরও হামলা চালিয়েছে ইরান। গত শনিবার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত নয়টি মার্কিন স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হানল। এমন পরিস্থিতিতে অঞ্চলটির তিনটি দেশে মার্কিন দূতাবাস বন্ধ করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রেও ইরান যুদ্ধে জড়ানো নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে।
বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতারা বলছেন, অপ্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে নিয়ে গেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরান ইসরায়েলের জন্য হুমকি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তা নয়। তাছাড়া ইরানে হামলা চালালে পরিণতি কী হবে, সেটা না ভেবেই এই যুদ্ধে জড়িয়েছেন ট্রাম্প। যুদ্ধের শেষ কীভাবে হবে, সে বিষয়েও মার্কিন প্রেসিডেন্টের কোনো ধারণা নেই।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও বেশির ভাগ আমেরিকান ইরানে হামলার বিপক্ষে অবস্থান অবস্থান জানিয়েছেন।
গতকাল ছিল যুদ্ধের চতুর্থ দিন। এদিন রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলার পর ওই দূতাবাসসহ কুয়েত ও লেবাননের দূতাবাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে মধ্যপ্রাচ্যের ১৪টি দেশ ও অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সরে যেতে বলেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পর কীভাবে তাঁরা সরে যাবেন, তা উল্লেখ করা হয়নি।
চলমান যুদ্ধের মধ্যে গতকালও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশটিতে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮৭। এমন পরিস্থিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করলে ‘জ্বালিয়ে’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধও তীব্র হয়েছে। ইসরায়েলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর তারা মধ্যপ্রাচ্যের ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে সোমবার পর্যন্ত বাহরাইন, ইরাক ও আরব আমিরাতে মার্কিন বাহিনীর তিনটি স্থাপনা এবং কুয়েতে তিনটি স্থাপনায় ইরানের হামলা আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। গতকাল কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের আরিফজান ঘাঁটিতে এবং আমিরাতে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা হয়েছে।
এসব ঘাঁটিতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র। তবে যুদ্ধ চলাকালে কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ছয় সেনা নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এ ছাড়া কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। আরব সাগরে অবস্থান করা মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনেও হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে দুটি ড্রোন আঘাত হানে গতকাল সকালে। এ সময় সেখানে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর পরপরই দূতাবাস ভবনে আগুন ধরে যায়। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ড্রোনের আঘাতে দূতাবাসে সামান্য ক্ষতি হয়েছে। তবে সেখানে কেউ হতাহত হননি বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে দুটি সূত্র। এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে সৌদি সরকার।
শনিবার থেকে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছিল ইরান। এই প্রথম সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে হামলা হলো। এই পরিস্থিতিতে বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, আরব আমিরাত, সিরিয়া, ইয়েমেন এবং ফিলিস্তিনের গাজা ও পশ্চিম তীর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সরে যেতে বলেছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনার ওপর এমন হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে সংকটের মধ্যেই গতকাল রাতে হোয়াইট হাউসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা খুবই ভালো করছি।’ আর যুদ্ধের পর ইরানের সাবেক শাহের ছেলে রেজা পাহলভি নয়, বরং ইরানের ভেতরের কেউ দেশটির নেতৃত্ব দিলে ভালো হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
‘সব জায়গায় ধোঁয়া আর রক্ত’
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা এবং সরকার পতন। এরই মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির ৪৯ জন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে হত্যার দাবি করেছে ওয়াশিংটন। আর চলমান যুদ্ধে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতায় রাশ টেনে ধরার দাবি করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী।
গতকালও দফায় দফায় রাজধানী তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা হয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বলছে, চার দিন ধরে ইরানের অন্তত ১৫৩টি শহরে হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। দেশ দুটির যৌথ হামলা আঘাত হেনেছে ইরানের ৫০৪টি স্থানে। এই সময়ে দেশটিতে ১ হাজার ৩৯টি হামলা চালানো হয়েছে। এতে নিহত হয়েছেন অন্তত ৭৮৭ জন ইরানি।
যুদ্ধ শুরুর পরদিন গত রোববার থেকে সবচেয়ে বেশি হামলা হচ্ছে তেহরান লক্ষ্য করে। শহরটির ৩২ বছর বয়সী বাসিন্দা বিজান টেলিফোনে রয়টার্সকে বলেন, ‘এটি (যুদ্ধ) কত দিন ধরে চলবে? আমাদের নিরাপদ আশ্রয় কোথায়? সরকার কোথায়? প্রতি রাতে আমি আর আমার স্ত্রী বাড়ির ভূগর্ভস্থ কক্ষে লুকিয়ে থাকি। পুরো শহর খালি হয়ে গেছে। সব জায়গায় ধোঁয়া আর রক্ত।’
ইরানের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গতকাল তেহরানে ইরানের পুরোনো পার্লামেন্ট ভবন হামলার শিকার হয়। এর আশপাশে ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন স্থান ও জাদুঘর রয়েছে। হামলায় তেহরানে জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় থাকা ‘গোলেস্তান প্রাসাদের’ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের কার্যালয়েও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
তেহরানের বাইরে ইরানের ইসফাহান ও সিরাজ শহরেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ ছাড়া বুশেহর প্রদেশে আইআরজিসির পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, গতকাল তারা আইআরজিসির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করেছে। তবে এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করেনি তারা।
এর আগে ইরানে হামলা শুরুর দিন শনিবার দেশটির মিনাব শহরে মেয়েদের একটি স্কুলে হামলায় অন্তত ১৬৫ জন নিহত হন। গতকাল তাঁদের অনেকের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। এ নিয়ে এক বিবৃতিতে ইউনেসকো বলেছে, এই হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন। আর স্কুল, হাসপাতালসহ বেসামরিক স্থাপনায় হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।
ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে হামলা
ইরানে হামলা শুরুর আগে দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি জোরদার করার পর আলোচনায় কিছুটা ছাড় দেওয়ার আভাস দিয়েছিল তেহরান। তবে এখন আর নরম হতে রাজি নয় দেশটি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই বলেছেন, ‘শয়তানের’ বিরুদ্ধে এখন একমাত্র তাঁর দেশই দাঁড়িয়ে আছে।
শয়তান বলতে ইসমাইল বাগাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে বুঝিয়েছেন। বাস্তবেও দুই দেশের ব্যাপক হামলার মুখে পিছু হটেনি ইরান।
গতকালও ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলের পেতাহ তিকভা শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ আঘাত হানে। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। এ দিন তেল আবিবে ইরানের ছোড়া রকেটের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে আহত হন এক ইসরায়েলি পুলিশ।
এ ছাড়া আগের দিনগুলোর মতো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি থাকা বিভিন্ন দেশেও হামলা চালিয়েছে তেহরান। এ দিন রিয়াদের মার্কিন দূতাবাসে হামলা ছাড়াও দেশটির আল খারজ শহরে আটটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সৌদি বাহিনী।
গতকাল আরব আমিরাতে ইরানের একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ফুজাইরাহ তেল শিল্পাঞ্চলে আগুন ধরে যায়। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর সেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩। এ দিন ওমানের দাকম বাণিজ্য বন্দরে একটি জ্বালানি তেলের ট্যাংকে ড্রোন হামলা চালানো হয়। বাহরাইনেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি।
কবে থামবে যুদ্ধ
যুদ্ধ চার দিন গড়ালেও কবে এর শেষ হবে, তার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। ট্রাম্প বলছেন, চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ—প্রয়োজন পড়লে আরও বেশি সময় লাগবে। আর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষ্য, এই যুদ্ধ বছরের পর বছর ধরে চলবে না। অন্যদিকে যুদ্ধের সময়সীমা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে বলে উল্লেখ করেছেন ইসরায়েলের সেনা কর্মকর্তা নাদাভ শশানি।
তবে রয়টার্সকে একটি সূত্র জানিয়েছে, দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছিল ইসরায়েল। তবে আশার চেয়ে দ্রুত সাফল্য পাচ্ছে দেশটি। এরই মধ্যে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করা হয়েছে। ইসরায়েল দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে চাইছে। কারণ, একটি আশঙ্কা রয়েছে যে ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে সমঝোতায় বসে নিজেদের অভিযান শেষ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই সমঝোতায় যাবে বলে দেশটির কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছে না। কারণ, যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে ওয়াশিংটন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হায়োমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ১৫টি জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েন করেছে তারা। এই উড়োজাহাজগুলো যুদ্ধবিমানে উড়ন্ত অবস্থায় জ্বালানি সরবরাহ করতে পারে।
ভিয়েনাভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুস্তাই আল-জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র চায় আইআরজিসিসহ ইরান সরকারের মনোবল ভেঙে দিতে। আর ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে হামলা চালিয়ে তেহরান প্রমাণ করতে চায়, তারাও অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে পারবে। ফলে এই যুদ্ধ দ্রুত থামবে, না কি দীর্ঘ মেয়াদে চলবে, তা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বোঝা যাবে।
সমালোচনায় ডেমোক্র্যাটরা
ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরান হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কা ছিল। তাই ইরানে আগ বাড়িয়ে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। তবে গত রোববার ইরানে হামলা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যদের বিস্তারিত জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের কর্মকর্তারা। তাঁরা বলেন, ইরান আগে হামলা চালাতে পারে—এমন কোনো তথ্য ছিল না।
পেন্টাগনের এ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করছেন ডেমোক্র্যাটরা। যেমন ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে দলটির সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার বলেন, ‘ইরানের দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আসন্ন কোনো হুমকি ছিল না। ছিল ইসরায়েলের প্রতি। এখন ইসরায়েলের প্রতি হুমকিকে যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি হুমকি বলে ধরে নেওয়া হয়, তাহলে আমরা এমন পরিস্থিতিতে রয়েছি, যা আগে ঘটেনি।’
সোমবার ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল হিলে সাংবাদিকদের একটি কথা বলেছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। কথাটি হলো, ইরানের ওপর ইসরায়েল হামলা চালাতে পারে—এমন ধারণা থেকেই যৌথভাবে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র। কারণ, শুধু ইসরায়েল যদি এই হামলা চালাত, তাহলে অভিযানে যোগ না দিয়েও পাল্টা হামলার শিকার হতে হতো যুক্তরাষ্ট্রকে। এতে হতাহত বেশি হতো।
রুবিওর এই বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে টেক্সাস থেকে প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্য জোয়াকিন কাস্ত্রো বলেন, রুবিওর মন্তব্য থেকে এটাই বোঝা যায় যে ইরানে হামলা চালিয়ে মিত্রদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে ক্ষতির মুখে ফেলেছে ইসরায়েল। আর ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলকে না থামিয়ে বরং যুদ্ধে যোগ দিয়েছে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ যেমন অগ্রহণযোগ্য, তেমনই মিত্রদেশ হিসেবে ইসরায়েলও অগ্রহণযোগ্য কাজ করেছে।