হামাসকে নিরস্ত্র হতে দুই মাস সময় দেবে ট্রাম্পের ‘শান্তি পর্ষদ’

‘শান্তি পর্ষদ’-এর সনদে স্বাক্ষরের পর তা ক্যামেরার সামনে তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে, ২২ জানুয়ারি ২০২৬ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদ ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে অস্ত্র সমর্পণে দুই মাসের আলটিমেটাম দেবে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ।

তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির বরাতে এ খবর জানা গেছে।

গতকাল সোমবার স্থানীয় সংবাদপত্র মাকর রিশোনে প্রকাশিত মন্তব্যে কট্টর দক্ষিণপন্থী ইসরায়েলি মন্ত্রী স্মোট্রিচ বলেন, ‘শান্তি পর্ষদ হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের জন্য দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দেবে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, হামাস নিঃশেষ হওয়ার আগে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ বন্ধ করবে না ইসরায়েল।

জিম্মিদের দেহাবশেষ রেডক্রসের কাছে হস্তান্তরের সময় এক হামাস যোদ্ধাকে অস্ত্রহাতে দেখা যাচ্ছে
ফাইল ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘গাজায় হামাসের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। আর সেটি সামরিক, বেসামরিক বা সরকারি—কোনোভাবেই নয়। আমরা অঙ্গীকার করেছি এবং এটাই যুদ্ধের প্রধান লক্ষ্য।’

তবে স্মোট্রিচের এ বক্তব্যের বিষয়ে ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

উগ্রপন্থী এই মন্ত্রী দাবি করেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা উপত্যকার অর্ধেকের বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং সবকিছুর ওপর তাদের কর্তৃত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, ‘(যুদ্ধবিরতির) দ্বিতীয় ধাপ হলো নিরস্ত্রীকরণ। দুর্ভাগ্যবশত আমরা এটি তিন মাস আগে শুরু করিনি।’

উগ্রপন্থী এই মন্ত্রী দাবি করেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা উপত্যকার অর্ধেকের বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং সবকিছুর ওপর তাদের কর্তৃত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, ‘(যুদ্ধবিরতির) দ্বিতীয় ধাপ হলো নিরস্ত্রীকরণ। দুর্ভাগ্যবশত আমরা এটি তিন মাস আগে শুরু করিনি।’

গাজা নিয়ে ট্রাম্পের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ১৫ জানুয়ারি ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ পরিকল্পনার অধীনই গত বছরের ১০ অক্টোবর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। পরে নভেম্বরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে এ পর্ষদ অনুমোদিত হয়।

ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ (বাঁয়ে) ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (ডানে)
ছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প এ পর্ষদের সভাপতিত্ব করছেন। তাঁকে সহায়তা করছে একটি নির্বাহী পর্ষদ; যেখানে কূটনীতি, উন্নয়ন, অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক কৌশল বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা রয়েছেন। গাজায় ইসরায়েলের জাতিগত হত্যামূলক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এ পর্ষদের আবির্ভাব ঘটলেও এর সনদে সরাসরি গাজার কথা উল্লেখ করা হয়নি। বর্তমানে উপত্যকাটির প্রায় ২৪ লাখ মানুষ চরম মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে বসবাস করছেন। তাঁদের মধ্যে ১৫ লাখই বাস্তুচ্যুত।

গাজায় হামাসের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। আর সেটি সামরিক, বেসামরিক বা সরকারি—কোনোভাবেই নয়। আমরা অঙ্গীকার করেছি এবং এটাই যুদ্ধের প্রধান লক্ষ্য।
বেজালেল স্মোট্রিচ, ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী

এ পর্ষদের সনদে এটিকে একটি ‘আন্তর্জাতিক সংস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো সংঘাতপূর্ণ এলাকায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, আইনানুগ শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধার ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করা। এই সনদ ট্রাম্পকে আমৃত্যু ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে। এর মধ্যে ভেটো দেওয়া ও সদস্য নিয়োগের ক্ষমতাও রয়েছে।

সমালোচকদের মতে, এ কাঠামো প্রকৃতপক্ষে জাতিসংঘকে পাশ কাটানোরই একটি চেষ্টা মার্কিন প্রেসিডেন্টের।

আরও পড়ুন