যুদ্ধ বন্ধে বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার অনুরোধ পাওয়া গেছে: ইরান
ইরান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার অনুরোধ নিয়ে বিশেষ বার্তা পেয়েছে তেহরান। সরাসরি নয়; বরং কয়েকটি বন্ধুরাষ্ট্রের মাধ্যমে ওয়াশিংটন এ আলোচনার অনুরোধ পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান।
তবে এ প্রক্রিয়ার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা ‘ঐকমত্যের’ দাবিকে ‘মিথ্যা খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার অনুরোধ নিয়ে কিছু বন্ধুদেশের কাছ থেকে তাঁরা বার্তা পেয়েছেন। তবে এ বার্তার জবাবে ইরান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
বাগাই বলেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে যেকোনো ধরনের হামলা চালানো হলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, হরমুজ প্রণালি এবং যুদ্ধ বন্ধের শর্ত নিয়ে তেহরানের আগের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা ঐকমত্য হওয়ার খবর সরাসরি অস্বীকার করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ট্রাম্পের দাবিকে বাঁচার জন্য মিথ্যা বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। মূলত আর্থিক ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যে চোরাবালিতে আটকে গেছে, তা থেকে বাঁচতেই এসব মিথ্যা খবর ছড়ানো হচ্ছে।’
এর আগে গতকাল সোমবার ফ্লোরিডার একটি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘জোরালো আলোচনা’ হয়েছে এবং দুই পক্ষ ‘প্রধান প্রধান বিষয়ে একমত’ হতে পেরেছে।
ট্রাম্পের দাবি, তাঁর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার এ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে অত্যন্ত আগ্রহী। সম্ভবত আজ (গতকাল সোমবার) তাদের সঙ্গে আমার ফোনে কথা হবে।’ তবে সমঝোতায় না এলে ইরানে মার্কিন বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এর জবাবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান ‘আগ্রাসনকারীদের পূর্ণাঙ্গ ও অনুশোচনামূলক শাস্তি’ নিশ্চিত চায়। আর এই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের কর্মকর্তারা তাঁদের সর্বোচ্চ নেতা ও জনগণের পাশে অটল থাকবেন।