ইরানের সরকারবিরোধীরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর হাত থেকে বিক্ষোভকারীদের বাঁচানোর যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন, তা রক্ষায় দেরি করলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখন তাঁর উপদেষ্টাদের কাছ থেকে পরস্পরবিরোধী পরামর্শ পাচ্ছেন।
কেউ কেউ বলছেন, ওয়াশিংটন এখন বড় কোনো পদক্ষেপ নিলে ইরান সরকার এটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো ‘ইসলামবিরোধী ষড়যন্ত্র’ হিসেবে প্রচার করে বিক্ষোভ দমনের সুযোগ নেবে।
ট্রাম্প কথা দিয়েছিলেন, ইরানি বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালালে তিনি ইরানে ‘গুলি চালাবেন’। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, পরিস্থিতি এত দ্রুত পাল্টাচ্ছে। ট্রাম্পের দলের কাছে কোনো গোছানো পরিকল্পনা নেই। মার্কিন সামরিক বাহিনীর বড়
কোনো নড়াচড়া এখনো দেখা যায়নি। কাতারের মতো মধ্যপ্রাচ্যের অনেক বন্ধুদেশ ট্রাম্পকে আপাতত শান্ত থাকতে বলছে।
তেহরানে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ বসবাস করেন। এত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিমান হামলা চালানো বেশ কঠিন। কারণ, এতে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় সেটির প্রমাণ দেখা গিয়েছিল। সে সময় এক হাজারের বেশি সাধারণ ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে সাময়িকভাবে জাতীয়তাবোধ জেগে উঠেছিল।
নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের সামনে এখন সামরিক শক্তিপ্রয়োগ এবং অন্যান্য বিকল্প তুলে ধরা হচ্ছে। গত শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এ নিয়ে কথাও বলেছেন।
তেহরানে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ বসবাস করেন। এত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিমান হামলা চালানো বেশ কঠিন। কারণ, এতে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় সেটির প্রমাণ দেখা গিয়েছিল। সে সময় এক হাজারের বেশি সাধারণ ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে সাময়িকভাবে জাতীয়তাবোধ জেগে উঠেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নিশানা হতে পারেন বিপ্লবী গার্ডের বড় নেতারা এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। কিন্তু তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা অনেক বাড়িয়েছেন। তাই তাঁদের আঘাত করা এখন কঠিন। তবে দক্ষিণ তেহরানে বিপ্লবী গার্ডের ঘাঁটি ও পুলিশের ব্যারাকগুলোতে হামলা চালানো কিছুটা সহজ হতে পারে।
ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে যাওয়া ইরানের সাবেক শাহর ছেলে রেজা পাহলভিও ট্রাম্পকে পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। এ বিক্ষোভে তাঁর অনুসারীরাও অংশ নিচ্ছেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের সাবধানে থাকতে বলেছেন।
গত সপ্তাহান্তে ইরানের বিরোধী নেতারা ওয়াশিংটনে বলেছেন, সরকার যে হারে সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে, তা ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’। সরকার যেভাবে পুলিশ ও সেনাবাহিনী দিয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে, তাতে তাঁরা হয়তো আর মাত্র দুই দিন টিকে থাকতে পারবেন।
ইরানের সাত বিশিষ্ট ব্যক্তি এক চিঠিতে এই দমন–পীড়নের ভয়াবহতাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে ট্রাম্পের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন ধর্মীয় গবেষক ও সাংবাদিক জাভাদ আকবারিন, লন্ডনের কায়হান পত্রিকার পরিচালক নাজানিন আনসারি, ট্রানজিশন কাউন্সিলের মুখপাত্র ইয়াজদান শোহাদাই, নোবেলজয়ী আইনজীবী শিরিন এবাদি, লেখক মহসেন মাখমালবাফ ও কুর্দিস্তান কোমলা পার্টির আবদুল্লাহ মোহতাদি।
ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে যাওয়া ইরানের সাবেক শাহর ছেলে রেজা পাহলভিও ট্রাম্পকে পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। এ বিক্ষোভে তাঁর অনুসারীরাও অংশ নিচ্ছেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের সাবধানে থাকতে বলেছেন। তিনি তাঁদের বলেছেন, ‘বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে বড় দলে মিলে প্রধান সড়কে যান, একা বের হবেন না এবং ছোট সরু গলিতে ঢুকবেন না। সেখানে আপনাদের জীবনের ঝুঁকি থাকতে পারে।’
তবে বাইরের অনেক পর্যবেক্ষক ট্রাম্পকে সাবধান করে বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ বোমাবর্ষণ উল্টো ফল দিতে পারে।
ইরান–বিষয়ক সাবেক শীর্ষ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞ ড্যানি সিট্রিনোভিচ বলেন, আসল প্রশ্ন হলো, ট্রাম্প যদি উত্তেজনা এড়ানোর জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে সীমিত কোনো পদক্ষেপ নেন, তবে তা কি বিক্ষোভ দমনে সরকারকে থামাতে পারবে? নাকি উল্টো ফল দেবে। কারণ, ইরানের বিরোধী শিবিরের মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের আরও গভীর ও দৃঢ় হস্তক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন।
চ্যাথাম হাউসের সানাম ভাকিল মনে করেন, মার্কিন হস্তক্ষেপের ফলে ইরান সরকারের ভেতরের বিভেদ দূর হয়ে তারা সবাই এক হয়ে যেতে পারে।
অর্থনীতিবিশেষজ্ঞ ইসফান্দিয়ার বাতমানঘেলিদজ বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেন, গাজা বা ভেনিজুয়েলায় শান্তি ফেরাতে পারেনি। তাই তাদের হাতে শক্ত কোনো কৌশল নেই।
যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত রব ম্যাকায়ার বলেছেন, মার্কিন হামলা হয়তো মানুষের প্রত্যাশা মতো কাজ করবে না। তাঁর মতে, ট্রাম্পের কথা ও কাজের মধ্যে একটা বড় ফাঁক তৈরি হতে যাচ্ছে।
ম্যাকায়ার আরও বলেন, ইরান সরকার মানুষের জীবন ভালো করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও তারা তা করতে পারেনি। অর্থনৈতিক সমস্যা, দুর্নীতি ও নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে তারা দিশাহারা। তারা জানে না, কীভাবে বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ কমাবে। আবার এমন কেউ নেই যে বিক্ষোভকারীদের নেতৃত্ব দিয়ে ক্ষমতায় বসবে।
ইরান সরকার মানুষকে বোঝাতে চাইছে, বিদেশিরা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। গত রোববার টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন। তিনি বলেন, বাইরের শত্রুরা দাঙ্গাবাজদের উসকে দিচ্ছে।
প্রেসিডেন্টের মতে, ৮০ শতাংশ বিক্ষোভকারীর অভাব-অভিযোগ সঠিক থাকলেও যারা মসজিদ বা দোকানে আগুন দিচ্ছে, তারা সন্ত্রাসী। যুক্তরাষ্ট্র অর্থনীতিকে অস্ত্র বানিয়ে ইরানকে নতজানু করতে চায়। তিনি দেশবাসীকে সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানান।