অসুস্থতার গুজব উড়িয়ে প্রকাশ্যে আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট

আবুধাবির কাসর আল শাতিতে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান (বাঁয়ে)ছবি: এএফপি

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে দেওয়া একটি বিবৃতির জেরে (বর্তমানে মুছে ফেলা হয়েছে) সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের স্বাস্থ্য নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে সেই গুজব উড়িয়ে প্রকাশ্যে এসেছেন তিনি।

গতকাল বুধবার আমিরাতের প্রেসিডেনশিয়াল কোর্ট একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে আমিরাত প্রেসিডেন্টকে (এমবিজেড নামেও পরিচিত) যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের পাশে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা গেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারি বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএম-ও ওই সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ করেছে। ‘কাসর আল শাতি’-তে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে গ্রাহামের সঙ্গে এমবিজেডকে দেখা যায়।

তিনি (আমিরাতের প্রেসিডেন্ট) শুধু যে বেঁচে আছেন তা-ই নয়, সুস্থও আছেন। তাঁকে আমি যতটা বুদ্ধিদীপ্ত দেখেছিলাম, এখনো তেমনই আছেন।
লিন্ডসে গ্রাহাম, মার্কিন রিপাবলিকান সিনেটর

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন এই সিনেটর আমিরাতের প্রেসিডেন্টের অসুস্থতার দাবি পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন।

এক্সে লিন্ডসে গ্রাহাম লিখেছেন, ‘যাঁরা সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট শেখের (মোহাম্মদ বিন জায়েদ) বিরুদ্ধে মিথ্যা গল্প ছড়াচ্ছেন, তাঁরা আসলে বাজে কথা বলছেন।’

‘তিনি (আমিরাতের প্রেসিডেন্ট) শুধু যে বেঁচে আছেন তা-ই নয়, সুস্থও আছেন। তাঁকে আমি যতটা বুদ্ধিদীপ্ত দেখেছিলাম, এখনো তেমনই আছেন।’

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের একটি বিবৃতির পর এ মন্তব্য করলেন মার্কিন সিনেটর। চলতি মাসের শুরুর দিকে এরদোয়ান সৌদি আরব সফরে গিয়েছিলেন। এরপর তাঁর প্রতিবেশী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের কথা ছিল।

তুর্কি প্রেসিডেন্টের বিবৃতির জেরে অনলাইনে শেখ মোহাম্মদের স্বাস্থ্য নিয়ে নানা গুজব ডালপালা মেলে। এমনকি উইকিপিডিয়ায় তাঁর পেজ বা পাতাটি কিছু সময়ের জন্য সম্পাদনা করে তাঁর মৃত্যুর খবরও জুড়ে দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে এরদোয়ান জানান, তিনি তাঁর আবুধাবি সফর স্থগিত করছেন। কারণ হিসেবে তিনি আমিরাতের নেতার ‘শারীরিক সমস্যার’ কথা উল্লেখ করেন। অবশ্য পরে ওই বিবৃতি মুছে ফেলা হয়।

এ ঘটনায় অনলাইনে শেখ মোহাম্মদের স্বাস্থ্য নিয়ে নানা গুজব ডালপালা মেলে। এমনকি উইকিপিডিয়ায় তাঁর পেজ বা পাতাটি কিছু সময়ের জন্য সম্পাদনা করে তাঁর মৃত্যুর খবরও জুড়ে দেওয়া হয়েছিল।

মার্কিন সিনেটর গ্রাহাম শেখ মোহাম্মদের ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ গ্রহণ করার সিদ্ধান্তেরও প্রশংসা করেন। ওই চুক্তির মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েকটি আরব রাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়েছিল।

২০২০ সালে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তি নিয়ে এরদোয়ান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এটিকে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন তিনি।

আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মধ্যকার সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান ফাটলের কারণে আবুধাবির ওপর নজরদারি বেড়েছে। সৌদির অনলাইনে যেসব মন্তব্য করা হয়, সেখানে প্রায়ই ব্যক্তিগতভাবে এমবিজেডকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

ইয়েমেন ও পুরো অঞ্চলে পরস্পরবিরোধী লক্ষ্যের কারণে সৌদি-আমিরাত সম্পর্ক এখন অংশীদারত্ব থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিয়েছে।

আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ না দেওয়া সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, উত্তর আফ্রিকা ও হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে আমিরাত। সেই সঙ্গে তারা বৃহত্তর এ অঞ্চলে ইসরায়েলের স্বার্থ হাসিলে কাজ করছে।