হরমুজ প্রণালির মাইন অপসারণে বাইরের কারও সাহায্য লাগবে না: ইরান

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের টহল। ছবি: এএফপি

হরমুজ প্রণালিকে মাইনমুক্ত করতে বাইরের কারও হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার দেশটি দাবি করেছে, বাইরের হস্তক্ষেপ ‘পরিস্থিতিকে কেবল আরও জটিল করে তুলবে’।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনের তথ্যমতে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘অন্য যে কোনো পক্ষের চেয়ে ইরান নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে ভালো বোঝে এবং তা পালনের সক্ষমতা তাদের রয়েছে। তাই এখানে অন্য কারও হস্তক্ষেপের কোনো প্রয়োজন নেই।’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই
ফাইল ছবি: এএফপি

ইসমাইল বাঘাই জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সই হওয়া সাম্প্রতিক এক সমঝোতা স্মারকের আওতায় তেহরান ‘নিজ সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করবে। এটি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ওমান সাগর পর্যন্ত এবং বিপরীত পথে কেবল ৬০ দিনের জন্য বিনা মূল্যে এই সুবিধা দেবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অবিলম্বে শুরু হবে এবং কারিগরি ও সামরিক বাধা অপসারণ এবং ইরান ইসলামী প্রজাতন্ত্র কর্তৃক মাইন নিষ্ক্রিয়করণের প্রয়োজনীয়তা সাপেক্ষে, ৩০ দিনের মধ্যে এটি চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।’

তিনি যোগ করেন, ‘সুতরাং এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যা শুরু হয়েছে এবং চলতেই থাকবে। অন্য কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই এই কাজ সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার মতো যথেষ্ট সক্ষমতা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের রয়েছে।’

বাঘাই উল্লেখ করেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যমটি দুই দেশের সামরিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে নয়, বরং রাজনৈতিক পর্যায়ে হচ্ছে। ইরানের পক্ষে এটি তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিচালনা করছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে বাঘাইয়ের এই মন্তব্যটি আসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর একটি ঘোষণার পর। সোমবার মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাখোঁ বলেন, সমুদ্রপথ নিরাপদ করতে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ‘অবাধ ও শর্তহীন’ চলাচল নিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালিকে মাইনমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স ও ওমান। তারা অন্য অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে এই কাজ করবে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ।
ছবি: এএফপি

ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে ফ্রান্সে যান। সেখানে প্যারিসে তাঁর সঙ্গে আলোচনার পর মাখোঁ এই কথাগুলো বলেন।

ইরান বারবার জোর দিয়ে বলেছে যে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ, মাইন নিষ্ক্রিয়করণ এবং সামুদ্রিক অস্থায়ী ব্যবস্থার বিষয়গুলো ইসলামাবাদ স্মারকের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরিচালিত হবে এবং উপকূলীয় দেশ হিসেবে এগুলো ইরানের সমন্বয়েই সম্পন্ন হবে।

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি চলাচলের পথ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এটি আঞ্চলিক উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে। সমুদ্রপথে চলাচল স্বাভাবিক করতে এবং অস্থায়ী নৌ-চলাচল ব্যবস্থা তৈরি করতে গত ১৮ জুন ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।