খামেনি হত্যার প্রতিবাদে দেশে দেশে বিক্ষোভ, পাকিস্তানে ৯ বিক্ষোভকারী নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের গ্রিন জোনের প্রবেশপথের কাছে বিক্ষোভ। ১ মার্চ ২০২৬ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশে দেশে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পাকিস্তান, ইরাক ও ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শনিবার সকালে ইরানে হামলা শুরু করে। এ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

রোববার পাকিস্তানের করাচি শহরে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ভেতরে প্রবেশের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে অন্তত ৯ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘ইসরায়েল নিপাত যাক, আমেরিকা নিপাত যাক’ স্লোগান দেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবরে পাকিস্তানের করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভের পর সেখানে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের অবস্থান। ১ মার্চ ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

স্থানীয় সরকারের এক মুখপাত্র জানান, করাচিতে কনস্যুলেটের বাইরের নিরাপত্তা স্তর ভেঙে ফেলার পর বিক্ষোভকারীদের পিছু হটতে বাধ্য করা হয়। প্রধান ফটকের বাইরে বিক্ষোভকারীরা একটি গাড়িতে আগুন দেন এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান।

পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, মার্কিন কনস্যুলেটের নিরাপত্তাকর্মীরা বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালালে অন্তত ৯ জন নিহত ও ৩৪ জন আহত হন। হতাহত সবাই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলের উত্তরের শহর স্কার্দুতে জাতিসংঘের একটি কার্যালয়েও আগুন দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় শিয়া–অধ্যুষিত এ এলাকাটি সাধারণত শান্ত হিসেবে পরিচিত।

পাকিস্তানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর লাহোরে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে শত শত বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে ইরাকের বসরা শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। ১ মার্চ ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

রাজধানী ইসলামাবাদে শত শত বিক্ষোভকারী কূটনৈতিক জোনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।

উল্লেখ্য, ইরানের পর ইরাক ও পাকিস্তানেই বিশ্বের সবচেয়ে বেশিসংখ্যক শিয়া মুসলিমের বসবাস।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের জনগণের মতো প্রতিটি পাকিস্তানিও আজ শোকাহত।

উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় পাকিস্তানে অবস্থিত পশ্চিমা দেশগুলোর মিশন নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে সারা দেশে তাদের কর্মীদের চলাফেরাও সীমিত করা হয়েছে।

এদিকে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও শত শত বিক্ষোভকারী মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁদের অনেকের পরনে কালো পোশাক ছিল।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর বাগদাদের গ্রিন জোনের প্রবেশপথের কাছে জড়ো হয়ে মার্কিন দূতাবাসের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর টহল। ১ মার্চ ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

গ্রিন জোনের বাইরে জড়ো হওয়া এসব ইরানপন্থী বিক্ষোভকারীকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও স্টান গ্রেনেড ছোড়ে।

আলী নামের এক মুখ ঢাকা বিক্ষোভকারী বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘ইরাক থেকে দখলদার মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহার চাই আমরা। এ কারণেই আমরা এখানে এসেছি।’

অন্যদিকে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরেও কয়েক হাজার শিয়া মুসলিম বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাঁরা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন।

এক বিক্ষোভকারী এএফপিকে বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য আমাদের একটি বার্তা রয়েছে...আমরা সব সময় আপনাদের নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব।’

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে ইরাক সরকার তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরাকের শীর্ষ শিয়া মুসলিম নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আলী সিস্তানি ইরানিদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।