ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদের স্থায়ী সদস্য হতে আগ্রহী দেশকে দিতে হবে ১০০ কোটি ডলার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পছবি: এএফপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদে যোগ দিতে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে কমপক্ষে আরও আটটি দেশ বলেছে। এর মধ্যে হাঙ্গেরি ও ভিয়েতনাম বলেছে, তারা এতে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে।

সম্প্রতি গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কার্যক্রম তদারক করতে বিশ্বনেতাদের নিয়ে ‘শান্তি পর্ষদ’ গঠনের ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

গাজা শান্তি পর্ষদের সনদ সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন এই পর্ষদে স্থায়ী সদস্য পদ পেতে ১০০ কোটি ডলার অনুদান দিতে হবে। তিন বছরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্যদের ক্ষেত্রে কোনো আর্থিক অনুদান দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। সনদটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ওই কর্মকর্তা বলেছেন, সংগৃহীত অর্থ গাজা পুনর্গঠনে খরচ করা হবে।

হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। গতকাল রোববার রাষ্ট্রীয় বেতারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার সিজার্তো এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অরবান ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে ট্রাম্পের ঘোর সমর্থকদের একজন।

ভিয়েতনামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান তো লামও এ প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন।

ভারতও এই শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে বলে দেশটির এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তথ্যটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না হওয়ায় তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।

অস্ট্রেলিয়াকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আজ সোমবার দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস বলেছেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বোঝার চেষ্টা করা হবে।

গতকাল রোববার জর্ডান, গ্রিস, সাইপ্রাস ও পাকিস্তান বলেছে, তারাও আমন্ত্রণ পেয়েছে। এর আগে কানাডা, তুরস্ক, মিসর, প্যারাগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও আলবেনিয়া আমন্ত্রণ পাওয়ার কথা বলেছিল। তবে এখন পর্যন্ত মোট কতটি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র শান্তি পর্ষদের সদস্যদের আনুষ্ঠানিক তালিকা ঘোষণা করতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকের সময় এ ঘোষণা আসতে পারে।

গত ১০ অক্টোবর গাজায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ইতিমধ্যে দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করেছে। শান্তি পর্ষদের সদস্যরা গাজায় পরবর্তী পদক্ষেপ তদারক করবেন। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে গাজায় একটি নতুন ফিলিস্তিনি কমিটি গঠন, একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডটির পুনর্গঠন।

গত শুক্রবার বিশ্বনেতাদের কাছে পাঠানো আমন্ত্রণপত্রে তাঁদের ‘প্রতিষ্ঠাতা সদস্য’ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, শান্তি পর্ষদ বিশ্বব্যাপী সংঘাত নিরসনে এক সাহসী নতুন পথচলা শুরু করবে।

এই পর্ষদ জাতিসংঘে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। নিরাপত্তা পরিষদ গাজা যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি।

নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর কারণে তা বারবার আটকে গেছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন ও অন্যান্য দাতার বড় অঙ্কের অর্থায়ন কমে যাওয়ায় জাতিসংঘের প্রভাবও উল্লেখজনকভাবে কমে গেছে।

শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণপত্রে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, নিরাপত্তা পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত ২০ দফার গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনাকে অনুমোদন দিয়েছে। পরিকল্পনার মধ্যে এই পর্ষদ গঠনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। আমন্ত্রিত কয়েকজন নেতা সেই চিঠিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।

হোয়াইট হাউস গত সপ্তাহে শান্তি পর্ষদের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বিশ্বনেতাদের নিয়ে একটি নির্বাহী কমিটি গঠনেরও ঘোষণা দিয়েছে। তবে গত শনিবার ইসরায়েল আপত্তি জানিয়ে বলেছে, তাদের সঙ্গে কোনো সমন্বয় ছাড়াই এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এটি তাদের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তরের এই বিবৃতিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের বিরল সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা ও ট্রাম্পের উপজাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল। এ ছাড়া ইসরায়েলি ব্যবসায়ী ও ধনকুবের ইয়াকির গ্যাবেও কমিটিতে আছেন।

কমিটির সদস্যদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষক দেশ কাতার, মিসর ও তুরস্কের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। ইসরায়েলের সঙ্গে টানাপোড়েন চললেও হামাসের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কটা তুলনামূলকভাবে ভালো।

আর সে কারণে গাজায় হামাসকে ক্ষমতা ছাড়তে ও নিরস্ত্রীকরণে রাজি করাতে তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।