৩৩ বছর পর সরাসরি বৈঠকে ইসরায়েল ও লেবানন, হিজবুল্লাহ কি এই আলোচনার সিদ্ধান্ত মানবে
তিন দশকেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া এ আলোচনার লক্ষ্য—লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের লড়াইয়ের অবসান।
ইরান–সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রভাব শেষ করতে এই কূটনৈতিক আলোচনাকে ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ বলে বর্ণনা করেছেন রুবিও। গতকাল মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে ওই আলোচনা হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, লেবাননে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা, যুক্তরাষ্ট্রের নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদে মোয়াওয়াদ এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লাইটার আলোচনায় অংশ নেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই পক্ষ সরাসরি আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। তবে সম্ভাব্য ওই বৈঠকের সময় ও স্থান জানানো হয়নি।
ইসরায়েল বলেছে, তারা সব অরাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করতে চায়। হিজবুল্লাহকে ইঙ্গিত করেই তারা এ কথা বলেছে।
অন্যদিকে লেবানন যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে এবং মানবিক সংকট মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিতে বলেছে।
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। দুই দেশের মধ্যে সর্বশেষ সরাসরি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছিল ১৯৯৩ সালে।
গত ২ মার্চ লেবাননে ইসরায়েলের সর্বশেষ আগ্রাসন শুরুর পর এখন পর্যন্ত দেশটিতে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন শুরুর কয়েক দিন পর ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননে নির্বিচার হামলা শুরু করে।
গতকাল ওয়াশিংটনে ওই বৈঠকে দাবি করা হয়, ইসরায়েলের ওপর এবং লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহ অন্তত ২৪টি হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েল আরও দাবি করেছে, লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং তাদের অবকাঠামো ধ্বংস করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। গাজায় যুদ্ধ চলাকালে ২০২৩ ও ২০২৪ সালেও ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে হিজবুল্লাহর লড়াই হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে বলেন, ওয়াশিংটনে আলোচনার পর ইসরায়েল ও লেবানন উভয়ই হিজবুল্লাহর প্রভাব কমাতে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।
পিগট আরও বলেন, লেবাননের পক্ষ থেকে ‘যুদ্ধবিরতি এবং দেশে চলমান গুরুতর মানবিক সংকট মোকাবিলা ও তা লাঘবের জন্য বাস্তব পদক্ষেপ’ গ্রহণের আহ্বানও জানানো হয়েছে।
‘হিজবুল্লাহর হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করা তাদের অধিকার’ বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওই দাবিতে সমর্থন দিয়েছে বলেও জানান টমি পিগট।
বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রুবিও বলেন, ‘এটি একটি প্রক্রিয়া। এটার জন্য সময় লাগবে। তবে আমরা বিশ্বাস করি, এই প্রচেষ্টা মূল্যবান। এটি একটি ঐতিহাসিক বৈঠক, আমরা এটিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব বলে আশা করছি।’
এক বিবৃতিতে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেন, তিনি আশা করেন, এই আলোচনা ‘সামগ্রিকভাবে লেবাননের জনগণের এবং বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভোগান্তির অবসানের সূচনা হিসেবে চিহ্নিত হবে।’
আউন বলেন, এই সংঘাতের ‘একমাত্র সমাধান’ হবে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীকে ‘ওই এলাকার নিরাপত্তার একমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত শক্তি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
যদিও হিজবুল্লাহকে মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে লেবানন সরকারের সক্ষমতা সীমিত। ওয়াশিংটনে মঙ্গলবারের আলোচনার আগে হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ সদস্য বার্তা সংস্থা এপিকে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া কোনো সমঝোতা তারা মানবে না।
হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ওয়াফিক সাফা আরও বলেন, ‘তারা যে সমঝোতাতেই সম্মত হোক, আমরা তা মানতে বাধ্য নই।’