মার্কিন হুমকির মুখে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে সৌদি যুবরাজকে সতর্ক করলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানফাইল ছবি: রয়টার্স

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল একটি রণতরি পৌঁছানোর পর এবং ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যে দুজন ফোনে কথা বললেন।

যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছে, ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করার কারণে তারা ইরানের ওপর হামলা চালাতে পারে। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ নামের একটি যুদ্ধজাহাজ ওই অঞ্চলে পাঠিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার সৌদি যুবরাজের সঙ্গে আলাপকালে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের এই হুমকির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এই হুমকি কেবল এ অঞ্চলের নিরাপত্তা নষ্ট করবে এবং অস্থিরতা বাড়াবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, অর্থনৈতিক চাপ বা বাইরের হস্তক্ষেপ দিয়ে ইরানিদের দমানো যাবে না।

সৌদি যুবরাজ এই আলোচনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সৌদি আরব এ অঞ্চলের শান্তি ও উন্নয়নের পক্ষে। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ইরানের ওপর হামলার জন্য সৌদি আরবের আকাশসীমা বা মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তিনি যেকোনো বিবাদ আলোচনার মাধ্যমে মেটানোর ওপর জোর দেন।

এ জন্য ইরানের প্রেসিডেন্ট সৌদি আরবকে ধন্যবাদ জানান এবং দেশটির সার্বভৌমত্বের প্রতি সৌদির এই সম্মান প্রদর্শনের প্রশংসা করেন।

‘প্রতিবেশী দেশগুলো আমাদের বন্ধু’

দুই নেতার মধ্যে ফোনে আলাপ এমন সময়ে হলো যখন ট্রাম্প বারবার ইরানকে হামলার হুমকি দিচ্ছেন। ট্রাম্প আইওয়া অঙ্গরাজ্যে এক বক্তৃতায় বলেন, তাঁর নৌবাহিনী ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি চান ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে চুক্তি করুক। তিনি অনেকটা বিদ্রূপ করে বলেন, আগে চুক্তি করলে আজ ইরানের এই দশা হতো না।

যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যে ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) একজন কমান্ডার প্রতিবেশীদের সতর্ক করে বলেছেন, ‘আপনারা আমাদের বন্ধু। কিন্তু আপনাদের জায়গা ব্যবহার করে যদি আমাদের ওপর হামলা হয়, তবে আপনাদেরও শত্রু হিসেবে দেখা হবে।’

২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র মিলে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল। সেই থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান তাদের পরমাণু কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করুক; কিন্তু ইরান চাপের মুখে নতি স্বীকার করতে রাজি নয়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে হামলা হলে তার আঁচ পুরো মধ্যপ্রাচ্যেই লাগবে। কারণ, অশান্তি একবার শুরু হলে তা সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ে।