বাবার হত্যার ‘প্রতিশোধ’ অবশ্যই নেওয়া হবে: মোজতবা খামেনি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মর্মান্তিক মৃত্যুর পর তাঁর স্মরণে আয়োজিত বিদায় অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির দৃশ্য। তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে এক ব্যক্তিকে ইরানের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ছবিসংবলিত একটি ব্যানার বয়ে নিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। তেহরান, ইরান। ২ জুলাই ২০২৬ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, তাঁর বাবার হত্যার ‘প্রতিশোধ’ অবশ্যই নেওয়া হবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফারস–এ প্রকাশিত মোজতবার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রতিশোধ নেওয়া আমাদের জাতির দাবি এবং এটি অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে।’

প্রয়াত নেতাকে উদ্দেশ করে ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা শপথ করছি, ওই অপরাধী ও কলঙ্কিত খুনিদের কাছ থেকে আমরা আপনার পবিত্র রক্ত এবং এই দুই যুদ্ধের সব শহীদের রক্তের বদলা নেব।’

বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, ‘ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত এই অপরাধীদের সবার নাম জানা এবং নথিভুক্ত আছে। বৃদ্ধ বয়সে বিছানায় শুয়ে শান্তিতে মৃত্যুর যে ইচ্ছা তারা বুকে পুষে রাখছে, তা তাদের সঙ্গেই কবরে যাবে। তাদের এটা জানা উচিত, এই বিষয়টি আমার বা অন্য কোনো কর্মকর্তার বেঁচে থাকা বা না থাকার ওপর নির্ভর করে না।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা বেঁচে থাকি বা না থাকি, খুব ‘শিগগিরই’ এই প্রতিজ্ঞা পূরণ করা হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হুমকি দিয়েছেন, ইরান যদি তাঁকে হত্যার চেষ্টা করে, তবে তিনি দেশটিকে ‘ধুলায় মিশিয়ে’ দেবেন। তাঁর এই হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে এমন হুঁশিয়ারি এল।

সম্প্রতি ইসরায়েলি গোয়েন্দারা দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ইসরায়েলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, তেহরানের কট্টরপন্থী নেতাদের কোনো একটি অংশ ট্রাম্পকে হত্যার এই ইচ্ছা পোষণ করে। তবে এ বিষয়ে অবগত যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সূত্র ভিন্ন কথা জানিয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দাদের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে ট্রাম্পকে হত্যার নতুন বা নির্দিষ্ট কোনো ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন ইরানি পক্ষগুলোর তাঁকে হত্যার ইচ্ছা নিয়ে বেশ কিছু গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর মোজতবা খামেনিকে এখনো জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

ধারণা করা হচ্ছে, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনে যখন মোজতবার বাবা, মা, সন্তান ও স্ত্রী নিহত হন, সেখানে তিনিও আহত হয়েছিলেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই নতুন এই সর্বোচ্চ নেতা প্রকাশ্যে আসছেন না। তিনি কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমেই তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এর মধ্যে তিনি কখনো নিজের মুখ দেখাননি বা নিজের কণ্ঠেও বার্তা দেননি।

সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর মোজতবার খুব অল্প কয়েকটি বার্তা প্রকাশ পেয়েছে। শনিবারের বার্তাটি সেগুলোরই একটি।