সৌদি-হুতি শান্তি আলোচনা
সংঘাত নিরসনে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে অগ্রগতি
হুতি ও সৌদির মধ্যে সম্মানজনক শান্তি অর্জন হবে উভয় পক্ষের জন্যই একটি বিজয়।
ইয়েমেনের বন্দরগুলো থেকে সৌদি অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
ইয়েমেনে ৯ বছর ধরে চলা সংঘাত নিষ্পত্তির আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রাজধানী সানায় হুতি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে সৌদি ও ওমানের প্রতিনিধিদল। হুতিদের সংবাদ সংস্থা সাবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইয়েমেনের সঙ্গে সৌদির এ আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে ওমান। স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে দুই পক্ষের এ আলোচনা রিয়াদ ও সানার মধ্যে সম্পর্ক ইতিবাচক উন্নয়নের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সৌদি আরব ও ইরান চীনের মধ্যস্থতায় একটি চুক্তির মাধ্যমে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সম্মত হওয়ায় রিয়াদ ও সানার আলোচনাও গতি পেয়েছে। ইয়েমেন সরকারকে হটিয়ে ২০১৫ সাল থেকে সানার নিয়ন্ত্রণ নেয় হুতি বিদ্রোহীরা। এরপরই হুতি ও সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়।
৯ বছর ধরে চলা সংঘাত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ওমানের মধ্যস্থতায় সানায় আলোচনা করেছে সৌদি ও হুতি প্রতিনিধিদল।
গত শনিবার সৌদি ও ওমানের প্রতিনিধিদল সানায় পৌঁছান। সেখানে হুতি সুপ্রিম পলিটিক্যাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট মাহদি আল-মাশাতের সঙ্গে সফররত প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাঁরা বৈঠকে শত্রুতার অবসান করা ও ইয়েমেনের বন্দরগুলো থেকে সৌদি অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন।
প্রেসিডেন্ট মাহদি আল-মাশাত বলেন, হুতি আন্দোলনকারীরা সম্মানজনক শান্তি চায় আর ইয়েমেনিদের চাওয়া মুক্তি ও স্বাধীনতা।
হুতি নেতা মোহামেদ আল–বুকাইতি টুইটারে বলেন, সৌদি ও ওমানি কর্মকর্তারা এ অঞ্চলে ব্যাপক ও স্থায়ী শান্তি অর্জনের উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন। তিনি আরও বলেন, হুতি ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্মানজনক শান্তি অর্জন হবে উভয় পক্ষের জন্যই একটি বিজয়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সংরক্ষণ ও অতীতের পাতা উল্টে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ইয়েমেনে জাতিসংঘের দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ বলেন, দীর্ঘস্থায়ী শান্তির দিকে বাস্তব অগ্রগতির কাছাকাছি চলে গেছে ইয়েমেন। সংঘাত বন্ধ করতে ও স্থিতিশীলতা অর্জনে জাতিসংঘের পৃষ্ঠপোষকতায় অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিকপ্রক্রিয়া শুরু করার একটি বাস্তব সুযোগ এটি।
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আল-জাজিরা বলছে, জাতিসংঘের পক্ষ থেকে দেশটিতে রাজনৈতিক মীমাংসার জন্য সব পক্ষকে একত্র করতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চলছে।
কয়েকটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, সৌদি-হুতি নেতাদের বৈঠকে হুতি নিয়ন্ত্রিত বন্দর এবং সানা বিমানবন্দর সম্পূর্ণ আবার চালু করা, কর্মীদের বেতন, অবকাঠামো নির্মাণ ও ইয়েমেন থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের সময় নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়।