সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে গতকাল জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, মানবজাতির সামনে দুটি কঠিন বিকল্প রয়েছে—বৈশ্বিক উষ্ণতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একসঙ্গে কাজ করা কিংবা ‘সম্মিলিত আত্মহত্যা’।

আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, মানবজাতির সামনে বিকল্প হলো পারস্পরিক সহযোগিতা, না হয় বিনাশ। তাপমাত্রা বাড়ানো গ্যাস নির্গমনের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী দরিদ্র দেশগুলোর সহায়তায় এগিয়ে আসতে দূষণকারী ধনী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান জাতিসংঘ মহাসচিব। তিনি বলেন, হয় একটি জলবায়ু সংহতি চুক্তিতে আসতে হবে, নয়তো একটি সম্মিলিত আত্মহত্যার চুক্তি হবে।

বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশ ক্রমবর্ধমান তীব্র প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করছে। বন্যা, খরা, দাবদাহসহ নানা দুর্যোগে চলতি বছরেই হাজারো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। শত শত কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সম্মেলনের আয়োজক দেশ মিসরের প্রেসিডেন্ট আবেদল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেন, ‘আমরা একটার পর একটা বিপর্যয় দেখছি। আমরা একটা বিপর্যয় সামাল দিতেই আরেকটা হাজির হচ্ছে। দুর্ভোগ ও ক্ষতির ঢেউ একের পর এক আসছে।’

মিসরের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এই সব দুর্ভোগের ইতি টানার কি এখনই উপযুক্ত সময় নয়?’ অন্যান্য সংকটের ভিড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যুটি সরকারগুলোর অগ্রাধিকারের তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব সংকটের মধ্যে রয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, করোনা মহামারির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব।

সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিকে কম প্রাধান্যের জায়গায় রাখা যাবে না।

ধনী নির্গমনকারী ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে একটি ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন আন্তোনিও গুতেরেস। যে চুক্তিতে নির্গমন থামানোর বিষয়ে দেশগুলোর জোরালো অঙ্গীকার থাকবে।

বর্তমান প্রবণতা চলতে থাকলে চলতি দশকের শেষ নাগাদ কার্বন দূষণ ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন বাড়ছে। বাড়ছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা। এই গ্রহ দ্রুত সেই গুরুতর পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে, যা জলবায়ু বিশৃঙ্খলাকে অপরিবর্তনীয় করে তুলবে।

আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘আমরা জলবায়ু-নরকের মহাসড়কে রয়েছি। আমরা এখনো এক্সিলারেটরে পা চেপে রেখেছি।’

দশকের পর দশক ধরে জলবায়ু সংলাপ হচ্ছে। তা সত্ত্বেও মাত্রাতিরিক্ত উষ্ণতা থেকে এই গ্রহকে বাঁচাতে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা অপর্যাপ্ত বলে উল্লেখ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, দেশগুলো খুব ধীরে এগোচ্ছে বা তারা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অনিচ্ছুক।