লেবাননে ইসরায়েলি হামলার পর শান্তি আলোচনা ‘অযৌক্তিক’: ইরান
লেবাননে বুধবার ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি চুক্তির আলোচনা চালিয়ে যাওয়া ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছে ইরান। ইসরায়েলের এই বিধ্বংসী হামলায় কয়েক শ মানুষ নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে তেহরান এখন পাল্টা আঘাতের হুমকি দিচ্ছে।
গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের এক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও এই হামলার ফলে তা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। শনিবার থেকে পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনও চরম অস্থির।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, ইসরায়েল ইতিমধ্যে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও জোরদার করে যুদ্ধবিরতির বেশ কিছু শর্ত লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের শর্ত দিয়ে চুক্তির অবমাননা করছে।
গালিবাফ বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি বা আলোচনা চালিয়ে যাওয়া অযৌক্তিক।’
লেবানন ইস্যুতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই দাবি করেছে যে, ইরানের সঙ্গে হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকবে।
হাঙ্গেরি সফররত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মনে হয় ইরানিরা ভেবেছিল যুদ্ধবিরতির মধ্যে লেবাননও ছিল, কিন্তু আসলে তা নয়।’ ভ্যান্স পাকিস্তানে হতে যাওয়া এই শান্তি আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে টানাপোড়েন শান্তি আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক দূরত্ব দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে রাজি হয়েছে এবং মজুত করা ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের ইঙ্গিত দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে মিলে মাটির গভীরে থাকা সব পরমাণু উপাদান খনন করে সরিয়ে ফেলবে।’
তবে গালিবাফ ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার অধিকার রাখে।