হরমুজে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে: বিশ্লেষক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইরানকে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিতে হবে। তবে শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে না বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডেনিশ লজিস্টিকস জায়ান্ট ‘মেয়ারস্ক’-এর সাবেক কর্মকর্তা ও জাহাজ চলাচল বিশ্লেষক লারস জেনসেন বিবিসি রেডিও ৪-এর ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে বলেছেন, এই প্রণালিতে ‘এখনো আসলে কিছুই বদলায়নি’। তিনি আরও বলেন, আস্থা তৈরি হতে ‘সময় লাগবে’।
জেনসেন মনে করছেন, আগামী কয়েক দিনে পারস্য উপসাগর থেকে অনেক জাহাজ বেরিয়ে যাবে। তবে নতুন করে জাহাজ ঢোকার পরিমাণ একেবারেই সামান্য হবে। তিনি আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধবিরতি কোনো কারণে ভেঙে গেলে জাহাজগুলো সেখানে আটকা পড়তে পারে।
হরমুজ কারা ব্যবহার করে
বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ সাধারণত এই প্রণালি দিয়ে সরবরাহ করা হয়।
এই তেল শুধু ইরান থেকে আসে না; ইরাক, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোও এই পথ ব্যবহার করে।
মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে। বছরে এই জ্বালানি–বাণিজ্যের আর্থিক মূল্য প্রায় ৬০ হাজার কোটি ডলার।
তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই পথে নৌযান চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
এই তেল কোথায় যায়
ইআইএর হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারাপার হওয়া অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানির প্রায় ৮২ শতাংশই গেছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। ধারণা করা হয়, ইরান যে পরিমাণ তেল রপ্তানি করে, তার প্রায় ৯০ শতাংশ চীন একাই কেনে।