ইরানের রণকৌশলের পেছনে পুতিনের অদৃশ্য হাত আছে: যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলিছবি: রয়টার্স

ইরানের সামরিক কৌশলের নেপথ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ‘অদৃশ্য হাত’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি। উত্তর ইরাকের এরবিলে পশ্চিমা বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

লন্ডনের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের সামরিক সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা জন হিলিকে বলেন, ইরান ও তাদের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর ড্রোনচালকেরা ক্রমেই ‘রুশ রণকৌশল’ গ্রহণ করছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে দুই হাজারের বেশি ‘শাহেদ’ ড্রোন ছুড়েছে। রাশিয়া এই ড্রোনগুলো ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে আসছে।

ব্রিটিশ জয়েন্ট অপারেশনের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিক পেরি  বলেন, রাশিয়া ইরানকে ড্রোন ব্যবহারে বিশেষ কারিগরি পরামর্শ দিচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের নর্থউড সামরিক কমান্ড সেন্টার পরিদর্শনকালে যুক্তরাজ্যের চিফ অব জয়েন্ট অপারেশনস লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিক পেরি জন হিলিকে বলেন, রাশিয়া এখন ইরান ও তাদের অনুগত গোষ্ঠীগুলোকে ড্রোন মোতায়েন ও ব্যবহারের বিষয়ে কৌশলগত পরামর্শ দিচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে।

পেরি বলেন, ইরানি ড্রোনচালকেরা এখন ড্রোনগুলো অনেক নিচু দিয়ে ওড়াচ্ছে, যা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর এবং এগুলো ঠেকানো বেশ ‘কঠিন’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরবিলে গতরাতের হামলায় একটি পশ্চিমা সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেখানে থাকা যুক্তরাজ্যের সেনাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। দুটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

জন হিলি সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুতিনের অদৃশ্য হাত যে ইরানের কৌশলের পেছনে কাজ করছে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ, বর্তমানে তেলের আকাশচুম্বী দাম থেকে একমাত্র পুতিনই লাভবান হচ্ছেন। এর ফলে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য তার তহবিলে অর্থের জোগান বাড়ছে।’

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে একটি কড়া বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত সেই বার্তায় বলা হয়েছে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা অব্যাহত রাখবে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখবে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, এই যুদ্ধের ফলে বিশ্ব তেলের বাজারে ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বড় সরবরাহ বিপর্যয়’ ঘটেছে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে তাদের বরং ‘অনেক লাভ’ হচ্ছে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি। তিনি এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘ট্রাম্প দ্রুত জয়ের স্বপ্ন দেখছেন। যুদ্ধ শুরু করা সহজ হলেও কয়েকটি টুইট দিয়ে যুদ্ধ জেতা যায় না। আপনাদের এই ভুল হিসাবের জন্য অনুশোচনা না করানো পর্যন্ত আমরা থামব না।’