যুক্তরাজ্যের এমআই৬-কে শত্রুপক্ষ এবং নৌ ও বিমানবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা ইরানের

যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভির রিভার শ্রেণির দুটি অফশোর টহল জাহাজ এবং যুক্তরাজ্যের প্রথম পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংক্রিয় হেলিকপ্টার ‘প্রোটিয়াস’ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৬-কে শত্রুপক্ষ ঘোষণা করেছে ইরান। একই সঙ্গে ব্রিটিশ নৌ ও বিমানবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। লন্ডনের ‘শত্রুতাপূর্ণ’ কর্মকাণ্ডের জবাব হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।

আজ রোববার এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধে যুক্তরাজ্যের অংশগ্রহণ এবং ২০২৬ সালের ‘স্টেট থ্রেটস অ্যাক্ট’ আইনের আওতায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, গত এক বছরে যুক্তরাজ্যের কর্মকাণ্ডের জবাবে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় তেহরানের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভির রিভার শ্রেণির দুটি অফশোর টহল জাহাজ এইচএমএস মার্সি (পি২৮৩) ও এইচএমএস সেভার্ন (পি২৮২)। ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

গত জুলাইয়ে আইআরজিসিকে স্টেট থ্রেটস আইনের আওতায় তালিকাভুক্ত করে যুক্তরাজ্য। ওই আইনে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত বিদেশি রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে তালিকাভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাজ্যে এখন কেউ আইআরজিসিকে সমর্থন বা সহায়তা করলে তাঁর সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।

মেহের নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘ইরানবিরোধী ব্রিটিশ নীতির’ নিন্দা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, এসব নীতি জাতিসংঘ সনদের মূলনীতির লঙ্ঘন।

যুক্তরাজ্যের প্রথম পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংক্রিয় হেলিকপ্টার ‘প্রোটিয়াস’ উড়ছে। কর্নওয়ালের প্রেডানাক বিমানঘাঁটি থেকে প্রথমবারের মতো উড্ডয়ন সম্পন্ন করার দিন হেলিকপ্টারটির এ ছবি তোলা হয়। ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চলছে। ওই হামলার জবাবে ইরানও পুরো অঞ্চলজুড়ে পাল্টা হামলা চালায়। এরপর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হলেও নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনা কমেনি।