ইরানকে আবারও ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

ছবি: রয়টার্স

চুক্তি না করলে ইরানকে আবারও ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ রোববার ফক্স নিউজে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ হুমকি দেন। এমন এক সময়ে ট্রাম্পের এ হুমকি এল, যখন সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে হুতিদের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত এবং ওই অঞ্চলে ভ্রমণরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে তেহরান সতর্ক করে বলেছে, তাদের হাতে এমন তথ্য রয়েছে যে উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু দেশের সহায়তায় ইরানের ওপর নতুন করে হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। যেসব দেশ এ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করবে, তাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে। তবে ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আবার আলোচনা শুরু করা এবং সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

গত শুক্রবার মধ্যরাতের পর রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এএফপির সাংবাদিকেরা দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানান। এর কিছু সময় আগে রিয়াদ ও আশপাশের এলাকায় হামলার আশঙ্কায় সতর্কবার্তা দিয়েছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ। কয়েক ঘণ্টা পর হুতিরা রিয়াদের একাধিক ‘সংবেদনশীল’ স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে।

ইরানকে নিয়ে দুটি পথ খোলা আছে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ফাইল ছবি

ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে দুটি পথ খোলা আছে—ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া, দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে পচে যেতে দেওয়া অথবা একটি চুক্তিতে পৌঁছানো। ইরানকে ‘ভালো আচরণ’ করারও পরামর্শ দেন তিনি।

ট্রাম্প আরও বলেন, চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। হুতিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং হুতিরা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে ক্যাম্প ডেভিডে তাঁর অবকাশ সংক্ষিপ্ত করে শনিবার হোয়াইট হাউসে ফিরে আসেন ট্রাম্প। সিএনএনের জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক অ্যালেক্স প্লিটসাস সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানান, ইয়েমেনে হামলার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনার লক্ষ্যেই ক্যাম্প ডেভিডে বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প।

আরও পড়ুন

‘বড় হামলার প্রস্তুতি সৌদির’

ইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট শনিবার সন্ধ্যায় এক্সে জানায়, রিয়াদের দিকে ছোড়া হুতিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস’ করা হয়েছে।

এর আগে হুতিদের মুখপাত্র আমিন হাইয়ান বলেন, সৌদি রাজধানীর একাধিক ‘সংবেদনশীল’ স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি সৌদির শিল্পনগরী ইয়ানবুতে রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনাতেও হামলা চালানোর দাবি করেন তিনি। তাঁর দাবি, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি হামলার জবাবে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

সৌদি আরবে হুতিদের অব্যাহত হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। কাতার, মিসর, জর্ডান, কুয়েত ও তুরস্কও রিয়াদে হামলার নিন্দা জানিয়েছে।

কিংস কলেজ লন্ডনের জ্যেষ্ঠ গবেষক নওয়াফ ওবায়েদ আল–জাজিরাকে বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে ইয়েমেনে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। তাঁর ভাষ্য, বড় ধরনের এ হামলা জোটের অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে চালানো হতে পারে।

সৌদিকে সহায়তায় প্রস্তুত তুরস্ক

হুতিদের ধারাবাহিক হামলার মুখে সৌদি আরবের সামরিক প্রয়োজন মেটাতে সহায়তার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান শনিবার এনটিভিকে বলেন, সৌদি আরবের ভূখণ্ডের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুতর হামলা হচ্ছে। গত মাসে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সই হওয়া ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির’ আওতায় রিয়াদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দিতে আঙ্কারার কোনো আপত্তি নেই।

তবে তুরস্কের সহায়তা সরাসরি হামলার বদলে প্রতিরক্ষামূলক ও কারিগরি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করেন ইবনে হালদুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইসমাইল নুমান তেলচি। তাঁর মতে, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ড্রোন প্রতিরোধ, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, রাডার ও নজরদারি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তায় সৌদিকে সহায়তা করতে পারে তুরস্ক। একই সঙ্গে চলমান সংঘাত কমাতে কূটনৈতিক ভূমিকাও রাখতে পারে দেশটি।

আরও পড়ুন