ইসরায়েলে ভোট চলছে, কেন্দ্রে কেন আরব ভোটারদের ভিডিও করছে নেতানিয়াহুর দল

ভোট দিচ্ছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগ। জেরুজালেমে, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাগ্যনির্ধারণী নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলছে। ইসরায়েলি ভোটারেরা আজ মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটের নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন। দীর্ঘদিনের শাসক নেতানিয়াহু আরেক মেয়াদে সরকারপ্রধান থাকছেন কি না, সেটাই নির্ধারিত হবে আজকের ভোটে।

স্থানীয় সময় আজ সকাল সাতটায় ইসরায়েলে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। ভোটারেরা এরই মধ্যে কেন্দ্রগুলোর সামনে ভিড় শুরু করেছেন। সারি ধরে ভোট দিচ্ছেন। গার্ডিয়ান জানিয়েছে, দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগ জেরুজালেমের একটি কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন।

আরও পড়ুন

ইসরায়েলে এবার ভোটার প্রায় ৭৩ লাখ। নেসেটের ১২০ আসনে ভোট হচ্ছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ৬১টি আসনে জয় পেতে হবে।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, ইসরায়েলের ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে ভোট দেন না। তাঁরা পছন্দের রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। প্রতিটি দল নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের একটি তালিকা প্রকাশ করে। প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন হয়। নেসেটে ঢুকতে কোনো দলকে অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়।

গত কয়েক সপ্তাহে আরব–অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় বেশকিছু অনানুষ্ঠানিক ‘পর্যবেক্ষক দল’ গঠন করেছে লিকুদ পার্টি। তাঁদের কাজ হলো, ভোটকেন্দ্রগুলোর বাইরে অবস্থান করা, ভোটারদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করা এবং তাৎক্ষণিকভাবে দলের সদর দপ্তরে তথ্য পাঠানো।

ফিলিস্তিনের গাজা ও ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর আজ ইসরায়েলে প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন হচ্ছে। কাজেই নেতানিয়াহুর ওপর চাপও প্রবল। দুই দশক ইসরায়েল শাসনের অভিজ্ঞতা থাকা ৭৬ বছর বয়সী ডানপন্থী জাতীয়তাবাদী রাজনীতিবিদ নেতানিয়াহু। বেশির ভাগ জনমত জরিপে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর জোট এবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।

আরব বংশোদ্ভূত ইসরায়েলিদের বড় একটি অংশ ভোটকেন্দ্রে এলে দেশটির জটিলতর জোট রাজনীতির হিসাব-নিকাশ বদলে যেতে পারে। আরও চাপে পড়তে পারেন নেতানিয়াহু। এসব ভোটার ইসরায়েলের নাগরিক হলেও ঐতিহ্যগতভাবে আরব ফিলিস্তিনি।

নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র হারেৎসকে জানিয়েছে, নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয় হলে কী করা হবে, সেসব নিয়ে আলোচনা ও পরিকল্পনা করতে একাধিক বৈঠক লিকুদ পার্টির নেতারা। তাঁদের কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টার আদলে ‘নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে’-এমন প্রচার চালানোর পক্ষে।

বিষয়টি নিয়ে আগাম ভেবে রেখেছে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। ভোটকেন্দ্রে আসা আরব ভোটারদের ভিডিও ধারণ করতে নিজস্ব কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে দলটি। পরাজিত হলে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলতে চায় দলটি। তখন এসব ভিডিও প্রমাণ হিসেবে সামনে আনা হতে পারে।

আরও পড়ুন

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎস জানায়, গত কয়েক সপ্তাহে আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় বেশকিছু অনানুষ্ঠানিক ‘পর্যবেক্ষক দল’ গঠন করেছে লিকুদ পার্টি। তাঁদের কাজ হলো, ভোটকেন্দ্রগুলোর বাইরে অবস্থান করা, ভোটারদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করা এবং তাৎক্ষণিকভাবে দলের সদর দপ্তরে তথ্য পাঠানো।

নির্বাচনে লিকুদ পার্টির বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটলে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এনে নির্বাচনের পর প্রচার-প্রচারণা চালানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছেন দলটির নেতারা।

ভোট দিতে কেন্দ্রে এসেছেন এক নারী। ইসরায়েলের উম আল-ফাহম শহরে, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র হারেৎসকে জানিয়েছে, নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয় হলে কী করা হবে, সেসব নিয়ে আলোচনা ও পরিকল্পনা করতে একাধিক বৈঠক করেছেন লিকুদ পার্টির নেতারা। তাঁদের কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টার আদলে ‘নির্বাচনে কারচুরি হয়েছে’—এমন প্রচার চালানোর পক্ষে।

আরও পড়ুন

তবে এসব বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু উপস্থিত ছিলেন, এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আপাতত নির্বাচনের পর এমন প্রচার চালানোর সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা আলোচনা করছেন বলে মনে করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সূত্র জানায়, দলের কয়েকজন নেতা নেতানিয়াহুকে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য চাপ দিচ্ছেন। তিনি বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছেন ।

ভোটের সম্ভাব্য কারচুপি নিয়ে লিকুদ পার্টি এবারই প্রথম এমন পরিকল্পনা করেছে, তা নয়। ২০২২ সালের নির্বাচনের রাতে দলটির নেতা ইয়োভ কিশ চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন অভিযোগ তুলেছিলেন।

কিশ সরাসরি বলেছিলেন, ‘আরব সম্প্রদায়ের ভোটকেন্দ্রগুলোয় ভোট জালিয়াতি ও ভোটদানে বাধা দেওয়ার অনেক ঘটনা ঘটেছে।’

আরও পড়ুন

তবে ওই নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছিল লিকুদ পার্টি। জোট সরকার গড়েছিলেন নেতানিয়াহু। এর ফলে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে এসব আলোচনা আর বেশি দূর গড়ায়নি।

এবারের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। কারণ, হিসেবে তিনি উভয় পক্ষের মূল্যবোধের অমিলের কথা বলেছেন।

তবে বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, ভোটের ফলাফলের দোদুল্যমানতায় আইজেনকট জোট সরকার গড়তে গেলে পরিস্থিতি বুঝে আরব দলগুলো বাইরে থেকে সমর্থন দিতে পারে। আর এটা করা হতে পারে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে।

আরও পড়ুন