শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আবার বেড়েছে তেলের দাম

হরমুজ প্রণালিতে আটকে আছে তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ। ইরানের বন্দর আব্বাসের কাছে। ২ মে ২০২৬ছবি: রয়টার্স

ইরান যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনা ঘিরে অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবার বেড়েছে। রোববার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে প্রায় ৯৮ দশমিক ৪৮ ডলার।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা আবারও স্থবির হয়ে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ‘ফক্স নিউজ সানডে’-কে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সর্বশেষ প্রস্তাবে একটি ‘অত্যন্ত স্পষ্ট রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সেই প্রস্তাবের জবাব দিলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেটাকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কোনো শান্তি চুক্তি না হওয়ায় বিশ্বের মোট তেল–গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, যেসব দেশ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করছে, তাদের জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করার সময় ‘সমস্যার সম্মুখীন’ হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর তাদের নৌ-অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। গত শুক্রবার অবরোধ অমান্য করার চেষ্টা করা ইরানি পতাকাবাহী তেলবাহী দুটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের দাম যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২০ ডলার এবং মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ ডলার বেশি। তেলের এই উচ্চমূল্যের কারণে আমেরিকানদের বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে।

আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্যমতে, দেশটিতে প্রতি গ্যালন তেলের গড় দাম এখন ৪ দশমিক ৫২ ডলার। যুদ্ধ শুরুর আগে এটি ৩ ডলারের কম ছিল।

আরও পড়ুন