ফারসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কয়েক শ মানুষ স্লোগান দেন এবং কয়েকজন প্রতিবাদস্বরূপ তাঁদের হিজাব খুলে ফেলেন।’ ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং লাঠিপেটা করে ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

ফারস প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, নারীসহ কিছুসংখ্যক মানুষের একটি জমায়েত থেকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র নিপাত যাক’ স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নারীরা তাঁদের মাথার হিজাব খুলে নিয়েছেন।

তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মাশাদ শহরেও একই ধরনের একটি জমায়েত হয়েছে।
ইরানে জনপরিসরে নারীদের বাধ্যতামূলক হিজাব পরাসহ কঠোর পর্দাবিধি রয়েছে। এ বিধিগুলো কার্যকর হচ্ছে কি না, তা তদারকি করে দেশটির নৈতিকতা-বিষয়ক পুলিশ। এ বিধির আওতায় নৈতিকতা-বিষয়ক পুলিশ দল ১৩ সেপ্টেম্বর মাহসা আমিনিকে তেহরান থেকে আটক করে। তিনি পরিবারের সঙ্গে তেহরান সফরে গিয়েছিলেন। আটকের পর তিনি থানায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তেহরানের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমিনির মৃত্যু হয়।

গতকাল তেহরান পুলিশের প্রধান জেনারেল হোসেন রাহিমি বলেন, মাহসা আমিনি পর্দাবিধি লঙ্ঘন করেছিলেন। পুলিশ আমিনির স্বজনদের বলেছিল, তাঁর জন্য ‘শালীন পোশাক’ নিয়ে আসতে। পুলিশ আমিনির ওপর নির্যাতন করেছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছেন রাহিমি। তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অবহেলা বা অযাচিত আচরণ করা হয়নি।

এ পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এটি এক দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। আমাদের যেন এমন ঘটনা আর কখনো দেখতে না হয়।’

এর আগে রোববার আমিনির নিজের প্রদেশ কুর্দিস্তান থেকেও পুলিশ কয়েক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছে। প্রায় ৫০০ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। তাঁদের কেউ গাড়ির জানালা ভেঙে দিয়েছেন।

শুক্রবার নজরদারি ক্যামেরায় ধারণকৃত একটি ভিডিও সংক্ষিপ্ত আকারে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, এক নারী পুলিশ সদস্যের সঙ্গে তর্কে জড়ানোর পর তিনি মাটিতে গড়িয়ে পড়ছেন।

মাহসা আমিনির বাবা আমজাদ আমিনি ফারসকে বলেন, পুলিশ তাঁকে যা দেখিয়েছে, তা তিনি মানতে পারছেন না। ভিডিও ফুটেজের কিছু অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, মাহসাকে দেরি করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।’

মধ্যপ্রাচ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন