হরমুজে আটকে পড়া ১১ হাজার নাবিককে সরিয়ে নিচ্ছে জাতিসংঘ

ওমানের মুসান্দাম থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত জাহাজগুলো এভাবেই চোখে পড়ে। ১৫ জুন ২০২৬ তোলাছবি: রয়টার্স

যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ১১ হাজারের বেশি নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে আনার কাজ শুরু করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থা (আইএমও)। যুদ্ধ বন্ধে ইরান আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটি এ উদ্যোগ নিয়েছে।

আইএমওর মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিনগুয়েজ গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, ইরান আর ওমানসহ এ অঞ্চলের অন্য সব উপকূলীয় দেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও সমুদ্র চলাচল শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্তদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ভিত্তিতে কার্যক্রমটি চালানো হবে।

আরও পড়ুন

আর্সেনিও ডোমিনগুয়েজ আরও বলেন, ‘এ কার্যক্রম এগিয়ে নিতে আমরা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিশ্চিত করেছি। সেই সঙ্গে নিরাপদে নৌ চলাচলের পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে দেখেছি।’

ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তেহরানের পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলে শুরু হয় সর্বাত্মক যুদ্ধ। যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। আটকে পড়ে অনেক বাণিজ্যিক জাহাজ।

যুদ্ধ বন্ধ এবং চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা গত সপ্তাহে সমঝোতা স্মারকে সই করেন। এর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বেড়ে গেছে।

আরও পড়ুন

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে, গত সোমবার এক দিনে অন্তত ৩৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর এক দিনে এত জাহাজের হরমুজ পাড়ি দেওয়ার ঘটনা খুব একটা দেখা যায়নি।

ওমানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নাবিকদের সরিয়ে নিতে আইএমওর কার্যক্রমটি নিয়ে কয়েক মাস ধরে আলোচনা চলেছে। এখন এটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আবারও নির্বিঘ্ন করতে ফ্রান্স আর যুক্তরাজ্যের নেওয়া আন্তর্জাতিক উদ্যোগে অংশ নেবে বলে গতকাল ঘোষণা দিয়েছে ডেনমার্ক।

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন