ইয়েমেনের তাইজ দখলে তীব্র লড়াই

চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন যোদ্ধা নিয়োগ দিতে সমাবেশের আয়োজন করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। সেখানে বন্দুক উঁচিয়ে রয়েছেন গোষ্ঠীটির অনুগত যোদ্ধারা। বুধবার দেশটির রাজধানী সানায়ছবি: এএফপি

ইয়েমেনে সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যে কয়েকটি এলাকায় লড়াই চলছে। সবচেয়ে তীব্র সংঘর্ষ হচ্ছে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজ শহরে। একই সঙ্গে বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশের এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে দুই পক্ষ। এর মধ্যে হুতিদের সম্প্রতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া মোখ বন্দর নগরী অন্যতম।

সরকারি বাহিনী দাবি করেছে, তাইজে তাদের সেনারা কিছু এলাকায় এগিয়ে গেছে। অন্যদিকে হুতিরাও নতুন করে গ্রামীণ এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করছে।

তাইজের আল-শামায়াতাইন, আল-মাআফের এবং দক্ষিণ ও পশ্চিমের গ্রামীণ এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই চলছে। কয়েক বছর তুলনামূলক শান্ত থাকা কিছু এলাকাতেও হুতিরা এগোনোর চেষ্টা করছে। এর মধ্য দিয়ে তারা নতুন সরবরাহপথ চালুর চেষ্টা করছে। কারণ, আল-কাদাহা ও আল-ওয়াজিইয়ার দিকে তাদের যোগাযোগপথ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সরকারি বাহিনী।

সরকারি বাহিনী আল-ওয়াজিইয়া ও বাব আল-মানদেবমুখী কাহবুব পাহাড়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পশ্চিম দিকেও লড়াই চলছে। হুতিরা আল-ধাবাবের দিকে এগোতে চাইছে। এই এলাকা থেকে এডেন-তাইজ সড়ক নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বেসামরিক মানুষ, ব্যবসায়ী ও ত্রাণবাহী গাড়ির জন্য সড়কটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারি বাহিনীর দাবি, সম্প্রতি শুরু হওয়া ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানে তারা ২ হাজার ১০৩টি লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান চালিয়েছে। এতে ১ হাজার ৮৬০ হুতি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

গত মাসে হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূলের কিছু অংশ দখল করেছিল। এর মধ্যে বাব আল-মানদেবের কাছের এলাকাও ছিল। এরপর গত রোববার ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি হুতি-নিয়ন্ত্রিত এলাকা পুনর্দখলে নতুন অভিযানের ঘোষণা দেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার আল-জাজিরার লাইভ আপডেটে ইয়েমেনের লোহিত সাগরের তীরবর্তী হোদেইদা বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরণের কথা বলা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি এ তথ্য জানালেও বিস্ফোরণের কারণ বা ক্ষয়ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি।

সৌদি আরবে হুতিদের হামলা

হুতিরা গতকাল সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি করেছে। এতে সেখানে উড়োজাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এর আগে রিয়াদ ও আবহার বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন বিদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

হুতিরা সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দরের পাশাপাশি দেশটির জ্বালানির মতো অবকাঠামোতেও হামলা চালাচ্ছে। সম্প্রতি তারা সৌদি আকাশসীমাকে ‘অনিরাপদ’ ঘোষণা করে উড়োজাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছে।

নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুসতাই আল-জাজিরাকে বলেন, সৌদি আকাশসীমাকে অনিরাপদ ঘোষণা করা হুতিদের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। তাঁর মতে, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা সীমিত হলেও হুতিদের কাছে সীমান্তের কাছাকাছি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে।

সৌদিকে সহায়তা দিতে পারে সিরিয়া

ইয়েমেনের হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে প্রতিবেশী দেশ সিরিয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা ও সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, সৌদি আরবের অনুরোধে সিরিয়া প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দিতে পারে। এর মধ্যে সৌদি আরবকে হুতি গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে রক্ষায় সহায়তা অথবা সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়ও রয়েছে।