আরব আমিরাতে সামরিক সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য ক্রমেই হুমকি হয়ে উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন অভিযোগ বেশ পুরোনো। সম্প্রতি সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে আক্রমণ বাড়িয়েছে হুতিরা। এর জেরে রক্ষণাত্মক সামরিক নীতির অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সামরিক সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ডেস্ট্রয়ার ও যুদ্ধবিমান রয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে আজ বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মোতায়েন করা ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস কোল বোম্বিং এবং পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান সংযুক্ত আরব আমিরাতের নৌবাহিনীকে সহায়তা করবে। এর মধ্য দিয়ে দেশটি ইয়েমেন থেকে হুতি বিদ্রোহীদের হুমকি মোকাবিলায় আরও সক্ষম হয়ে উঠবে। হামলার আগেই সতর্ক হতে পারবে।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল–নাহিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। আবুধাবির মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ফোনালাপে দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানপন্থী হুতিদের হুমকি মোকাবিলায় পরস্পরের পাশে থাকার বিষয়ে কথা বলেছেন। এরপরই দেশটিতে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের কথা জানানো হয়েছে।
ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে সৌদি জোটের অন্যতম অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাত। সর্বশেষ গত সোমবার হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে দেশটি। এ নিয়ে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনবার হুতির ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। গত ১৭ জানুয়ারি আবুধাবি বিমানবন্দর ও জ্বালানি তেলের স্থাপনা লক্ষ্য করে পরিচালিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন তিন বিদেশি শ্রমিক। সোমবারের হামলার সময় আবুধাবি সফর করছিলেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ।
এদিকে আজ বুধবার আল–জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি জোটের অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সহায়তা পেয়ে আসছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র জানিয়ে দেয়, হুতিদের বিরুদ্ধে ‘আক্রমণাত্মক’ কাজে ব্যবহার উপযোগী সামরিক সহায়তা প্রদানে বিরত থাকবে ওয়াশিংটন। এর পরিবর্তে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ জোটের সদস্যদেশগুলোকে ‘রক্ষণাত্মক নীতি’ বাস্তবায়নে সামরিক সহায়তা দেওয়া হবে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত মাসে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বছরের পর বছর ধরে চলে আসা হুতিদের ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের’ স্বীকৃতির বিষয়ে নতুন করে ভাবছেন তিনি। ওই সময় বৈশ্বিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছিল, বাইডেনের এমন ভাবনার ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত ও ইতিহাসের অন্যতম মানবিক সংকটে থাকা ইয়েমেনে মানবিক সহায়তার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর মধ্য দিয়ে হুতিদের নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের নীতিতে পরিবর্তন আসছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। পেন্টাগনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা রক্ষায় দীর্ঘদিনের মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। হুতির ঝুঁকি মোকাবিলায় সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করার মধ্য দিয়ে আবুধাবিকে স্পষ্টভাবে এ বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কিংস কলেজ লন্ডনের স্কুল অব সিকিউরিটিজ স্টাডিজের শিক্ষক আন্দ্রেজ ক্রেইগ আল–জাজিরাকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাতে জড়ানোর কোনো আগ্রহ নেই যুক্তরাষ্ট্রের। হুতিদের ড্রোন কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে রক্ষার চেয়ে এ অঞ্চলে নিজেদের সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ওয়াশিংটনের বড় ভাবনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এ জন্যই আবুধাবিতে সহায়তার নামে সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করছে পেন্টাগন।