এআইয়ের ‘অতি-বুদ্ধিমত্তা’ আসবে আরও দেরিতে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চূড়ান্ত বিকাশ কি শেষ পর্যন্ত মানবসভ্যতার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে? এমন আশঙ্কার কথা অনেক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছে। এর জন্য সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছিলেন শীর্ষ এআই বিশেষজ্ঞ মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের সাবেক কর্মী ড্যানিয়েল কোকোটাজলো। কিন্তু তিনি এখন তাঁর দেওয়া তত্ত্বের সময়সীমা সংশোধন করেছেন। তিনি বলছেন, এআই সিস্টেমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোডিং করা এবং এর মাধ্যমে নিজেদের আরও শক্তিশালী বা অতি-বুদ্ধিমান (সুপার ইন্টেলিজেন্স) হিসেবে গড়ে তোলার যে সক্ষমতা, তা অর্জন করতে তাঁর প্রাথমিক পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি সময় নেবে।
ড্যানিয়েল কোকোটাজলো গত এপ্রিলে ‘এআই ২০২৭’ শীর্ষক একটি সময়সীমা প্রকাশ করে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন। সেই তত্ত্বে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে অনিয়ন্ত্রিত এআই উন্নয়নের ফলে এমন এক ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ তৈরি হবে, যা বিশ্বনেতাদের বোকা বানিয়ে শেষ পর্যন্ত মানবজাতির জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে। সাম্প্রতিক হালনাগাদ তথ্যে কোকোটাজলো ও তাঁর সহ-লেখকেরা বলছেন, ২০২৭ সালের বদলে ২০৩০-এর দশকের শুরুর দিকে এটি ঘটার সম্ভাবনা বেশি। এই নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩৪ সালকে সুপার ইন্টেলিজেন্সের নতুন দিগন্ত হিসেবে ধরা হয়েছে।
কোকোটাজলোর এই পূর্বাভাস যেমন প্রশংসিত হয়েছে, তেমনি কঠোর সমালোচনার মুখেও পড়েছে। গত মে মাসে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও এ বিষয়ে কথা বলেন। এ ছাড়া নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির নিউরোসায়েন্সের ইমেরিটাস অধ্যাপক গ্যারি মার্কাস এই তত্ত্বকে স্রেফ একটি ‘কাল্পনিক কাজ’ হিসেবে অভিহিত করেন।
মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের সমকক্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স’ (এজিআই) কবে নাগাদ আসবে, তার সময়সীমা নির্ধারণ এখন এআই নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা গোষ্ঠীগুলোর কাছে একটি নিয়মিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটি বাজারে আসার পর এই সময়সীমার পূর্বাভাস আরও ত্বরান্বিত হয়। অনেক বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তা এখন ধারণা করছেন, আগামী কয়েক দশক বা এমনকি কয়েক বছরের মধ্যেই এজিআই দেখা যেতে পারে।
কোকোটাজলো এবং তাঁর দল ২০২৭ সালকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ‘পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় কোডিং’ সক্ষমতা অর্জনের বছর হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। যদিও তাঁরা একে কেবল একটি ‘সম্ভাব্য’ ধারণা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে এখন এজিআইয়ের দ্রুত আসার বিষয়ে সংশয় দেখা দিচ্ছে।
ইন্টারন্যাশনাল এআই সেফটি রিপোর্টের অন্যতম লেখক এবং এআই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ম্যালকম মারে বলেন, ‘গত এক বছরে অনেকেই তাঁদের দেওয়া সময়সীমা আরও পিছিয়ে দিয়েছেন। কারণ, তাঁরা বুঝতে পারছেন যে এআইয়ের কর্মক্ষমতা আসলে কতটা অসামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে।’