কটূক্তির ঘটনায় তোপের মুখের অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর

অস্ট্রেলিয়ার কট্টর ডানপন্থী দল ওয়ান নেশনের নেত্রী ও সিনেটর পলিন হ্যানসনফাইল ছবি: রয়টার্স

অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য এবং প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজের প্রয়াত মাকে কটূক্তির ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন দেশটির কট্টর ডানপন্থী দল ওয়ান নেশনের নেত্রী সিনেটর পলিন হ্যানসন।

চাপের মুখে গতকাল মঙ্গলবার দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। তবে ‘কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে দুঃখিত’—এমন বক্তব্য দেওয়ায় তাঁর ক্ষমা চাওয়াকে ‘শর্তসাপেক্ষ’ বলে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে হ্যানসনের একটি পুরোনো পডকাস্ট সাক্ষাৎকার। সেখানে অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের ‘পৃথিবীর সবচেয়ে আদিম জাতি’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। মানবসভ্যতার ইতিহাসে আদিবাসীদের ঐতিহাসিক অর্জন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

পুরোনো ওই সাক্ষাৎকার নতুন করে প্রকাশ্যে আসার পর অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা হ্যানসনের মন্তব্যের সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যকে আপত্তিকর ও অবমাননাকর বলে আখ্যা দেন তাঁরা।

ক্যানবেরায় গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন হ্যানসন। আদিবাসীদের নিয়ে তাঁর মন্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই শব্দ ব্যবহারে কেউ আঘাত বা কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। কাউকে অপমান বা ছোট করার উদ্দেশ্যে ওই মন্তব্য করেননি বলে দাবি করেছেন তিনি।

হ্যানসনের এই বক্তব্যের পরও বিতর্ক থামেনি। কারণ, তিনি সরাসরি নিজের মন্তব্যকে ভুল বলে স্বীকার করেননি। বরং তাঁর বক্তব্যের কারণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে দুঃখ প্রকাশের কথা বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজের প্রয়াত মাকেও অতীতে কটূক্তি করেছিলেন হ্যানসন। আলবানিজের মা দীর্ঘদিন সরকারি সামাজিক আবাসনে বসবাস করেছিলেন। বিষয়টি নিয়েই তাঁর করা পুরোনো মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় আসে।

এ প্রসঙ্গেও হ্যানসনকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকেরা। জবাবে তিনি বলেন, তাঁর কথায় প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ কষ্ট পেয়ে থাকলে সে জন্যও তিনি দুঃখিত।

হ্যানসনের বক্তব্যকে ‘শর্তসাপেক্ষ ক্ষমা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি নিউজ। তাঁর বক্তব্যের সমালোচকেরা বলছেন, সরাসরি নিজের ভুল স্বীকার না করে ‘কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে দুঃখিত’ বলা দায় এড়িয়ে যাওয়ারই কৌশল।

ফলে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়ার পরও হ্যানসনের মন্তব্য ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক ও সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।