ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ও মাদুরোকে তুলে নেওয়ার নিন্দায় রাশিয়াসহ কয়েকটি দেশ

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোছবি: রয়টার্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা ও দেশটির নেতা প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর বিরুদ্ধে ‘বড় ধরনের হামলা’ চালিয়েছে।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই অভিযানের পর মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে ‘আটক করে বিমানে করে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এ অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় পরিচালনা করা হয়েছে।

আজ শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়, যা নিয়ে ভেনেজুয়েলার জনগণ কয়েক সপ্তাহ ধরে আশঙ্কায় ছিল।

এর আগে ফক্স নিউজ, সিবিএস নিউজসহ মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে হামলা চালিয়েছে।

প্রাথমিক এক বিবৃতিতে মাদুরো এটিকে ‘অত্যন্ত গুরুতর সামরিক আগ্রাসন’ বলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।

মাদুরো সরকার বলেছে, ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ড ও জনগণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সরকারের চালানো সামরিক আগ্রাসনকে ভেনেজুয়েলা ‘প্রত্যাখ্যান’ করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সরকার।

রাশিয়া

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
ছবি: রয়টার্স

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের চালানো ‘সশস্ত্র আগ্রাসনের’ ঘটনায় মস্কো গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তারা এ ঘটনার নিন্দা জানায়।

এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি বলেছে, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও উত্তেজনা বৃদ্ধি ঠেকানো এবং সংলাপের মাধ্যমে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ খোঁজার ওপর মনোযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘বাইরে থেকে কোনো ধ্বংসাত্মক, সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়া ভেনেজুয়েলার জনগণকে তাদের নিজস্ব ভাগ্য নির্ধারণের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’

এতে আরও বলা হয়, ‘আমরা ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি সংহতি এবং দেশের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশটির নেতৃত্বের নীতির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছি।’

কিউবা

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ ক্যানেল বারমুদেজ
ছবি: রয়টার্স

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ ক্যানেল বারমুদেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে কড়া ভাষায় ভেনেজুয়েলায় হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ‘অপরাধমূলক হামলা’ চালানোর জন্য ওয়াশিংটনকে অভিযুক্ত করে জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।

এক্স–এ দেওয়া এক পোস্টে দিয়াজ ক্যানেল বলেন, কিউবার তথাকথিত ‘শান্তি অঞ্চলের’ ওপর ‘বর্বর হামলা’ চালানো হচ্ছে। মার্কিন এই পদক্ষেপকে তিনি শুধু ভেনেজুয়েলার জনগণের বিরুদ্ধে নয়, বরং আরও বিস্তৃতভাবে ‘আওয়ার আমেরিকার’ বিরুদ্ধে পরিচালিত ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ বলে অভিহিত করেছেন।

‘মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু, আমরা করব জয়’—এই বিপ্লবী স্লোগানটি দিয়ে তিনি বিবৃতিটি শেষ করেন।

সারা বিশ্বে কিউবার বিভিন্ন দূতাবাস থেকে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে হাভানা বলেছে, দেশটি ‘ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার নিন্দা জানাচ্ছে’।

ইরান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি
ছবি: রয়টার্স

এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা ‘ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা এবং দেশটির জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা চরমভাবে লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে’।

কলম্বিয়া

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো
ছবি: রয়টার্স

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো লিখেছেন, ‘পুরো বিশ্বকে সতর্ক করছি, তারা (যুক্তরাষ্ট্র) ভেনেজুয়েলায় হামলা করেছে।’

পেত্রো আরও বলেন, ‘কলম্বিয়া প্রজাতন্ত্র তার এই বিশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করছে—অবশ্যই যেকোনো ধরনের সশস্ত্র সংঘাতের ওপর শান্তি, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং জীবন ও মানবমর্যাদার সুরক্ষা প্রাধান্য পাবে।’

স্পেন

স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস বুয়েনো
ছবি: রয়টার্স

স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলছে, মাদ্রিদ ভেনেজুয়েলায় উত্তেজনা প্রশমন, সংযম এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটি ভেনেজুয়েলায় একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে পেতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার প্রস্তাবও দিয়েছে।