বিশ্বে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় ফল আনারস। এর উৎপত্তি দক্ষিণ আমেরিকায়। মধ্য আমেরিকা, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে, ক্যারিবীয় অঞ্চল ও মেক্সিকোতে প্রথম এর চাষ শুরু হয়। উৎপাদনকারী দেশগুলোতে প্রায় ৭০ শতাংশ আনারস টাটকা অবস্থায় খাওয়া হয়। এ ছাড়া মাংসজাতীয় খাবারের সঙ্গেও এ ফল খাওয়া হয়ে থাকে। সাধারণত উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলগুলোতে আনারসের ফলন ভালো হয়।
বিশ্বে কোন কোন দেশে আনারসের উৎপাদন সবচেয়ে বেশি হয়, তার একটি তালিকা করেছে ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ। ২০২২ সালের তথ্য–উপাত্তের ভিত্তিতে তালিকাটি করেছে তারা।
তালিকা অনুযায়ী বিশ্বে আনারস উৎপাদনে শীর্ষ ১০ দেশ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
আনারস উৎপাদনের দিক থেকে বিশ্বে কলম্বিয়ার অবস্থান দশম। দেশটিতে বছরে ৯ লাখ টনের বেশি আনারস উৎপাদিত হয়।
গ্রীষ্মমণ্ডলীয় কৃষিব্যবস্থার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে কলম্বিয়া বৈশ্বিকভাবে আনারস উৎপাদনে নিজের অবস্থান শক্তপোক্ত করেছে।
আনারস উৎপাদনের দিক থেকে বিশ্বে মেক্সিকো নবম অবস্থানে। দেশটিতে বছরে ১২ লাখ টনের বেশি আনারস উৎপাদিত হয়।
মেক্সিকোর মূলত উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলগুলোতে আনারস চাষ বেশি হয়। এটি দেশের বাজারে জোগান দেওয়ার পাশাপাশি মেক্সিকোর রপ্তানিভিত্তিক কৃষিবাজারেও বড় ভূমিকা রাখে।
বিশ্বে আনারস উৎপাদনে অষ্টম স্থানে নাইজেরিয়া। অবশ্য আফ্রিকা মহাদেশে আনারস উৎপাদনের দিক থেকে দেশটির অবস্থান শীর্ষে।
নাইজেরিয়ায় বছরে ১৬ লাখ টনের বেশি আনারস উৎপাদিত হয়। আনারস চাষের উপযোগী জলবায়ু ও উর্বর মাটি থাকায় নাইজেরিয়ায় ব্যাপকভাবে এ ফলের চাষ হয়।
তালিকায় থাইল্যান্ডের অবস্থান সপ্তম। দেশটিতে বছরে ১৭ লাখ টনের বেশি আনারস উৎপাদিত হয়।
আনারস থাইল্যান্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। দেশটিতে আনারসকে টাটকা ফল হিসেবে খাওয়ার পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাতও করা হয়।
বিশ্বে আনারস উৎপাদনের দিক থেকে ভারতের অবস্থান ষষ্ঠ। দেশটি বছরে ১৮ লাখ টনের বেশি আনারস উৎপাদন করে।
ভারতের উষ্ণ ও আর্দ্র অঞ্চলে মূলত আনারস চাষ করা হয়। আনারস চাষ স্থানীয় বাজারে সরবরাহের পাশাপাশি ভারতের কৃষি খাতেও বৈচিত্র্য বাড়ায়।
আনারস উৎপাদনে চীনের অবস্থান পঞ্চম। দেশটি বছরে প্রায় ২০ লাখ টন আনারস উৎপাদন করে। দেশটির উষ্ণ অঞ্চলে বড় পরিসরে এটির চাষ হয়।
বাড়তি দেশীয় চাহিদা এবং উন্নত চাষপদ্ধতির কারণে চীনে আনারসের উৎপাদন ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছে।
ব্রাজিল বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম আনারস উৎপাদনকারী দেশ। দেশটিতে এ ফলের বার্ষিক উৎপাদন ২৩ লাখ টনের বেশি। দেশের মোট আনারস চাষের প্রায় ৭৬ শতাংশ দক্ষিণ ও উত্তর অঞ্চলে হয়।
ব্রাজিলে সবচেয়ে বেশি চাষ হওয়া আনারসের জাত হলো পেরোলা। মোট চাষের ৮০ ভাগই এ জাতের আনারস। এর বাইরে প্রায় সব এলাকায় স্মুথ কায়েন জাতের আনারস চাষ করা হয়।
ব্রাজিলে আনারস উৎপাদনের প্রায় পুরোটাই দেশের ভেতরে ব্যবহৃত হয়। দেশটি থেকে রপ্তানি করা হয় মাত্র প্রায় ১ শতাংশ আনারস।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম আনারস উৎপাদনকারী দেশ কোস্টারিকা। দেশটিতে বছরে ২৯ লাখ টনের বেশি আনারস উৎপাদিত হয়।
কোস্টারিকায় প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর জায়গাজুড়ে আনারস চাষ হয়। আনারস চাষকে কেন্দ্র করে সেখানকার প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
কোস্টারিকায় মূলত দুটি জায়গায় আনারসের চাষ বেশি হয়। একটি হলো হুয়েটাস নর্টে এলাকা। মোট চাষের এলাকার ৪৯ শতাংশের অবস্থান এখানেই। আর আটলান্টিক হুয়েটার এলাকায় ২৯ শতাংশ চাষ হয়।
জনপ্রিয় আনারসের জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে রেড স্প্যানিশ, কুইন, স্মুথ কায়েন, এমডি টু এবং আবাক্সি। আনারস কোস্টারিকার অন্যতম প্রধান কৃষিজাত রপ্তানি পণ্য।
ফিলিপাইন বিশ্বে আনারস উৎপাদনে দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। দেশটি বছরে প্রায় ২৯ লাখ ১০ হাজার টন আনারস উৎপাদন করে। সেখানকার প্রায় ৪০ হাজার হেক্টরের বেশি জায়গাজুড়ে আনারসের বাগান বিস্তৃত।
ফিলিপাইনে মূলত মিন্দানাও ও লুজন অঞ্চলে আনারসের চাষ বেশি হয়। জনপ্রিয় জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে কায়েন, রেড স্প্যানিশ ও ফরমোসা (কুইন)। দেশীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি তাজা আনারস প্রধানত দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে রপ্তানি করা হয়। আর প্রক্রিয়াজাত আনারস রপ্তানি করা হয় জাপান, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে।
বিশ্বে আনারস উৎপাদনে শীর্ষ অবস্থানে আছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটিতে বছরে ৩২ লাখ টনের বেশি আনারস উৎপাদিত হয়। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে এ ফলের চাষ হয়।
আনারস চাষ ইন্দোনেশিয়ার গ্রামীণ মানুষের জীবিকার এক গুরুত্বপূর্ণ উৎস। দেশের মোট কৃষিজ উৎপাদনেও এটি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।
ইন্দোনেশিয়ায় মূলত লামপুং ও পশ্চিম জাভা প্রদেশে আনারসের চাষ বেশি হয়। এসব এলাকার আবহাওয়া ও মাটি আনারস চাষের জন্য বেশি উপযোগী। দেশটিতে জনপ্রিয় আনারসের জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে কুইন ও স্মুথ কায়েন।