একনজর: বিশ্বে যা ঘটল সারা দিন
আজ ২ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার। আজও দিনভর বিশ্বে আলোচিত ছিল ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের খবর। খবরগুলো একনজরে দেখে নেওয়া যাক।
গাজায় ইসরায়েলের ব্যাপক বোমা হামলা অব্যাহত আছে। ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে গত মঙ্গলবার ও বুধবার ইসরায়েলের চালানো বোমা হামলায় অন্তত ১৯৫ জন নিহত হয়েছেন। এখনো নিখোঁজ আছেন ১২০ জন। গাজা উপত্যকা সরকারের গণমাধ্যম শাখা থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওই হামলায় আহত হয়েছেন ৭৭৭ ফিলিস্তিনি।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় বলেছে, গাজার জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলার ঘটনা যুদ্ধাপরাধ বলে বিবেচিত হতে পারে। জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলা হয়েছে।
এদিকে রাফাহ ক্রসিং খুলে দেওয়ার পর চার শতাধিক ব্যক্তি ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা ত্যাগ করেছেন। ফিলিস্তিনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত রাফাহ ক্রসিং পার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৩৫ জন বিদেশি পাসপোর্টধারী রয়েছেন। এ ছাড়া ৭৬ জন আহত ফিলিস্তিনি রাফাহ ক্রসিং পার হয়েছেন। গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর গতকাল বুধবার প্রথমবারের মতো বেসামরিক ব্যক্তিদের জন্য রাফাহ ক্রসিং খুলে দেয় মিসর।
গাজায় চলমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল থেকে ‘অবিলম্বে’ নিজেদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিয়েছে জর্ডান। দেশটির অভিযোগ, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল ‘নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয়’ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলকেও জর্ডান থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নিতে বলা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় সামরিক হামলা অব্যাহত রাখার জেরে ইসরায়েল থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে লাতিন আমেরিকার দুই দেশ কলম্বিয়া ও চিলি। এর আগে গত মঙ্গলবার ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয় লাতিন আমেরিকার আরেক দেশ বলিভিয়া।
গাজায় যখন এমন পরিস্থিতি চলছে তখন বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জরুরি ভিত্তিতে আবেদন জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেডক্রস (আইসিআরসি)। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে বুধবার প্রচারণার অংশ হিসেবে বক্তৃতা দেওয়ার সময় বাধার মুখে পড়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এক ইহুদি নারী তাঁকে বক্তব্যের মাঝপথে থামিয়ে দেন এবং গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবি জানান। ওই নারী বলেন, ‘মাননীয় প্রেসিডেন্ট, আপনি ইহুদিদের প্রতি যত্নশীল। একজন র্যাবাই (ইহুদি ধর্মীয় নেতা) হিসেবে আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, এখনই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করুন।’
এদিকে ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের নিউইয়র্ক দপ্তরের পরিচালক ক্রেইগ মখিবার। তিনি বলছেন, গাজায় ‘গণহত্যার অকাট্য প্রমাণ’ রয়েছে।
গত সপ্তাহে দেওয়া পদত্যাগপত্রে জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা লিখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের বেশির ভাগ সরকার এই নৃশংস হামলায় সম্পূর্ণভাবে জড়িত।’