শেখ রশিদ আহমেদ আরও বলেন, এখন বিরোধীরা বুঝবে, কখন তাদের জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। যারা আমাদের ‘নির্বাচিত’ মনে করত, তারা এখন চুপ হয়ে যাবে।

রশিদ জানান, চার দিন ধরে তাঁর শহর রাওয়ালপিন্ডিতে নির্বাচনী প্রচার চলছে। তিনি বলেন, ‘শিগগির আমাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশে স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে কোনো ভোটিং মেশিন ব্যবহার হবে না।’

প্রবাসে থাকা পাকিস্তানিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রশিদ বলেন, ইমরান খান যেন এবার দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পান। তিনি জানান, অনাস্থা প্রস্তাবে ডেপুটি স্পিকারের রায়ের বিরুদ্ধে যাবেন না সুপ্রিম কোর্ট।

এক্সপ্রেস নিউজকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে রশিদ আহমেদ আরও বলেন, চার দিন ধরে নতুন নির্বাচনের জন্য আলোচনা চলছিল। সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এ প্রক্রিয়ায় বাধা হয়েছিলেন। তবে জেইউআই-এফের প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান এবং পিএমএল-এনের প্রেসিডেন্ট শাহবাজ শরিফ এ জন্য প্রস্তুত ছিলেন। তবে তাঁরা পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার জন্য আরও সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু দেশে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি থাকায় তা সম্ভব হয়নি।

রশিদ আহমেদ বলেন, ‘আমি ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি আগামী ১৫ দিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।’ সাধারণ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান রশিদ।

পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে প্রধানমন্ত্রী ইমরানের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাবকে ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যায়িত করে রোববার তা খারিজ করে দেন ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান সুরি। আর ইমরানের পরামর্শ মেনে পার্লামেন্ট ভেঙে দেন প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। এখন স্বাভাবিকভাবেই আগাম নির্বাচনের জন্য দলগুলোর প্রস্তুতি নেওয়ার কথা। সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে বলে জানিয়েও দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ফারুক হাবিব।

তবে বিরোধীরা ডেপুটি স্পিকার সুরির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁরা আবেদনে উল্টো ডেপুটি স্পিকারের পদক্ষেপকে ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যায়িত করে এর প্রতিকার চেয়েছেন। আজ সোমবার এ ব্যাপারে শুনানি হওয়ার কথা। রোববার সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) হয়ে একটি নোটিশ করেন। সর্বোচ্চ আদালত বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর তাঁরা নজর রাখছেন।

পাকিস্তান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন