বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিলাওয়ালের নানা সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো ৩৫ বছর ৫ মাস ১০ দিন বয়সে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। এরপর সর্বকনিষ্ঠ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া হিনা রব্বানি খার বয়স ছিল ৩৩ বছর ৮ মাস ১ দিন। বর্তমান মন্ত্রিসভায় হিনাকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পাচ্ছেন বিলাওয়াল।

বিলাওয়াল প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেনজীর ভুট্টো ও সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির ছেলে এবং প্রয়াত আরেক প্রধানমন্ত্রী ও পিপিপির প্রতিষ্ঠাতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর নাতি। জুলফিকার আলী ১৯৬০–এর দশকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০০৭ সালে আততায়ীর হাতে বেনজীর নিহত হওয়ার সময় বিলাওয়াল ১৯ বছরের তরুণ। তখন তিনি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্র। ওই বয়সেই তিনি দলে যোগ দেন।

শপথ অনুষ্ঠানের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন বিলাওয়াল। নবনিযুক্ত মন্ত্রীকে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়ে ব্রিফ করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

এরপর ইসলামাবাদে চীনের দূতাবাসে যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিনা রব্বানি খার। করাচিতে চীনের নাগরিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন বিলাওয়াল। তিনি দূতাবাস কর্মকর্তাদের বলেন, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক কয়েক প্রজন্ম ধরে বন্ধুত্বের ধারাবাহিকতা।
বিলাওয়াল বলেন, পাকিস্তান ও চীনের বন্ধুত্বের ভিত্তির ওপর আঘাত হানতে ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের অসৎ উদ্দেশ্য এই বন্ধুত্বকে নষ্ট করতে পারবে না।

গত মঙ্গলবার করাচি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় চীনের তিন নাগরিকসহ চারজন নিহত হন। ওই ঘটনায় আহত হন আরও চারজন। বিচ্ছিন্নতাবাদী নিষিদ্ধ ঘোষিত বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) হামলার দায় স্বীকার করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ায় বিলাওয়ালকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। টুইটে তিনি লেখেন, ‘সরকারি দায়িত্বের জীবন শুরু করায় বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিকে অভিনন্দন। তিনি আমাদের পররাষ্ট্রনীতিতে অসাধারণ উৎকর্ষ আনবেন এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করবেন, এ ব্যাপারে আমি আত্মবিশ্বাসী। আমি তাঁর সর্বোচ্চ মঙ্গল কামনা করি এবং তাঁর সঙ্গে কাজ করতে মুখিয়ে আছি।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় বিলাওয়ালকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তাঁর বোন বাখতাওয়ার ভুট্টো জারদারিও। টুইটে তিনি বলেন, এর চেয়ে গর্বের কিছু হয় না।

জাতীয় পরিষদে বিরোধী জোটের আনা অনাস্থা প্রস্তাবে হেরে ৯ এপ্রিল ক্ষমতাচ্যুত হয় ইমরান খানের সরকার। এরপর জাতীয় সরকারের আদলে সরকার গঠন করে বিরোধী দলগুলো। প্রধানমন্ত্রী হন পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) সভাপতি শাহবাজ শরিফ।

পাকিস্তান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন